প্রকৃতির উল্টোপুরান!Contrary to nature!

এখন বাংলার চৈত্র মাস, সাধারণত এই সময় প্রতিবছর তাপপ্রবাহ থাকে চরম পর্যায়!
তবে, কেনো জানিনা এই বছর যেনো প্রকৃতি উল্টো পথে হাঁটবে, এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে!
শুরুটা হয়েছে ২১শে মার্চ, সবে পুজো দিয়ে উঠে বাইরে বৃষ্টির আইয়াজ শুনে ফোন হতে নিয়ে পর সেই আমার পশ্চিমের জানালায় দাড়িয়ে ভিডিও করলাম!
এরপর দক্ষিণের জানালার কাঁচে বেশ জোড়ে জোড়ে শব্দ হচ্ছে দেখে যেই জানালা খুলতে গেলাম, সঙ্গে সঙ্গে একফালি কাঁচ জানালা থেকে খুলে পড়ল নিচে আর আমার বিছানায় দেখলাম ছোট্ট ছোট্ট শীল এসে পড়ছে।
অর্থাৎ বুঝলাম বাইরে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে! সেই মুহূর্তে বৃষ্টির প্রকোপ এতটাই ছিল যে, ছবি তোলা বাদ দিয়ে কোনো প্রকারে বিছানা কিভাবে ভেজা বন্ধ করা যায় সেইদিকে মনোনিবেশ করলাম!
এরপর থেকে দেখলাম, বাইরের তাপমাত্রা একেবারেই কমে গেছে পরদিন থেকে, শুধু কমে গেছে বললে ভুল হবে, যেনো প্রকৃতি পুনরায় শীতকাল ফিরিয়ে দিয়েছে!
জানালার কাঁচ ভাঙ্গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি, কারণ এই অবস্থায় এসি চালানো সম্ভব নয়, তবে প্রকৃতি যেনো মনের কথা বুঝতে পেরেই তাপমাত্রায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
এই মুহূর্তে যখন লেখাটি লিখছি, বাইরে মেঘের গর্জন কানে আসছে।
প্রকৃতির মনের ভাব বোঝা দায়! তার মধ্যে সে যে কি লুকিয়ে রেখেছে, কেবলমাত্র সেই জানে!
তবে অনুমানের উপর ভর করে এ যেনো প্রকৃতির এক বার্তা মানুষকে শান্ত করবার!
আজকাল প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় রক্তিক আভায় রাঙা সূর্যকে দেখে মনে হয়, আর একটি দিনের অবসান হয়ে গেলো, জীবন থেকে কমে গেলো আর একটি দিন!

পিছনে জমা হলো আরো কিছু অভিজ্ঞতা সাথে ভালো মন্দ স্মৃতি!
একদিকে মানুষ যখন উত্তপ্ত হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রাখবার বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে প্রকৃতি।
যদিও বিষয়টি একান্তই আন্তরিক ভাবনা, তবুও মনে হয়, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে নিরীহ মানুষদের প্রাণহানী বোধহয় কারোরই কাম্য নয়!
আলোচনা, ভালোবাসা এবং শান্তি দিয়ে জগত জয় সম্ভব, ভয় দেখিয়ে, অনৈতিকতার সঙ্গ দিয়ে নয়!
ইতিহাসের পাতা থেকে যদি কিছু শেখার প্রয়াস করা হয়, তাহলে একটি শিক্ষা আজও হয়তো অব্যাহত রাখতে সক্ষম হতে পারত অনেকেই, আর সেটি হলো,
একটি যৌথ পরিবারের শক্তি অনেক বেশি একটি নিউক্লিয়ার পরিবারের চাইতে!
অনেকেই লক্ষ্য করেছেন হয়তো, বিশ্বের অরাজকতা সৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি, কখনও কমিউনিটির অ্যাকাউন্ট থেকে আবার কখনও নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে!

আমরা কখনও ভেবে দেখি না, আজও মানুষের চাইতে শক্তিশালী প্রকৃতি, যার উপর মানবজাতি নির্ভরশীল!
ভাবুন একবার, যদি কখনও প্রকৃতির মনে হয়, ডাইনোসরদের মত মানুষদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দেবে এই প্ল্যানেট থেকে!
বিষয়টি কি অসম্ভব? কোথায় থাকবে সেদিন বিভাজন, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, আর এই হিংসার রাজনীতি?
উন্নতির পরিভাষা আসে সভ্যতার হাত ধরে! কাজেই, যেখানে এই সভ্যতার নিদর্শন চোখে পড়ে না, সেখানে উন্নতি হয় আসে না, আর যদিও আসে সেটি হয় ক্ষণস্থায়ী!

হতে পারে এই শান্ত স্নিগ্ধ আবহাওয়া প্রকৃতির একটি অন্তিম সুযোগ এবং বার্তা মানবকুলের প্রতি, তথা তাদেরকে শান্ত করবার প্রয়াস!
তবে, জানা নেই আর কতদিন, আর কতবার!
কি বার্তা এই সভ্য সমাজ থেকে পাবে আগামী প্রজন্ম, কিভাবে এখনের মুহুর্ত গুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্মের কাছে!
সব সিদ্ধান্তই বোধহয় প্রকৃতির হাতে, কারণ মানবকুল টিকে থাকলে, তবেই তো তাদের ইতিহাস টিকে থাকবে, কি তাই না?


