ট্যুর সুন্দরবন - ২য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালোই আছি। আজ শেয়ার করবো কিভাবে সুন্দরবন গেলাম।
আগের পোস্টে গল্প যেখানে শেষ করেছিলাম সেখান থেকেই আজ আবার শুরু করছি। রায়গঞ্জ স্টেশনে পৌঁছে দেখি বেশ কয়েকজন এসেছে। আরও সবাই আসছে..... কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় সবাই চলে এলো। অনেকের প্যারেন্টস এসেছে ঠিক মতো ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বেশ অনেকক্ষণই দাঁড়িয়ে ছিলাম স্টেশনে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প আর আড্ডা দিচ্ছিলাম, তবে ছবিও তুলেছি। প্রত্যেকের সাথে একটা করে ট্রলি বা ব্যাগ ছিল।
ফ্রেন্ডসদের সাথে প্রথম ট্রেন জার্নি বেশ এক্সসাইটেড লাগছে। এরপর ট্রেন চলে এলো.... আমরা সবাই তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠে পরলাম কারণ এখানে ট্রেনটা বেশিক্ষণ থেমে থাকে না। তারপর রায়গঞ্জ স্টেশনকে bye bye করে দিলাম। আমাদের সিট নম্বরগুলো আগেই গ্রুপে দিয়ে দিয়েছিল স্যার, তাই সিট খুঁজতে খুব সুবিধে হয়েছিল। আমাদের সিট নাম্বার দেখে আমরা সিটে বসে পরি। নিজেদের ট্রলি ঠিক মতো রাখি। তারপর সবাই ঠিকমতো সিট পেলো কি না দেখতে যাই।
দেখলাম সবার জায়গা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের জন্য spite, cocacola দিতে চলে এলো যারা খাবারের দায়িত্ব নিয়েছিল।
এই যে এই ছেলেটি হলো স্যারের ভীষণ প্রিয়। তাই খাবারের দায়িত্ব স্যার একেই দিয়েছে। আমাদের সবাইকে সুন্দরভাবে spite, cocacola সার্ভ করেছে।
তারপর আমরা ভীষণ মজা করছিলাম। আমাদের এক ফ্রেন্ড একটা ছোট বক্স এনেছিল গান চালানোর জন্য। সেটা বাজাতে শুরু করে খুব একটা জোরে আওয়াজ হচ্ছিল না। সেই গানের তালে সবাই বসে বসেই নাচছিল। হঠাৎ ট্রেনে পুলিশ ভিজিট করে আর আমাদের বক্সটা নিয়ে নেয় বলে যে রাত দশটার পর এগুলো এলাউ নেই। কিন্তু সত্যি এটা আগে জানতাম না আমরা, জানলে কখনোই বাজাতাম না। বক্সটি নিয়ে চলে যায়, অনেক রিকোয়েস্ট করার পর বক্সটি ফেরত দেয়। এটা আমাদের বেশ আতঙ্কজনক এক্সপেরিয়েন্স হয়েছিল।
এরকম একটা ঘটনা ঘটায় আমরা আর ভয়ে কিছু করিনি, ঘুমিয়ে পরি। কিন্তু ঘুম কারোরই হয়নি। ট্রেনের মধ্যে কি আর ঘুম হয়! ট্রলির একটা টেনশন থেকেই যায়।
তারপর ভোর হতেই আমরা উঠে পরি, ফ্রেশ হয়ে নেই ট্রেনের মধ্যেই। ভোরের সুন্দর বাতাস অনুভব করি।
দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে খুব ইচ্ছে করছিল, কিন্তু ভয়ও লাগছিল। ভয়কে দূর করে একটু সাহস নিয়ে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াই, বেশ মনোরম হাওয়া উপভোগ করি। পরিবারের সাথে গেলে কখনোই ট্রেনের দরজায় দাঁড়াতে দেবে না। তাই এটাই সঠিক সুযোগ..... একটু দাঁড়িয়েই চলে আসি কারণ ভয় লাগছিল আর স্যারও বকা দিবে দেখলে। যাইহোক আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে যাবো কলকাতা।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। বাকি গল্প পরের পোস্টে শেয়ার করব। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।



