কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়!

in Incredible India22 hours ago

1000086513.jpg

লেখক হোক কিংবা কবি এখন পড়ার অভ্যেস হারিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে সেটা যদি হয় অধ্যয়নের বহির্ভূত বিষয়!

এই রোবটের মত জীবনযাপনে এক্ প্রকার অভ্যস্ত হয়ে গেছে মানুষ, তাদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার রিল অধিক গ্রহণযোগ্য!

এখন বইয়ের গন্ধের আমেজে ভাটা পড়েছে! আর প্রবাদের মত," আগের আলো যেদিকে যায়, পিছনের আলো সেদিকে যায় এর মত নব প্রজন্ম সবটা আনন্দ খুঁজে পেয়েছে এই মোবাইলের মধ্যেই!

আমার মনে পড়ে এক্ সময় টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হতো, নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের বাইরে কিছু দেখতে দেওয়া হতো না, একরকম বোকা বাক্স নামে আখ্যায়িত করা হতো টেলিভিশনকে!

আজকের দিনে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন!
এখন তো মনে হয়, অন্যের উপার্জনের সাক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া এই রিল দেখায় কোনো বাড়তি শিক্ষা নেই!

তখন ছোট ছিলাম তাই হয়তো মাঝেমধ্যে মা বাবার উপর অভিমান হতো, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি কি ভীষণরকম বদভ্যাসের হাত থেকে আমার মা, বাবা আমার শৈশবকে রক্ষা করেছে।

আর ঠিক সেই কারণে, খেলার সুযোগ পেয়েছি ঘরের বাইরে বেরিয়ে, পাশাপশি কত এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছিলাম পড়াশুনার সাথে।

আর সেই অভ্যেসের মধ্যে পাঠ্য পুস্তক এর বাইরে যে পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল সেটি আজও অপরিবর্তিত রাখতে সক্ষম হয়েছি, এর সবটাই সম্ভব হয়েছে আমার মা বাবার কারণে।

এতক্ষণ লেখা পড়ে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, কথাগুলোর সাথে শীর্ষক এর সামঞ্জস্য কোথায়?

1000086510.jpg

তাহলে এবার সেই প্রসঙ্গে ফেরা যাক। দেখুন প্রথম লাইনে আমি উল্লেখ করেছি, আজকাল সকলে কিভাবে সময় অতিবাহিত করে, এবং কিভাবে পাঠ্য পুস্তকের বাইরে বই পড়বার অভ্যেস হারিয়ে যাচ্ছে।

তখন আমি শিলিগুড়িতে, আমার ফ্ল্যাটের থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত অ্যালফাবেট বইয়ের দোকান।
তখন সেখানে বাচ্চাদের খেলনার পাশাপশি, বই পাওয়া যেতো। দীর্ঘ সময় সেখান থেকে দূরে তাই বর্তমান পরিস্থিতি জানা নেই, কাজেই অতীতকাল লেখায় উল্লেখ করলাম।

সেখান থেকেই কিনেছিলাম শরৎ রচনা সমগ্র।
এখন যদিও বইগুলো সেই বন্ধ তালার আড়ালেই রয়ে গেছে, জানিনা তারা অযত্নে আজ আর অক্ষত আছে কিনা, তবে সেই রচনা সমগ্র পড়তে গিয়ে আমার এই কথাশিল্পীর সমস্ত উপন্যাস, গল্প পড়া হয়ে গেছে।

1000086511.jpg

শরৎ চন্দ্রের লেখা একাধিক গল্প নিয়ে ছায়াছবি তৈরি হয়েছে, যারমধ্যে

"দেবদাস"
নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় ২০ বার ছায়াছবি তৈরি হয়েছে, এটা কতজন বাঙালি আজ খবর রাখেন?

আমি বেশ সন্দিহান! তবে, যে বিষয় নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, সেটা হলো, এই ২০ বার তৈরি দেবদাসের কোনো না কোনো একটা কেউ না কেউ দেখে থাকবেন, বিশেষত যারা দক্ষিণ এশিয়ার বসবার করেন।

উপন্যাস এর মধ্যে অধিক চর্চিত

"দেবদাস, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত (চারটি খণ্ড রয়েছে), বিরহাজল, পল্লীসমাজ, পথের দাবী, দত্তা ছাড়াও বড়দিদি এবং পরিণীতা
নিয়ে ছায়াছবি তৈরি হয়েছে।

পরাধীন ভারতের বুকে প্রতিবাদের ভাষা ছিল একেক জনের একেক রকম, আর নাট্যাভিনয় আইন তৎকালীন ইংরেজ সরকার ঠিক এই কারণেই বলবৎ করেছিলেন।

1000086508.jpg

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার কলমকে প্রতিবাদের হাতিয়ার করেছিলেন, আর ঠিক সেই কারণে তার রচিত

"পথের দাবী"
উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল!

ছোটগল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য,

মহেশ, রামের সুমতি, ও অভাগীর স্বর্গ।

আশাকরি, এখন লেখায় উল্লেখিত শীর্ষক এর যথার্থতা খানিক উপলব্ধি করতে পারছেন!
পরিশেষে বিশেষভাবে উল্লেখিত আজকের ছবিগুলো, যেখানে জীবনের শেষ অধ্যায় কেটেছিল এই কথাশিল্পীর।

মাত্র ৬১ বছর বয়সে তিনি চলে গিয়েছেন কিন্তু তার রচনা রয়ে গেছে আজও তবে চিরস্মরণীয় থাকবে কিনা সে বিষয়ে আমি সন্দিহান, কারণ পূর্বেই উল্লেখিত!

বিষয়টি দুর্ভাগ্যের কিন্তু আমার মত আর কিছু বাঙালি যে আজও সমাজে বিদ্যমান তার নিদর্শন হিসেবে রয়ে গেছে সযত্নে রাখা কথাশিল্পীর শেষ সময়ে কাটানো বাড়িটি।

বেঁচে থাক এই কথাশিল্পীর সৃষ্টি তার রচনা যেনো কখনও মলিন না হয়ে যায়, একজন গুণগ্রাহী পাঠিকা হিসেবে এটাই আমার কামনা।

1000010907.gif

1000010906.gif