ট্যুর সুন্দরবন - ১ম পর্ব
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব সুন্দরবন যাওয়া নিয়ে।
আমি জিওগ্রাফি নিয়ে অনার্স পড়ছি। জিওগ্রাফিতে অনেকরকম ট্যুরে নিয়ে যায়। স্কুল থেকে আমরা ট্যুর এ কখনও যেতে পারিনি। সেই সময় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে, লকডাউন চলছিল সেই সব দিন ভোলার মতো না।
ইউনিভার্সিটিতে সেই সুযোগটা পেয়েছি। এটা তৃতীয় নাম্বার ট্যুর, এর আগে ডিপার্টমেন্ট থেকে দুই বার ট্যুরে নিয়ে গিয়েছিল। এবার ঠিক হয়েছে সুন্দরবন ট্যুর হবে। তবে আগের দুটো ট্যুরে নাইটস্টে হয়নি, পারমিশন ছিল না। তবে এবার নাইটস্টে এর পারমিশন আছে। আমরা সবাই মিলেই ঠিক করেছিলাম সুন্দরবন যাওয়া হোক।
তারপরেই সব সব বুকিং করা শুরু হয়েছিল যেন ওখানে গিয়ে কোনো প্রবলেম না হয়। স্যারই সব ব্যবস্থা করেছিল বলতে গেলে..... সাথে আমরা তো ছিলামই। স্যার সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিল। সুন্দরবন আমাদের এখান থেকে অনেকটাই দূর। তাই সবাইকে কাজ ভাগ করে না দিলে স্যার একা সামলাতে পারবে না। আমরা বেশ অনেকজন গিয়েছিলাম প্রায় ষাট জনের মতো। আমাদের থেকে টাকা নিয়েছিল প্রায় ৫০০০ করে।
সব কিছু বুকিং হয়ে গেলে যাওয়ার ডেট ঠিক হয়। শুধু আমরাই যায়নি সাথে সিনিয়ররাও গিয়েছিল।
বেশ অনেকদিন পরে কোথায়ও আবার ঘুরতে যাব। ভেবেই মজা লাগছে, তাও এতটা দূরে। এত দূরে আগে কখনও যাওয়া হয়নি ইউনিভার্সিটি থেকে।
সুন্দরবন যাওয়ার এক, দুই দিন আগে আমরা বান্ধবীরা মিলে চলে গিয়েছিলাম শপিং করতে। ঘুরতে যাব আর শপিং করব না তাই কখনও হয়?
তেমন কিছু শপিং করিনি তবে যেটুকু প্রয়োজন সেই টুকুই করেছিলাম কারণ সুন্দরবন যাওয়ার জন্যই পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তবে বাড়িতে ছোট ট্রলি না থাকায় একটা ট্রলি নিয়েছিলাম আর একটা T-shirts নিয়েছিলাম কারণ ওই T-shirts এ যেই ছবিটা আঁকা ছিল সেই ছবিটা 2021 সালে আমি এঁকেছিলাম দেখে খুব ভালো লেগেছিল, খুব পছন্দ হয়েছিল।
দিন গুনতে গুনতে চলে আসলো সেই দিন যেদিন আমরা যাবো। মনের ভেতর যেন অন্যরকম এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। আগের দিন রাত থেকেই ব্যাগ গোছাতে শুরু করেছি তাও যেন হচ্ছেই না। এত দূরে প্রথম যাচ্ছি, কোনটা নেবো আর কোনটা নেবো না ঠিক বুঝতে পারছি না।
আমরা প্রথমে রায়গঞ্জ থেকে কলকাতা যাবো। আর আমাদের রায়গঞ্জ থেকে ট্রেন ছিল রাত সাড়ে নটায়, তাই আমরা সন্ধ্যে সাতটার দিকে বেরিয়ে পরি যাওয়ার জন্য। প্রথমে বাড়ি থেকে টোটো করে লাইন বাজার যাই তারপর লাইন বাজার থেকে বাসে করে রায়গঞ্জ স্টেশনে পৌঁছাই।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। বাকি গল্প পরের পোস্টে শেয়ার করব। সবাই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।



Curated By : @ memamun