চিকিৎসার জন্য আমাদের থাইল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি ।

in Incredible India18 hours ago

IMG_4232.png

আমার অসুস্থতার জন্য সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে, দেশের বাইরে নিয়ে যাবে আমাকে। শুরুতে কোন দেশে নিয়ে সবার মাঝে দ্বিমত শুরু হয়। কেউ বলে সিঙ্গাপুর, আবার কেউ মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের নাম বলে। এর সাথে আরো একটা বিষয় জড়িত ছিলো আর সেটা হলো খরচ।

কারন যদি কোন সার্জারী করতে হয় তাহলে সেটা অনেক ব্যায়বহুল হবে দেশের বাইরে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় প্রয়োজনে জায়গা বিক্রি হলেও চিকিৎসার খরচ জোটাবে। কিন্তু জায়গা বিক্রি করবো বলাটা মুখে যতটা সহজ সেটা দ্রুত কার্যকর করা ততটাই কঠিন।
এর মাঝে আমার হাসবেন্ড তার ছুটি নিয়েও চিন্তায় ছিলো কিছুটা। কারন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংকারদের দেশের বাইরে যেতে হলে NOC পেতে হবে।

যাই হোক এর মাঝেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে ব্যাংকক যাবো আমরা। সেখানে হয় আমরা বামরুনগ্রাড হসপিটাল কিংবা ব্যাংকক হসপিটালে চিকিৎসা করবো।
দুটো কারনে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রথমত চিকিৎসার মান প্রায় কাছাকাছি হলেও ব্যাংকক হসপিটালের চিকিৎসার খরচ বামরুনগ্রাডের তুলনায় অনেকটাই কম এছাড়া আরো একটা কারন হলো আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি হসপিটালের টেস্ট এর রিপোর্ট ওরা একসেপ্ট করে।

বিশেষ করে আমি স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসা নিতেছিলাম শুরু থেকেই। আর ওরা স্কয়ারের রিপোর্ট একসেপ্ট করে। এটা আমাদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট ছিলো।

IMG_4229.png

আমার বড় ছেলের পরীক্ষা ও হাসবেন্ড তার সময়ের অভাবে ব্যাংকক যাওয়ার বিষয়ে কিছুই করতে পারে নাই। ভিসা টিকেট এইসব বিষয়ের পুরো দায়িত্ব আমার ছোট ছেলে নিজের ওপর তুলে নেয়। যা যা করা প্রয়োজন ও-ই করে। যা আমরা কেউই ওর কাছ থেকে আশা করি নাই।
কারন ছোট থেকেই বন্ধু, রান্না আর ল্যাপটপ ছাড়া আর কোন কিছুতে তেমন কোন আগ্রহ দেখি নাই। আসলে সময়ের প্রয়োজনেই হয়তো মানুষ দায়িত্ববান হয়ে উঠে।

আমরা চাচ্ছিলাম ভিসাটা যেন দ্রুত হয়ে যায় কিন্তু ভিসা পেতে কিছুটা সময় লেগে যায়। ওইদিকে ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত আমার হাসবেন্ড তার ব্যাংকে NOC এর জন্য আবেদন করতে পারতেছিলেন না। আরও একটা সমস্যা হলো, আগে টিকেট কিনলে দাম অনেক কমে পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা এই সুযোগ পাই নাই।

যাই হোক, ভিসা পাওয়ার পরে আর লেট করি নাই। টিকেটের সাথে সাথে ব্যাংকক হসপিটালের ডাক্তারের সাথে হোটেল বুকিং এবং আ্যপয়েন্টমেন্টও করে ফেলে ছেলে।

ওইদিকে আমার হাসবেন্ড তার NOC পাওয়া নিয়ে কিছুটা ভয়ে ছিলো কারন কোভিডের পর থেকেই ব্যাংকারদের দেশের বাইরে যাওয়ার উপর বেশ বিধিনিষেধ জারী করা হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যদি পারমিশন না পায় তাহলে আমিই দুই ছেলে সহকারে চলে যাবো।

ওইদিকে ছেলেদেরও মাত্রই ক্লাস শুরু হয়েছে। তাই ওদেরকে মানা করেছিলাম আমি। বলেছিলাম এমন হলো কাউকেই আমার সাথে যেতে হবে না। এটা বলার সাহস পেয়েছিলাম কারন তখন পর্যন্ত অসুখের তেমন কোন লক্ষনই ছিলো না । অবশ্য যদি সত্যিই এমন করতাম তাহলে সেটা যে কত বড়ো ভুল সিদ্ধান্ত হতো সেটা পরে বুঝতে পেরেছিলাম।

IMG_4231.png

কিন্তু আমার দুই ছেলে আর হাসবেন্ড আমার কথ উড়িয়ে দিয়ে বলে যে পড়াশোনা পরেও করা যাবে আগে তোমার চিকিৎসা। সৌভাগ্যবশত আমার হাসবেন্ডও দ্রুত তার ব্যাংক থেকে NOC পেয়ে যায়। ফলে আমাদের থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে আর কোন বাঁধাই থাকে না।

কিন্তু তারপরও একটা সমস্যা থেকেই যায় আর সেটা হলো আমরা দুই বিড়াল। ওদেরকে ফস্টারে রাখা যেত কিন্তু আমার ছেলেরা রাজী হয় না। কারন অপরিচিত পরিবেশে ওরা কান্নাকাটি করবে। ওদের কথা হলো বাসায় কম খেয়ে থাকলেও ওরা ভালো থাকবে। ওদের ফস্টারের বিরোধিতা করার আরো কারন ছিলো ওদেরকে অন্য বিড়াল মারতে পারে এবং জীবানু সংক্রমন হতে পারে।

তাই বুয়ার সাথে কথা হয় সে দুই বার খাবার দিয়ে যাবে আর রাতে ভাইয়ের ছেলে এসে খাবার দিবে। ওরা সম্পূর্ণ খালি বাসায় থাকবে এটা মানা আমাদের জন্য কষ্টকর হলেও অন্য কোন উপায় না থাকায় এটাই ছিলো আমাদের হাতে একমাত্র রাস্তা।
এরপর আমরা অপেক্ষা করতে থাকি থাইল্যান্ড যাওয়ার সেই নির্দিষ্ট দিনটির জন্য।

ছবিগুলো হুয়াটসআ্যাপ থেকে নেয়া



Thank You So Much For Reading My Blog

45GhBmKYa8LQ7FKvbgfn8zqd6W2YEX34pMmaoxBszxVcFZtXBBbvSyg7mut1UXDfs91vJBbjvRWniW7kqxJWyzxfBiUR15zUSmmBJcNfGq...Ht8czzm6jLNcmNtMoo5CkngVjPkfuaMSLwsyZ4C5H6d9jw4uJUs6CASqouF5fYyKSD1UQmTGYWz78pUD8S1PSYbAD7jA5t5jwPtEujVi2vgQth35XJdpamtpjp.png