শহরের বুকে এক্ টুকরো সবুজ!

কালো ধোঁয়া এটাই সাধারণত ব্যস্ত শহরের প্রথম পরিচয় হয়ে গিয়েছে বর্তমান সময়।
গাছ কেটে তৈরি হওয়া ইমারতের কারণেই আজকে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি সাথে আবহাওয়ায় আমূল পরিবর্তন!
একদিকে উন্নতির সাথে পা মেলাতে গিয়ে, প্রকৃতির প্রতি নির্যাতন যে প্রকৃতি মেনে নেয় নি, সেটা প্রমাণিত হয়েছে পরিবর্তিত জলবায়ুর পরিস্থিতি স্পস্ট করে দেয়।
আজকের ছবিতে এক্ টুকরো সবুজ তুলে ধরেছি শহরের বুকে!
আজকে বসুন্ধরার সম্পূর্ণটাই কংক্রিটের আচ্ছাদন দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে, বিশেষত ফ্ল্যাট কালচার বৃদ্ধি এর অন্যতম প্রধান কারণ।
এদের মাঝেই যারা সবুজের গুরুত্ব বোঝেন কিন্তু পরিসরের অভাবে তারা সেই জায়গা খুঁজে নিয়েছেন ছাদে, আর এভাবেই আধুনিক ছাদ বাগান নির্মিত হয়েছে সময়ের হাত ধরে।

পুরোনো সময় যখন বাড়ি অধিক পরিসরে নির্মিত করা হতো তখন সেই বাড়ির চারপাশে জুড়ে বাগান তৈরি করা হতো, এই মুহূর্তে নিজেদের বাড়ির সেই ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
সত্যি বলতে এখন আমি ভীষণরকম ভাবে নিজের সেই বাড়িটিকে মিস করি!
সাথে সেই গাছগুলো যেগুলোতে অবলীলায় চড়ে বসতাম।
সময় পরিবর্তিত হয়, হারিয়ে যায় কাছের মানুষ, পড়ে থাকে শুধু স্মৃতি!
ভালো থাকার অভিনয় করে চলা জীবন সবচাইতে কষ্টকর!
বিশেষ করে যারা অভিনয় করতে অক্ষম।
তবে, মন বলে সময় পরিবর্তনশীল, তাই হতাশার মাঝেও নিজের মনোবল অক্ষুন্ন রাখি এই সবুজদের দেখে, যাদের কেটে, ছেটে ফেলার পরেও পুনরুজ্জীবিত হবার প্রয়াস চালিয়ে যায়।

সবুজ সতেজ থাকতে সাহায্য করে, প্রতিদিন নিজের ঘরে থাকা গাছের সাথে আজকাল কথা বলি, কখনও মাথা নাড়িয়ে আমাকে তারা বুঝিয়ে দেয় আমার কথা তারা শুনছে, আমার সাথে পথ চলার সাথী হয়ে থাকতে তারা রাজি!
মানুষের ভীড়, মানুষের সঙ্গ আজ আর ভালো লাগে না, কম বেশি কাছের দূরের সব মানুষদের অন্তর্নিহিত অভিসন্ধি বুঝে গিয়ে নিজেকে এক্ প্রকার গুটিয়ে নিয়েছি!
এই বেশ ভালো, মুখের আড়ালে মুখোশ উন্মোচন হয় সময়ের হাত ধরে, আমার জীবনেও ঠিক এরকমটাই হয়েছে, সেটা আত্মীয় স্বজনের ক্ষেত্রেই হোক কিংবা পরিচিত মানুষজনের ক্ষেত্রেই হোক না কেনো!
তবে নিজের কাছে কিছু প্রতিজ্ঞা করেছি যেটি আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো বলে বদ্ধপরিকর শুধু সময়ের অপেক্ষা!
ঠিক যেমন দল ছেটে ফেলার পরও নতুন ডাল জন্মায়, তেমনি সময়ের হাত ধরে, তেমনি নতুন আমার আমিকে তৈরির পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছি, পুরোনো অভিজ্ঞতা নিয়ে।
পার্থক্য একটাই, জল, খাদ সবটার যোগান নিজেকেই দিতে হচ্ছে, সঙ্গে অন্তর দ্বন্দ্ব এবং একাধিক পরিস্থিতির স্মৃতির যন্ত্রণার জ্বালাকে কাজে লাগাচ্ছি নিজেকে শক্ত করতে, যাতে লতায় পরিণত না হই!
অধিক গাছ আছে যারা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে বাতাসে অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয়, তেমনি এই গাছগুলোই রাতে বিপরীত আচরণ করে, কিন্তু কিছু গাছ এমনও আছে, যারা রাতেও অক্সিজেন সরবরাহ করে, তারা কিন্তু সময়ের সাথে নিজেদের আচরণ বদলে ফেলে না!
তেমনি এখন আমিও বিশ্বাস করি যে যেমন আমৃত্যু তারা তেমনি থাকবে, কাজেই কোনো তোষামোদ, কোনো পরিবর্তনের অভিনয় আর আমার মনে দাগ কাটবে না, কারণ আমি শিখেছি মানুষের সাথে নিরাপদভাবে কতটুকু মেশা যায়, অথবা আর ভালোভাবে বললে কতটুকু দূরত্ব রেখে মেশা উচিৎ!

ব্যবধান প্রকৃতির সাথে নয়, মানুষের সাথে রেখে চলতে হয়, নইলে ওই কার্বন ডাই অক্সাইডের ধকল সময় আর পরিস্থিতি সাথে শ্বাস রুদ্ধ করে তোলে!
উপরিউক্ত কথাগুলো একান্তই নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং অভিমত, কাজেই সহমতের কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই ভাগ করে নিলাম, যদিও এখন আর প্রত্যাশা কোনো মানুষের থেকেই আমার আর নেই, সেটা ব্যাক্তিগত হোক কিংবা তার বহির্ভূত হোক না কেনো!
কালো ধোঁয়া আর নিজের ব্যক্তিজীবনে প্রবেশ করতে দেবার সদিচ্ছা নেই!


Curated by : @lirvic