আমাদের চট্টগ্রাম যাত্রার প্রস্তুতি।
অনেকদিন ধরেই বলতে গেলেএকধরণের গৃহবন্দী হয়ে আছি। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বের হওয়া হয় নাই বললেই চলে।কিন্তু আমাদের পুরো পরিবার একসাথে কখনোই বাইরে বের হতে পারি নাই ,কাউকে না কাউকে বাসাতে থাকতেই হয়েছে।
এর কারণ আমার ছোট্ট বিড়ালছানা যাকে আমার বড়ো ছেলে নিয়ে এসেছিলো রাস্তা থেকে।ওকে যেদিন বাসায় আনে সেদিন থেকেই ওর ছুটি শুরু হয়। প্রায় একমাসের কাছাকাছি ছুটি পেয়েছিলো ও। আর এই ছুটির মাঝেই দূর্গা পূজার ছুটিও এসে যোগ হয়।
এটা সরকারি ছুটি হবার কারণে আমার হাবিও ৪ দিনের ছুটি পায় যেটা তার জন্য একটা বিশাল ছুটি। এধরণের ছুটিতে আমরা সাধারণত ঢাকার বাইরে বেড়াতে যেয়ে থাকি। যেটা এবার সম্ভব হচ্ছে না আমার দুই বিড়ালের জন্য।
যার কারণে সবচাইতে বিরক্ত হচ্ছিলো বোধকরি আমার বড়ো ছেলেই। ওকে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বলেছিলাম যে ,দুইটাকে কোনো ফস্টারে রেখে দুই/তিন দিনের জন্য ঘুরে আসি।এটা বলা ছাড়া আমি অন্য কোনো সমাধান খুঁজে পায় নাই। কিন্তু ফস্টারের কথাতেও ছেলেরা রাজি হচ্ছিলো না।
ওদের যুক্তি হলো ,ফস্টারে বিভিন্ন ধরণের বিড়াল থাকে আর তাদের অনেক সময় নানা ধরণের অসুখও থাকে। ওই সব বিড়ালের কাছ থেকে আমাদেরগুলো সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়াও অচেনা পরিবেশে কান্নাকাটি ও অন্য বিড়ালের সাথে মারামারি করে আহত হতে পারে। বিশেষ করে পান্ডা একদমই ছোট।
ওদের কথাতেও যুক্তি আছে তাই আমি আর কোনো কথা বলতে পারি নাই। কিন্তু ওদের মাঝে একধরণের হতাশা ও রাগ দেখেছি।
এটা নিয়ে ওদের বাবার সাথে কথা বলার পরে দেখলাম তার অবস্থাও অনেকটা ছেলেদের মতোই। কারণ সেও ঘুরে বেড়াতে খুব পছন্দ করে সবাইকে নিয়ে। পরে একটা বুদ্ধি দিলো যে ,দুজনকে দুই রুমে আটকে রেখে গেলে কেমন হয়। লিটারবক্স ও খাবার দেয়া একটা সমস্যা।
ভাইয়ের ছেলেদের বললে খাবার এসে দিতে পারবে কিন্তু হঠাৎ করে দুইটাকে সামাল দিতে পারবে না। আর একটা সমস্যা হলো আমার লিটারবক্স একটা। দুইজন কিভাবে ব্যবহার করবে ?যার কারণে আমি চুপচাপই ছিলাম ,হ্যা /না কিছুই বলি নাই।
দশমীর দিন ভোরে আমাকে আমার ছেলে ডেকে তুলছে এই বলে যে চলো আমরা বের হই। শুদু আমাকেই না বাকি দুজনকেও টেনে তুলেছে একই কথা বলে। ওর কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেংঙে পড়ার অবস্থা ,কিভাবে কি করবো এটা ভেবে।
দ্রুত ওদেরকে খাবার দিলাম আর সেই সাথে সিদ্ধান্ত নিলাম যে বেশি করে আরেকটু খাবার একদম যাওয়ার আগের মুহূর্তে গরম করে তারপর সেটাকে ঠান্ডা করে দিয়ে যাবো। নষ্ট হয়ে যাবে কিনা এটা ভেবেও চিন্তায় পরে গেলাম। সেই সাথে ড্ৰাই ক্যাটফুডও দিয়ে যাবো। এঞ্জেল খুব একটা পছন্দ করে না এই ক্যাটফুড। ও ক্যানেরটা খেতে পছন্দ করে কিন্তু সেটা দেয়া যাবে না নষ্ট হয়ে যাবে বেশি সময় থাকলে।
এরপরের সমস্যা হলো আরেকটা লিটারবক্সের ব্যবস্থা করা। সারাবাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজতে শুরু করলাম কোনটাতে লিটার দেয়া যায়। কিন্তু সবই ছোট হয়ে যায়। পরে একটা প্লাস্টিকের বাস্কেটে পলিব্যাগ দিয়ে তার উপরে লিটার দিলাম। কিন্তু সন্দেহ লাগতেছিলো এটা ব্যবহার করবে কিনা আদৌ।
এরপরে পুরোবাড়ি এঞ্জেলকে ছেড়ে দিয়ে পান্ডাকে ড্রয়ইংরুমে রেখে একধরণের আতঙ্ক নিয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
