মায়াপুর ভ্রমন

in Incredible Indialast month

সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি মায়াপুর ভ্রমণের একটি দিন। গতকাল থেকেই প্ল্যান করা হচ্ছিল মায়াপুর যাওয়ার।

দিনটি ছিল বেশ রোদ ঝলমলে। কদিন আগে এসেছি পিসির বাড়িতে ঘুরতে। তারপরেই একদিন প্ল্যান হলো মায়াপুর যাওয়ার। যদিও আমি এর আগেও কয়েকবার মায়াপুর গিয়েছি, তবুও সেখানে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। সকালে উঠেই যে যার মতো স্নান করে নিলাম। তারপর খাওয়া-দাওয়া করে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম মায়াপুরের উদ্দেশ্যে। আমরা মোট সাত জন যাচ্ছিলাম - আমি, ঈশা দিদি, দুই বুনু, ভাই, ঠাম্মা, পিসি।

1000470227.jpg

মায়াপুর পৌঁছোতে পৌঁছোতে আমাদের দুপুর হয়ে গেলো। সেই সময় বেশিরভাগ মন্দির বন্ধ ছিল তাই তখন কিছু দেখতে পারিনি, শুধু নিমাই এর জন্মস্থান এবং নিমাই এর মাসির বাড়ি দেখলাম। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা একটি দোকানের পাশে এসে দাঁড়ালাম। সেটি ছিল আইসক্রিমের দোকান। রোদ ও প্রচন্ড গরম থাকায় আমরা আইসক্রিম খেয়ে নিলাম। ভেবেছিলাম গোশালায় যাবো, কিন্তু প্রচন্ড রোদ ছিল আর পিসি এবং ঠাম্মার পায়ে ব্যাথা তাই হাঁটতে পারবে না বলে আর যাওয়া হলো না । তারপর কিছুক্ষণ মাঠে বসে সময় কাটাই ও ছবি তুলি।

1000470268.jpg

মাঠে বসে সময় কাটাতে কাটাতে আমাদের খিদে পেয়ে যায়। তারপর আমরা মায়াপুরের বিখ্যাত রানা দার বিরিয়ানি খেতে চলে গেলাম। খেতে খেতে প্রায় ৪ টে বেজেই গেলো.... আর ৪ টে থেকেই আবার সব মন্দির গুলো খুলে দেয়। তাই আমরা তাড়াতাড়ি আবার মন্দিরে ফিরে গেলাম।

1000470224.jpg

সেদিন মায়াপুরে প্রচুর ভিড় ছিল, জানি না কেন! হয়তো কোনো অনুষ্ঠান বা স্পেশাল দিন ছিল। আমরা মন্দিরের ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম খুব ভিড়। তারপর আমরা ঠাকুর দর্শনের জন্য লাইন এ দাঁড়ালাম। ধীরে ধীরে আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ ছিল। ভেতরে ঢুকে আমরা 'স্বামী প্রভুপাদ' সম্পর্কে জানতে পারি এবং অনেক মূর্তি দেখতে পাই। এই মন্দির থেকে বেরিয়ে আমরা মায়াপুর এর প্রধান মন্দির 'মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির' এ প্রবেশ করি। সেখানে রাধাকৃষ্ণের অপরূপ দৃশ্য দেখলাম।

1000431864.jpg

মন্দির থেকে বেরোনোর পর বাড়ি যাওয়ার জন্য টোটো তে উঠলাম। যেতে যেতে আর একটি মন্দির পরে রাস্তার পাশেই, সেটি হলো দুর্গাবাড়ি মন্দির। সেখানেও আমরা ঠাকুর দর্শন করতে যাই। তার পাশেই ছিল একটি রেস্টুরেন্ট, সেখান থেকে আমরা দই এবং চা খেয়ে আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা বাড়ি পৌঁছে গেলাম।
ফেরার পথে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা ছিল, হাওয়া বইছিল ফলে সবার হালকা হালকা ঠান্ডা লেগে যায়। এইভাবেই আনন্দের সাথে দিনটি কাটালাম। আজ এখানেই শেষ করলাম, ধন্যবাদ।

Sort:  
Loading...


image.png
Curated by: @josepha

 last month 

Thank you 🙏