গাছের প্রথম ফুল
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই সুস্থ এবং ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাছের প্রথম ফুল নিয়ে।
প্রথম থেকেই শুরু করছি... একটা ফ্রেন্ডের বাড়ি গিয়েছিলাম মেলা দেখতে। মেলায় যাওয়ার আগে ফ্রেন্ড এর বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম এবং পুরো বাড়ি ঘুরেছি, ওদের অনেক বড়ো পরিবার। ওদের ওখানে আমি অনেক গোলাপ ফুলের গাছ দেখেছিলাম। তখন আমি ফ্রেন্ড কে বললাম কয়েকটা ডাল দেওয়ার জন্য, বাড়ি নিয়ে যাব। আমরা সবাই জানি গোলাপ গাছের ডাল থেকে নতুন চারাগাছ তৈরি করা যায় সামান্য যত্নের মাধ্যমেই। ডাল থেকে নতুন চারাগাছ তৈরি করতে আমার খুব ভালো লাগে। তখন সে আমাকে ডাল কেটে দিলো। মেলা ঘোরার পর। বাড়ি ফেরার সময় ডাল গুলো বাড়ি নিয়ে আসলাম।
মা কে দেখালাম, মাও নতুন চারাগাছ তৈরি করতে খুব পছন্দ করে। পরের দিন হতেই ডালগুলোকে ভালো করে কেটে নেই, তারপর বোতলের মধ্যে জল দিয়ে ডালগুলো ঢুকিয়ে দেই। তারপর বোতলের মুখের চারিপাশে কাপড় পেঁচিয়ে দেই যেন কোনো হাওয়া ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। কিছুদিন পরেই সেই ডালগুলো থেকে নতুন পাতা বেরোতে শুরু করে। যখন কোনো ডাল থেকে নতুন চারাগাছ তৈরি করা যায়,, তখন কতটা আনন্দ উপভোগ হয় সেটা বলে বোঝানো যাবে না, যদি সে নিজে এক্সপেরিয়েন্স না করে। তারপর ডাল গুলো বোতল থেকে বের করা হয় এবং মাটিতে লাগানো হয়। কিছুদিনের মধ্যেই আরও পাতায় ভরে উঠে গোলাপ গাছটি।
হঠাৎ একদিন দেখছি আমাদের ছোট্ট গোলাপ গাছে কুঁড়ি এসেছে। সে কি আনন্দ আমাদের, নিজের হাতে রোপণ করা গাছে কুঁড়ি এসেছে। বাড়িতে প্রথম সন্তান হলে যেমন আনন্দ উপভোগ হয় ঠিক তেমনি অনুভব হচ্ছিলো....গাছের প্রথম কুঁড়ি।
তারপর ধীরে ধীরে কুঁড়িটি বড় হচ্ছিল আর আমরা সবাই অপেক্ষায় ছিলাম কবে কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটবে। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটলো। অপূর্ব ছিল ফুলটি।
ফুল ফোটার পর গাছটি যেন পরিপূর্ণ হলো। এই যে নিজের হাতে তৈরি করা গাছ থেকে ফুল ফুটলো....এটা কিন্তু কোনো ছোট ব্যাপার না। যারা করে তারাই বোঝে কতটা আনন্দ অনুভব হয়, কতটা শান্তি পাওয়া যায়।
হয়তো আমি আমার পুরো ফিলিং লিখে বোঝাতে পারছি না...সবটা লিখে বোঝানো সম্ভবও না। এই ডাল থেকে চারা তৈরির পুরো জার্নিতে মা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। মা ছাড়া হয়তো আমি একা একা এতটা করতে পারতাম না। একটি চারাগাছ তৈরি থেকে সেটি বড় করা, এটা একটি সন্তান বড় করার থেকে কম কিছু না।
আমি চাই আপনারাও চারাগাছ রোপণ করুন এবং মানসিক শান্তি উপভোগ করুন। আজ এই পর্যন্তই....। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।




