উপলব্ধি! Realization!

আজকের লেখার শীর্ষক বেছে নিয়েছি অনেক ভেবে চিন্তে।
একটি করে দিন আসে আমাদের শিক্ষা দিতে কিন্তু প্রায়শঃই আমরা নিজেদের প্রতিনিয়িত উন্নতি করবার চাইতে, অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি অন্যের ভুল ধরতে, নিজেকে অন্যের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে।
আর ঠিক এই কারণে আমাদের যে বিষয়টির ঘাটতি সবচাইতে বেশি রয়ে যায় সেটি হলো স্ব -উপলব্ধি!
অন্যের খুঁত ধরতে, অন্যের সুবিধা, সফলতা দেখে নিজেদের ভাগ্যের প্রতি অভিযোগে লিপ্ত নিজেদের ব্যস্ত রাখতে সিদ্ধহস্ত অধিক মানুষ।
নিজেকে উন্নত করবার চাইতে, অন্যদের নিয়ে সমালোচনায় মুখর হতে আজও বেশিরভাগ মানুষ পছন্দ করে।

আজকের দিনে যেখানে বেশিরভাগ মানুষ তাদের বাড়তি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল দেখে ব্যয় করে, সেখান থেকে যে কিছু শেখা সম্ভব এই উপলব্ধি বোধকরি হাতে গোনা কিছু মানুষ রিল দেখার সময় উপলব্ধি করে থাকেন।
আজকের লেখায় একজন সাধারণ নারির অসাধারণ গল্প আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি, লেখা সঙ্গে একটি ছোট্ট ভিডিওর মাধ্যমে।

মহিলা ভারতের উত্তর প্রদেশের একজন কৃষক পরিবারের গৃহবধূ।
যার নাম যশোদা! গতানুগতিক জীবন যাপনের মাঝে হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে যায় যশোদার জীবনে!

একদিন তার স্বামী কাজের শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন, এমন সময় একটি ছোট ট্রাক সামনে থেকে যশোদার স্বামীর বাইকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়!
খুব স্বাভাবিক ভাবেই মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে পড়ে যান যশোদার স্বামী, ট্রাক ড্রাইভার ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, কিন্তু যাবার সময় যশোদার স্বামীর পায়ের উপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়, কোনরকমে পা রক্ষা পেলেও, দুটি পায়ের একটি আঙুল সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হন নি ডাক্তার!
এটা গেলো যশোদার স্বামীর শারীরিক লড়াই, কিন্তু কৃষকের ঘরে উনুন জ্বলবে কি করে? যখন উপার্জনের মাধ্যম শয্যাশায়ী!
এখানেই যশোদার বাস্তব জীবনের উপলব্ধিকে অজুহাত না করে নিজেকে শিক্ষিত করবার লড়াইয়ে নিজেকে সামিল করে ফেলেন।
শুরুতে মোবাইল ছিল না, কিন্তু ২০২১ সালে একটি মোবাইল কেনেন, নাহ্!
আর সাধারণ মানুষের মতো সময় কাটাতে নয়, কারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে একজন মহিলাকে সংসারের দায়িত্ব পালন করে;
এরপর অসুস্থ স্বামীর সেবা করে, ক্ষেতে কাজ করে ফেরার পর যখন জীবনসঙ্গীর চোখে জল দেখতে পেতেন, সারাদিনের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে স্বামীর পাশে দাঁড়াবার জেদ তাকে জুগিয়েছিল সেই পরিস্থিতি।
এরপর একে একে সে শুধু মোবাইল ব্যবহার করা নয়, সঙ্গে শিখেছেন একাধিক হাতের কাজ, এর পাশাপশি ইংরিজিতে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন ইউটিউব থেকে।
শুধু এটুকুতেই সে থেকে থাকে নি, যখন তিনি জানতে পারেন ইউটিউব থেকে বাড়িতে বসে উপার্জন করা সম্ভব, তখন তিনি ইংরিজি শেখানোর ক্লাস শুরু করেন ইউটিউবে এবং ফলস্বরূপ আজ তিনি দেশ তথা বিদেশে অনেকের ইংরিজি শেখানোর শিক্ষিকা, একজন স্কুল শিক্ষিকার পাশাপশি।
যেখানে পরিস্থিতিকে অজুহাত করে অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়ে থাকেন ভাগ্যিকে দোষারোপ করে, সেখানে এই যশোদার মত হাতে গোনা কিছু মানুষ সেলফ রিয়ালাইজেশন অর্থাৎ স্ব - উপলব্ধির উপর কাজ করতে সময় অতিবাহিত করেন।
শেখার যে কোনো বয়স কিংবা সময় হয় না, আর শেখার আগ্রহ থাকলে যে কোনো মানুষ যেকোনো সময় নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, তার আদর্শ উদাহরণ এই যশোদা।

সমালোচনা, তুলনা, ঈর্ষা, দ্বেষ যেখানে আজ সর্বত্র বিরাজমান, সেখানে কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ আমাদের শেখায় সময়ের সঠিক মূল্যায়ন!
যে সোশ্যাল মিডিয়া আজ বেশিরভাগ মানুষের নেশা, আর সময় নষ্টের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই মহিলা খুঁজে পেয়েছেন তার পায়ের নিচের শক্ত মাটি সেই একই মাধ্যম থেকে, এখানেই দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্য।
আজকে আর একবার অনুপ্রেরণা দিয়ে গেলো, সাধারণের মধ্যে থাকা অসাধারণ একজন নারী।
হ্যাঁ! এটি ছিল আজকে আমার উপলব্ধি! প্রতিদিন শেখার প্রয়াস করে চলেছি আজও।
এটাই বোধহয় সমালোচনায় মুখর হয়ে সময় অপচয় করবার চাইতে শ্রেয়।
একান্তই নিজস্ব অভিমত, ব্যক্তি বিশেষে আমারা সকলেই পৃথক, কাজেই সহমত পোষণের আশা ছাড়াই লেখাটি ভাগ করে নিলাম।


Congratulations @sduttaskitchen! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.