JOLLY LLB-3 -Film review! জলি এলএলবি-৩ ছায়াছবির রিভিউ!

আরো একবার ছায়াছবির রিভিউ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি আপনাদের মাঝে!
হাতে গোনা কিছু ছায়াছবির সিক্যুয়াল আমি দেখে থাকি, নইলে ছায়াছবির সিক্যুয়াল আমার বিশেষ পছন্দের বিষয় নয়!
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি প্রথম ছায়াছবির মত বাকি অংশগুলো তৈরি করতে অনেক নির্দেশন ব্যর্থ হন!
তবে, আজকে যে ছায়াছবির বিষয় নিয়ে লিখছি তার আগে নির্মিত ছবির দুটো অংশই আমার বেশ ভালো লেগেছে।
কাজেই, টেলিভিশনের পর্দায় যখন তৃতীয় ছায়াছবির বিজ্ঞাপন দেখছিলাম, তখন এক প্রকার ঠিক করেই নিয়েছিলাম ছায়াছবির নির্মিত এই সিক্যুয়াল দেখবো!
আচ্ছা, কেনো মনে হয়েছিল ছায়াছবিটি দেখতে হবে? তার অন্যতম কারণ প্রথম এবং দ্বিতীয় অংশের উভয় অভিনেতা এই ছায়াছবিতে অভিনয় করেছে!
এদের মধ্যে আমার আরশাদ ওয়ার্সি বিশেষ পছন্দের অভিনেতা, বলতে পারি অক্ষয় কুমারের( দ্বিতীয় অভিনেতা) চাইতেও বেশী ভালো লাগে আরশাদ ওয়ার্সির অভিনয়!

এদেরকে ছাপিয়ে সৌরভ শুক্লা হলেন এই ছায়াছবির প্রতিটি পার্টের বাড়তি আকর্ষণ যিনি প্রতিটি পার্টে একজন জজ এর অভিনয় করেছেন।
এই অভিনেতা তাবড় তাবড় নায়কদের পিছনে ফেলে দেন তার অনবদ্য অভিনয় দিয়ে!
উদাহরণস্বরূপ, হাসির পাশপাশি তার বলিষ্ঠ অভিনয় দেখার সুযোগ হয়েছে, ম্যাডাম চিফ মিনিস্টার ছায়াছবিতে, এছাড়াও অনেক ছায়াছবিতে তিনি অভিনয় করছেন।
এবার, ছায়াছবির বিষয়বস্তু নিয়ে সামান্য উল্লেখ করছি, তবে পুরোটা নয়, কারণ অনেকেই হয়তো ছায়াছবিটি এখনো দেখেন নি, কাজেই তাদের জন্য ছবির কাহিনী খানিক উহ্য রাখছি।
শীর্ষক পড়ে হয়তো অনেকেই বুঝেছেন, ছায়াছবির প্রতিটি অংশই নির্মিত মূলত উকিল তথা কোর্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে!
আমরা বাইরে থেকে অনেক কিছু সহজ দেখলেও অভ্যন্তরীণ বিষয় কিন্তু বেশ জটিল অনেক পেশায়! তারই একটি হলো, এই অ্যাডভোকেট কিংবা ওকালতির পেশা।
যেখানে একদিকে থাকে বিচারের প্রতীক্ষায় ক্ষমতাহীন মানুষ আবার অন্যত্র থাকে ক্ষমতায় আসীন নামজাদা মানুষ!
এই লড়াইয়ে একদিকে থাকে ন্যায় বিচারের প্রতীক্ষায় বছরের পর বছর নিরীহ মানুষ, অন্যদিকে এই সময়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধী পার পেতে নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কাজে লাগাতে চায়!
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি ন্যায় বিচার সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত, কিন্তু ক্ষমতার কাছে ন্যায় বেশিরভাগ সময় নতজানু হয়ে যায়!
তবে, সব পেশার মতোই কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ থাকেন বৈকি!
আর এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই হয়তো আজও মানুষ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।
এবার মূল পর্বে আসা যাক! শীর্ষকটি নির্বাচন করা হয়েছে ছায়াছবিতে অভিনয় করা উকিলের নামানুসারে।
অর্থাৎ ছায়াছবির আগের পর্বে একক ভাবে জলি অর্থাৎ জগদীশ ত্যাগী (জলি)ওরফে আরশাদ ওয়ার্সি অভিনয় করেছিলেন প্রথম জলি এলএলবি ছায়াছবিতে, এরপর জগদীশ্বর মিশ্রা(দ্বিতীয় জলি), এই জলির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় কুমার!
আর এই তৃতীয় সিক্যুয়াল তৈরি করা হয়, উভয় জলিকে নিয়ে!
এই পর্বের বিষয়বস্তুর সূত্রপাত ওকালতি তে পশর জমাতে অসমর্থ একই নামের (শর্ট ফর্ম) দুই উকিলকে নিয়ে।
সততার পথ অবলম্বন করে লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথের লড়াই এবং বাঁধা হলো এই ছায়াছবির প্রতিটি অংশের মুল বার্তা!
একই পেশায়, একই নামের দুই সাধারণ উকিলের সততার কাহিনী নিয়ে এই ছায়াছবি, তবে অলক্ষ্যে থেকে এই দুই সৎ উকিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৌরভ শুক্লাকে বাদ দিলে চলবে না!

যিনি সুন্দরলাল ত্রিপাঠীর ভূমিকায় তিনটি পর্বেই অভিনয় করেছেন।
ছায়াছবির শুরুতেই দেখা যায়, দ্বিতীয় জলি অর্থাৎ অক্ষয় কুমার একই নামের সুযোগ নিয়ে ক্লায়েন্ট হাতিয়ে নেয়, যেটি নিয়ে সকল উকিল বেশ বিব্রত!
সত্যি বলতে অক্ষয় কুমার সিরিয়াস অভিনয়ের পাশাপশি কমেডিতে একইভাবে সিদ্ধহস্ত!
টাইমিং অফ কমেডি, সেন্স অফ কমেডি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখিত তিনটি নাম হিন্দি ছায়াছবির জগতে সাড়া ফেলেছে।
এরপর, এনজিও থেকে একটি কেস এসে হাজির হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে অক্ষয় কুমার কেসটি নিয়ে অস্বীকার করে ক্লায়েন্টদের পাঠিয়ে দেয় প্রথম জলির কাছে, যেহেতু এনজিও দের দেওয়া কেস থেকে বিশেষ অর্থ উপার্জন হয় না, এবং এই বিষয় নিয়েই পরবর্তীতে ছায়াছবির গল্প এগিয়ে যায়।

অবশেষে, সত্যের জয় হয়, তবে আমার আশা ছিল, যে বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়েছে, সেটির শুরুটা যেমন আকর্ষক ছিল, শেষটা তেও তেমনি আকর্ষণ থাকবে বাকি পর্বের মতোই কিন্তু ব্যাক্তিগত ভাবে আমার তেমনটি মনে হয়নি, আর এখানেই নির্দেশকের বিফলতা!
দুটি পর্বের এত বড় বড় অভিনেতাদের সঠিক ব্যবহার করতে তিনি এই পর্বে এক প্রকার অসমর্থ হয়েছেন।
তবে, আমি কমেডির দিক থেকে ছায়াছবিটি দেখে বেশ আনন্দিত হয়েছি।
আর যুক্তি তক্কো বাদ দিয়ে যদি কৌতুকের নিরিখে ছায়াছবিটি কেউ দেখেন, তাহলে হয়তো খানিক উপভোগ করতে পারবেন এই ছায়াছবিটি।






