ট্যুর সুন্দরবন - ৫ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব সুন্দরবন গিয়ে কী কী করলাম।
আগের পোস্টে যেখানে শেষ করেছিলাম আজ সেখান থেকেই শুরু করছি। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে স্নান করে সবাই রেডি হয়ে নেই। তখন প্রায় সকাল সাতটা বাজে। সেই সময় আমাদের রুমে চা দিতে এলো। আমরা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম একটি গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
আমরা যেমন ঘুরতে এসেছি তেমন প্র্যাকটিক্যাল এর কাজ নিয়েও এসেছি। আমাদের কাজ হলো গ্রাম ঘুরে ঘুরে মানুষদের সার্ভে করা। তারা কীভাবে জীবন কাটায়, তাদের জীবনযাত্রা কেমন, বন্যার সাথে তারা কীভাবে মোকাবিলা করে ইত্যাদি এইসব।
সার্ভে করার জন্য আমরা একটা গ্রাম বেছে নেই। তারপর আমরা লঞ্চে করে সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। লঞ্চে উঠলাম, তারপর ছাড়লো। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের খেতে দিল। সকালের খাওয়া ছিল লুচি, ঘুঙ্গনি আর মিষ্টি। সবাই মিলে একসাথে খেয়ে নিলাম।
তারপর চেয়ারের উপর বসে নদী দেখছিলাম। নদীর কী মনোরম হাওয়া। বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সেই গ্রামটি চলে এলো, আমরা নেমে পড়লাম।
সেখানে স্যার আমাদের দুটো গ্রুপে ভাগ করে দিলো সার্ভে করার জন্য। দুটো গ্রুপ দু দিকে গেলো। তারপর আমরা আমাদের টপিক অনুযায়ী সার্ভে করতে শুরু করি এবং সেখানকার মানুষদের সাথে কথা বলি।
সেখানে একটা বাড়িতে আমরা একটা টিয়া পাখি দেখি, তবে সেই পাখিটি কথা বলতে পারত। তার সাথে আমরা বেশ মজা করে নেই। আমরা নাম বলছিলাম তো পাখিটিও নাম বলছিল, বেশ ভালো লাগছিল।
আমাদের সার্ভে করা হয়ে গেলে আমরা গ্রামটি ভালো করে ঘুরে দেখে নেই। বিভিন্ন ছবি তুলি ও ভীষণ মজা করি সবাইমিলে।
তারপর আমরা আবার লঞ্চের ওখানে ফিরে আসি। এসে খাওয়া দাওয়া করে নেই। সবাই ধীরে ধীরে ফিরে আসে এবং দুপুরের খাওয়া দাওয়া করে নেয়। তারপর আবার আমরা ফিরে যাই আমাদের হোটেল পাখিরালয়ে।
আমাদের ফিরে যেতে যেতে রাত হয়ে যায়। তারপর আমরা একটু রেস্ট নিয়ে নেই। তারপর একটু সেখানকার মার্কেটে বেরোই। ঘুরে এসে রাতে খেয়ে নেই। তারপর আর আমাদের ঘুম হয়নি, পুরো রাতই প্রায় জেগে জেগে কাটালাম। সব বান্ধবীরা মিলে একসাথে এক ঘরে বসে গল্প ও আড্ডা দেই। সবাই সবার মনের কথা শেয়ার করে। সবকিছু শেয়ার করলে মনটাও হালকা হয়।
সেই রাতে আমরা এইভাবেই রাত কাটাই। ভোরের দিকে একটু ঘুমিয়েছিলাম।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।






