কিন্নর কৈলাশ!

বৈচিত্র্যময় ভারতে অবস্থিত হিমাচল প্রদেশের কিন্নর এর কিছু চোখ ধাঁধানো ছবি নিয়ে হাজির হয়েছি আজকে, আপনাদের মাঝে!
যেমনটি লেখার শীর্ষক থেকে বুঝতেই পারছেন, আজকে আপনাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছি কলপা গ্রাম থেকে প্রকৃতির নির্ভেজাল সৌন্দর্য্যের একাংশ।
নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান;
বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান!
- অতুলপ্রসাদ সেন!
বাঙালির বিশিষ্ট কবি তথা সুরকার তার গান ভারত আমার ভারতবর্ষ গানে উপরিউক্ত শব্দগুলির প্রয়োগ করেছিলেন!
কেনো আজকে তার এই লেখা গানের কথা উল্লেখ করছি? কি সম্পর্ক রয়েছে ছবিগুলোর সাথে উপরিউক্ত লেখাটির?
এবার চলুন সেটাই জেনে নেওয়া যাক লেখার হাত ধরে।

যে স্থানটির কথা বলছি এটি হিন্দি তথা বৌদ্ধ উভয় ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পবিত্র স্থান!
এই বিষয়টি ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈচিত্র্য যেখানে সমানভাবে প্রতিটি ধর্মের ভাবাবেগের গুরুত্ব রয়েছে!
একদিকে যেমন হিন্দুদের কাছে কৈলাশ এর সাথে মহাদেব এর একাধিক পৌরাণিক কাহিনীর সংযোগ রয়েছে, তেমনি তিব্বত বৌদ্ধদের কাছে এই পর্বত সৃষ্টির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়!
অর্থাৎ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পাশাপশি এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র উভয় সম্প্রদায়ের জন্য!
৬,০৫০ মিটার উচ্চ এই কিন্নর কৈলাশ যেটি এই তিব্বতী বৌদ্ধদের জন্য
- ধ্যানের স্থান
- পবিত্র পরিক্রমা
- পবিত্র হ্রদ
- ঐশ্বরিক ঐতিহ্য
হিন্দু তথা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী উভয়েই বিশ্বাস করে এই অঞ্চলটি দেব দেবী সহ কিছু অলৌকিক স্বত্তার অস্তিত্ব এখানে বিরাজ করে!
এখানে উপস্থিত হ্রদ সহ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত জলাশয়(পার্বতী কুণ্ড)
প্রত্যহ উভয় সম্প্রদায় প্রদক্ষিণ করে!
এই অত্যাধুনিক সমাজেও এক্ টুকরো বিশ্বাস কোথাও নির্ভেজাল ভাবে বিরাজ করে, এবং সেটি তারা এখনো ধরে রাখতে সম্ভব হয়েছে, এটাই তো অনেকের কাছে বিস্ময়কর! তাই না?

গিরিচুড়া যেথা গগনে মেশে;
তুষার উপস্থিত শান্তির বেশে!
অলংকার যেথা জিতে যায়,
অহংকারের কাছে;
হিসেব সেখানে রাখতে হয়না,
ক্ষমতা কার কাছে কতখানি আছে!
একে অপরের পরিপূরক
শান্তিতে করে ঘর;
নেই যেখানে হিসেবের বালাই
কে কতখানি আপন, কে কতখানি পর!
কার ভূমিকা কতখানি,
কি এসে যায় তাতে?
ধর্মের নাম যাই হোক না কেনো
সকলেই এক্ জাতে!
শান্তির বার্তা বহন করে
একসাথে চলে পথ,
কেউ ধরে চলে গগনের হাত;
কেউ দেয় গিরির সাথ!
বাদানুবাদের নেই যেখানে
ধ্যাণ করে যেথা বিরাজ...
সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া
এই তো তাদের মুল কাজ!

আপেল বাগানের মধ্যে এক্ টুকরো সতেজ কালপা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী, তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের ধরন সহ এখানকার তথ্য আপনাদের খনিকটা হলেও সতেজতা ফিরিয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে!
ভারত দর্শন সম্পূর্ণ করতে পারলে গোটা বিশ্বের দরবারে যাবার প্রয়োজন পড়ে না, এটা পর্যটকদের অনেকেই হয়তো স্বীকার করবেন, বিশেষত যারা ভারত ভ্রমণে এসেছেন, সঙ্গে এই দেশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা রাখেন!
আপনিও কি তাদের দলে? জানাতে ভুলবেন না কেমন! প্রতীক্ষায় থাকবো কিন্তু, আজ তাহলে চললাম! ভালো থাকুন, আলো থাকুন।

