নাম তার লক্ষী!
আশা করি, সবাই অনেক বেশি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ পোস্টটা লিখতে বসেছি খুব ভালো লাগা নিয়ে, মনের ভিতর অদ্ভুত এক শান্তি নিয়ে।
কিছু মুহুর্ত ভাবতে যতটা না ভালো লাগে তার থেকেও বেশি ভালো লাগে অন্যের সাথে শেয়ার করতে। আনন্দের মুহুর্ত শেয়ার করলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়!
বিগত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আমাদের বাড়িতে নতুন একজন সদস্য যুক্ত হয়েছে। এই সদস্যের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা সবাই। মনে মনে ঈশ্বরের কাছে বলতাম ও যেন ভালো ভাবে পৃথিবীতে আসতে পারে।
সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার!
বাবা বাড়িতে ছিলো না। আমি আর মা সকালে ভাত খেতেই বসছিলাম তখন নতুন অতিথি পৃথিবীতে আসার মুহুর্ত উপস্থিত ।
যাই হোক, মা বাড়ির পাশে একটা দাদাকে ডাক দেয় কারন দাদা এই বিষয় বেশ অভিজ্ঞতা। কিছুক্ষণ বাদে আমাদের মাঝে উপস্থিতি হলো ফুটফুটে একজন নতুন সদস্য।
মায়ের পেট থেকে বাইরে এসে কিছুক্ষণ পরই উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলো তবে পড়ে পড়ে যাচ্ছিলো। উঠতে গিয়ে যতবার পড়ে যাচ্ছিলো ওর মা ডাক দিয়ে উঠছিলো আর ছটপট করছিলো। মনে হচ্ছিলো ওর মায়ের আঘাত লাগছে।
মায়েরা এমনই হয়!
সন্তানের বিপদ দেখলে মা সব থেকে বেশি হাহাকার করতে থাকে। প্রতিটা প্রাণীর মাঝেই কিছু মিল রয়েছে। মায়ের অনুভূতিতে কোনো পার্থক্য থাকে না, সে হোক মানুষ অথবা অন্য কোনো প্রাণী।
মনে মনে ভাবছিলো ওর একটা নাম রাখতে হবে। কি নাম রাখা যায় সেটা ভাবতে ভাবতে মনে হলো, ও যেহেতু বৃহস্পতিবারে জন্মেছে তাই মা লক্ষী নামেই ওর নাম রাখা যাক। তাই ওর নাম লক্ষী রাখলাম।
তারপর থেকে বাড়ির সবাই ওকে লক্ষী বলে ডাকে।
২ সপ্তাহ আগে ও আমাদের মাঝে এসেছে তারপর থেকে ওকে এই নামেই ডাকছি। এখন ওকে লক্ষী বলে ডাক দিলে সাড়া দেয়।
যখন বিলে ঘাস খেতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন ওকে নাম ধরে ডাকলেই দৌড়ে কাছে চলে আসে।
কি তার দুরন্তপনা!
এদিক ওদিক দৌড়াতে থাকে সব সময়। ভালোবাসা পেলে ভালোবাসা দিতে হয় সেটা বোধহয় এদের কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে!




