Monte Carlo! ছায়াছবি মন্টে কার্লো!

এই মুহূর্তে যখন লিখতে বসলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় ভারতীয় সময় বলছে রাত এগারোটা বেজে তিরিশ মিনিট!
একদিকে আমার একটি পছন্দের ছায়াছবি চলছে টেলিভিশনের পর্দায়, যেটি ইতিপূর্বেও দেখেছি এবং ভালো লাগার হাত ধরেই পুনরায় দেখছি!
ছায়াছবির নাম শীর্ষক এ উল্লেখিত!
ভারী মজার ছায়াছবিটি, জানিনা আপনাদের মধ্যে কতজন ছবিটি দেখেছেন!
ঘটনার সামান্য লেখায় উল্লেখ করছি, সবটা নয়, কারণ যারা দেখেননি তাদের আনন্দ ক্ষীণ করবার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
উনিশ্য এগারো সালে নির্মিত টিন এডভেঞ্চার হলো ছায়াছবির মূল বিষয়বস্তু!
মূল চরিত্র গ্রেস ওরফে সেলিনা গোমস অভিনয় করেছে, যে গ্র্যাজুয়েশন এর পর তার প্রিয় বান্ধবী এমা এবং তার সৎ বোন মেগ কে নিয়ে প্যারিস ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে এবং সেখানে প্ল্যান মাফিক পৌঁছেও যায়!
মজাটা শুরু এরপর থেকেই, যেখানে গ্রেস এর সাথে আইডেন্টিটি সোয়াপ হয় একজন সমৃদ্ধ ব্রিটেনের এক আদুরে উত্তরাধিকারিণীর সাথে!
![]() | ![]() |
|---|

যদি চলতি বাংলায় আপনাদের বোঝাতে চাই তাহলে বিষয়টি দাঁড়াবে এমন গ্রেস হলো একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আর অপরদিকে হুবহু তার মতই দেখতে!
কাজেই, গ্রেসকে ধাওয়া করে মিডিয়া সেই ধনী পরিবারের মেয়ে ভেবে, এবং হাতে টাকা ফুরিয়ে আসছে দেখে এই তিনজন পূর্ণ সুযোগ নেয় সেই সমৃদ্ধ মহিলার আইডেন্টিটি!
দামি হোটেল, দামী খাবার, ফ্লাইট এর বিসনেস ক্লাস এর টিকিট সবটাই এই তিনজনের দখলে আসে!
![]() | ![]() |
|---|

![]() | ![]() |
|---|
এর সাথে চলে সমানভাবে ভালবাসার মানুষকে খুঁজে পাওয়া, সবটা তুলে ধরে ছায়াছবিটি দেখার ইচ্ছে নষ্ট করতে চাই না, তাই মুল বিষয়টি তুলে ধরছি!
আর তুলে ধরছি একটি বার্তা যেটি আমি এই ছায়াছবিটি দেখে উপলব্ধি করেছি!
যাদের মন অনেক বড় তাদের সাহায্যের সামর্থ থাকে না, আর যাদের সামর্থ থাকে তাদের সাহায্যের মানসিকতা থাকে না!
ঠিক এই ছায়াছবি টির মধ্যেও এরকম একটি বার্তা রয়েছে!
যদিও সত্যি কখনোই চাপা থাকে না, কাজেই শেষমেশ আসল পরিচিতি সামনে এসে কিন্তু এই স্বল্প পরিসরে অন্যের আইডেন্টিটি কে সৎ কাজে ব্যবহার করে গ্রেস নিজে ছুটি উপভোগ করবার পাশাপশি!
সে একটি অর্গানাইজেশন কে মোটা অংকের অনুদান দেয়, বিষয়টিতে তার পাশে দাঁড়ায় সেই অহংকারী উত্তরাধিকারী আসল মেয়েটির আন্টি!
চেহারা এক কিন্তু মানসিকতা একেবারেই ভিন্ন, সাথে জীবন যাপনের ধরন।
সব মিলিয়ে যে কাজগুলো উচ্চ পরিবারে অশোভনীয় সেগুলো করে তার সাথে আনন্দে মেতে ওঠে তাকে ভালবেসে ফেলা ছবির নায়ক!
সাধারণের মধ্যে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আকৃষ্ট করে সেই রাজপুত্র কে!

২০০১ সালে প্রকাশিত উপন্যাস হেডহান্টার্স এর গল্পের ভিত্তিতে নির্মিত!
সব মিলিয়ে দুর্দান্ত ছায়াছবিটি, ভালোবাসা, শিক্ষা, সমাজ তথা মানবিকতার বার্তা বহন করে।
লেখায় আজ এখানেই ইতি টানলাম, কারণ বাকি ছবিটা উপভোগ করতে হবে, আপনারা যারা ইংলিশ ছায়াছবি দেখেন, তারা দেখতে পারেন এই ছায়াছবি







