গ্রামের নামযজ্ঞ।
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও মোটামুটি ভালো আছি। তবে কিছু দিন আগে শরীরটা ঠিক ছিলো না, কিছুটা অসুস্থ হয়েছিলাম। তবে এখন ঠিক আছি।
কিছু দিন আগে মামা বাড়িতে গিয়েছিলাম সেটা আপনাদের সাথে পূর্বেই শেয়ার করেছিলাম। ৫ দিন থাকার পর বাড়িতে চলে আসি। সাধারণ মামা বাড়িতে গিয়ে ২ দিনের বেশি থাকি না তবে এবার অনেক দিন রয়েছি।
সত্যি বলতে, আমার বেড়াতে যাওয়ার জায়গা বলতে মামা বাড়ি, তাছাড়া অন্য কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।
মামা বাড়িতে যাওয়ার আগে আমাদের গ্রামে নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। তবে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয় নি।
আমি আপনাদের সাথে হয়ত আগেও শেয়ার করেছি যে, আমাদের গ্রামে তিন জায়গায় নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়। আমার বাড়ির পাশে এখন্ও হয় নি তবে আজ যেখানকার গল্প শেয়ার করছি সেটা আমার বাড়ি থেকে ১৫ মিনিটের পথ।
সন্ধ্যার পর কয়েকজন মিলে রওনা দিলাম। দুর থেকে নাম যজ্ঞের সুর ভেসে আসছে, আমিও হেঁটে চললাম সেই দিকে।
দাদুর কাছে শুনেছি, আগে নাম যজ্ঞ হতো কিন্তু এখন কার মতো কোনো প্রকার আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ছিলো না, এখন কার মতো মাইক বা বড় বড় স্পিকার ছিলো না।
করতাল আর বাঁশির সুরে সবার মন জুড়িয়ে যেতো। সেই তুলনায় এখন অনেক রকমের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করা হয়। সত্যি বলতে, এখন নাম যজ্ঞে নামের তুলনায় বাদ্যযন্ত্রের বাজনাই বেশি শোনা যায়।
ধর্মগ্রন্থ ও পুরানে সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপর যুগ আর কলিযুগের কথা বলা হয়েছে। একটা সময়ে মানুষ ধর্মের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করতো না। কিন্তু সেই পুরাণে বলা হয়েছে, কলিযুগ টাকার বিনিময়ে কৃষ্ণনাম বিক্রি হবে।
আমরা আসলেই এখন সেই দিকটার সামনে দাঁড়িয়ে আছি যখন মানুষ ভক্তি আর ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ থেকে নয় বরং টাকার বিনিময়ে কৃষ্ণনাম গাইছে।
তবে হ্যা, এখনও অনেক ব্যতিক্রমী মানুষ রয়েছে যাদের সংখ্যা সংখ্যা খুবই কম।
আমরা সন্ধ্যার দিকে গিয়েছিলাম তাই তখন লোকজনের ভীড় ছিলো অনেক তাই দাঁড়িয়ে ছিলাম।
মাঝে মাঝে আমি পুরাণে বর্নিত তখনকার মানুষের সাথে এখনকার সময়ের মিল বা পার্থক্য খোজার চেষ্টা করি।
শুনেছি আগের যুগের মানুষ কৃষ্ণ নাম শুনলে চোখ দিয়ে জল চলে আসতো, নামের মধ্যে কি এমন জাদু ছিলো যার জন্য এমন হতো?
সত্যি বলতে, এখন কয়জন কাঁদে ??
সত্যি তো এটাই যে, এখনকার মানুষ কৃষ্ণনাম শোনে তো বটেই তবে মন থেকে উপলব্ধি করে না হয়ত করার চেষ্টাও করে না। যদি কেউ মন থেকে কৃষ্ণ নামের ভিতর প্রবেশ করতে পারে বা উপলব্ধি করে তাহলে তার চোখ দিয়ে জল আসবেই। কিন্তু আমাদের মন তো নানাবিধ ষড়যন্ত্র আর হিংসায় পূর্ণ।
![]() | চটপটি। প্রতি প্লেট ৩০ টাকা * ৪ প্লেট = ১২০ টাকা ( ১৬ স্টিম) |
|---|
অনেক কথা বলে ফেললাম, হয়ত আমি সঠিক আবার ভুলও হতে পারি। যদি ভুল কিছু বলে থাকি তাহলে মাফ করে দিবেন।
কিছু সময় পর আমরা বাজারে চলে যাই। চটপটির দোকান থেকে সুন্দর ঘ্রাণ আসছিলো। মানুষের বরাবরের স্বভাব, সুন্দর কিছুর আভাস পেলে সেদিকে এগিয়ে যাওয়া। আমরা ব্যতিক্রম নই তাই চটপটির দোকানে এগিয়ে যাই। চারজনের জন্য চটপটি অর্ডার করি।
চটপটি খাওয়ার পাশাপাশি আমরা আরও কিছু খাবার খেয়েছিলাম তবে সেগুলোর ছবি তোলা হয় নি।
বাজারের খাবার আমি সচারাচর খাই না। তবে মাঝে মাঝে না খেলেও নয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে আমার পেটে ব্যথা শুরু হলো, বেশ অস্বস্তি লাগছিলো।
যাই হোক, রাত ১২ টার দিকে আমি বাড়িতে চলে আসি। একটা কথা বার বার আমার ভাবি, যত দিন যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে সততা,নিষ্ঠা, বিবেক দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
আমরা প্রত্যেকেই নিজের কষ্ট তো বুঝি তবে অন্যেকে কষ্ট দেওয়ার সময় মনে করুনা থাকেে না বিন্দুমাত্র। যাই হোক, আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি, সকলে অনেক ভালো থাকবেন।






Thank you ma'm for your support.