ট্যুর সুন্দরবন - ৩য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা,
আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আজ শেয়ার করব কলকাতা থেকে কীভাবে সুন্দরবন গেলাম। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
আগের পোস্টে গল্প যেখানে শেষ করেছিলাম সেখান থেকেই শুরু করছি। সকাল সাড়ে ছটার দিকেই আমরা কলকাতা চিতপুর স্টেশনে নেমে যায়। তারপর সেখান থেকে আমাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রথমে আমাদের টিফিন দেয়। টিফিনে ছিল পাউরুটি, কেক, কলা ইত্যাদি। টিফিন খেয়ে আমরা বাসে উঠে পরি। বাসে করে আমরা শিয়ালদা স্টেশনে যাই।
শিয়ালদা স্টেশনে খুব ভিড় ছিল তাই আমরা সব ট্রলিগুলো একজায়গায় রেখে, ট্রলিগুলোর চারিপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শিয়ালদা স্টেশন থেকে আমাদের লোকাল ট্রেন ছিল...। ট্রেন থেকে কোথায় নামলাম সেটা ঠিক মনে নেই। তবে লোকাল ট্রেনের এক্সপেরিয়েন্স আমার প্রথম। প্রচণ্ড ভিড় ছিল ট্রেনে। স্যার সবাইকে বার বার সাবধান করছিল ফোন, বাগ ঠিক করে রাখতে। আমিও ভয়ে ভয়েই ছিলাম কারণ জানালার ধারে বসেছি, কেউ যদি ফোনটা কেড়ে নেয়। এইসব ঘটনা তো হয়েই থাকে মাঝে মাঝে।
যাইহোক প্রায় দু ঘণ্টা লোকাল ট্রেনে জার্নি করার পর আমরা নামলাম। এবার আমরা যাবো ক্যানিং এ। সেই জন্য আমরা অটোতে উঠে পরি। বেশ অনেকগুলো অটো বুক করতে হয়েছিল আমাদের।
অটো করে যেতে বেশ ভালো লাগছিল। বেশ হাওয়া দিচ্ছিল। এই গরমে হওয়ার খুব প্রয়োজন। আর লোকাল ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে বেশ গরম লাগছিল। তবে এখন বেশ ভালো লাগছে। রাস্তার দু পাশে ফাঁকা মাঠ। টানা এক ঘন্টা অটো জার্নি করে নামলাম। অটোতে থাকাকালীন দুটো নদীও দেখেছিলাম।
পৌঁছে গেলাম ক্যানিং এ। এখান থেকেই আমরা লঞ্চ এ উঠব। এই লঞ্চ এ করেই পৌঁছে যাব সুন্দরবন। নদীর পাড়ে প্রচণ্ড হওয়া দিচ্ছিল। তার মধ্যে ট্রলি নিয়ে লঞ্চে উঠা উফ! কী ভয় লাগছিল। তাও আবার নদীর পাড় থেকে কাঠের তৈরি একটি বাতার উপর দিয়ে হেঁটে লঞ্চে উঠতে হবে। কাঠের বাতার উপর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে একবার পরে গেলে সোজা জলে। তাও ভয়ে ভয়ে দড়ি ধরে সাবধানে লঞ্চে উঠলাম। উঠার পর যেন ভয়টা কাটল।
উঠার পরেই আমাদের স্বাগত জানালো একটি গোলাপফুল ও একটি এনার্জি ড্রিঙ্কস দিয়ে। আমাদের এটা দেখে বেশ ভালো লাগলো। এই গরমে এনার্জি ড্রিঙ্কস এর খুব প্রয়োজন ছিল। লঞ্চের দুটো কম্পার্টমেন্ট একটি উপরে আর একটি নীচে। প্রথমে আমরা নীচের কম্পার্টমেন্টে যাই ট্রলি গুলো রাখতে। নীচের কম্পার্টমেন্টটা বেশ সুন্দর। বিছানা আছে, বালিশ আছে সেখানে শুয়ে ও বসে থাকা যাবে। রেস্ট নেওয়ার জন্য একদম পারফেক্ট। এবার এখানে আমরা একটু রেস্ট নিয়ে নেই।
আজ এখানেই শেষ করছি। বাকি গল্প পরের পোস্টে শেয়ার করব। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।





