স্মৃতিগুলো যখন অন্যের হয়ে যায়!
Hello Everyone,,,
সময়ের সাথে সাথে আমাদের চারপাশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। পরবর্তীত অনেক কিছুই হয়ত আমরা মেনে নিতে পারি না তবুও মানতে হয়, নত স্বীকার করতে হয় পরিস্থিতির কাছে।
কখনও কখনও পরিস্থিতিগুলো আমাদের শিকড় নাড়িয়ে দেয়। নিজের সম্বল, নিজের স্মৃতিগুলো অন্যের হয়ে যেতে দেখে নিজেকে অসহায় মনে হয়। তবে তার থেকেও অসহায় মনে হয় যখন সেগুলোকে আর আকড়ে ধরার উপায় থাকে না।
সবটাই হয়ত ঈশ্বরের ইশারায় হচ্ছে, সবকিছু মানতে হয়ত বাধ্য আমরা তবে মন মানতে চায় না। যাই হোক না কেন, আমরা তো সবাই মানুষ, চাইলেও নিজের আবেগ, ভালোবাসাকে দুরে ঠেলে দিতে পারি না।
আজ হঠাৎ করে কেন এই কথা বলছি?
যদিও ঘটনাটা পুরোনো। তবে পুরোনো ঘটনাগুলো যখন আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেগুলো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
হয়ত সময়ের সাথে সাথে অনুভূতিগুলো পরিবর্তন হতে থাকে হয়ত অধিকার হ্রাস পেতে থাকে।
এবার আসল ঘটনায় ফিরি।
ছবিতে আপনারা যে জায়গাটা দেখতে পারছেন সেটা একসময় আমাদের ছিলো। এখানে মোট ১২ বিঘা জায়গা। ২০ কাঠাকে এক বিঘা ধরা হয়।
একটা সময় আমাদের ছিলো এটা শুনে বুঝতেই পারছেন এখন আমাদের নেই।
সেটা বহু আগের ঘটনা,
তখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নি। তবে যুদ্ধের সময় আমার দাদুরা ভারতে চলে যায়। তবে যাওয়ার আগে আমাদের এই সকল জায়গা অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে যায়।
যদিও তখন বাজার মূল্য ছিলো এখনকার তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া দেশের ঐ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনেক মূল্যে বিক্রি করে দেয়।
তবে যুদ্ধ শেষে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন আমার দাদু এই দেশে চলে আসে। আমার দাদুরা চার ভাই, দুই ভাই ভারতে থেকে যায় আর অন্য দুই ভাই বাংলাদেশ চলে আসে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের প্রতি ভালোবাসা ও নিজের ছোটোবেলার বাসস্থানের প্রতি টান যেটাই বলি না কেন, এগুলোর কারনেই দাদু চলে আসে।
আমরা এই সব বিষয়ে বাবা ও দাদুর কাছ থেকেই শুনেছি। এখন চোখের সামনে যখন নিজেদের পূর্বপুরুষের জায়গায় অন্য কাউকে দেখি তখন একটু হলেও খারাপ লাগা কাজ করে।
জানি এই খারাপ লাগার কোনো অর্থ হয় না। তবে হাজার হলেও নিজের পূর্বপুরুষ পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি এগুলো।
যেটা চলে গেছে সেটার উওর কোনো মোহ নেই ঠিকই তবে সেটার সাথে জড়িয়ে আছে আবেগ।
এমনও শুনেছি, এই জমি বিক্রি করার সময় আমার দাদু বারন করেছিলো। তবে দাদুর বড় ভাই মানে আমার বড় দাদু কারো কথা শুনতো না।
আমারও দাদুও বড়ো ভাইয়ের মুখের উপর কথা বলতো না, খারাপ হলেও সিদ্ধান্ত মেনে নিতো। যেটা এখনকার সময়ে দেখা যায় না।
তবে একটা কথা আমার কাছ স্পষ্ট যে,
অতিরিক্ত সহজ সরল হলে তার সাথে খারাপ কিছুই হয়। দাদু যদি তখন ভারতে থেকে যেতো তাহলে হয়ত আমরা শুধু মুখেই এসব গল্প শুনতাম, নিজের চোখে দেখতাম না তাই হয়ত খারাপ লাগা কাজ করতো না।
দাদু যে তখন বাংলাদেশে চলে আসে তার পিছনে অনেক বড় একটা কারনও ছিলো।
এই দেশ থেকে টাকা নিয়ে ভারতে আমার সব দাদুর নামে জায়গা রাখে তবে আমার দাদুকে কেউ কিছুই জানায় না । একমাত্র দাদুর নামে কোনো জায়গা ছিলো না। আগেই বলে রাখি আমাদের ছিলো জয়েন্ট ফ্যামিলি।
এটা দেখে আমার দাদু রাগ করে চলে আসে বাংলাদেশ। এজন্যই বললাম, অতিরিক্ত বিশ্বাস আর সরলতাই কাল হয়ে দাঁড়ায় অনেকের জীবনে।
আমার দাদুকে অন্য ভাইরা ঠকিয়েছে তবে আমার দাদু তাদের ঠকায়নি এটাই গর্ব অন্তত আমার কাছে। তার দেখানো পথেই চলার চেষ্টা করি।
যাই হোক, অনেক কথাই বলে ফেললাম। আজ দাদু বেঁচে নেই ঠিকই তবে তার দেখানো পথ অনুসরণ করতে চাই সারাজীবন।



Curated By: @damithudaya
Thank you Very much for your support.