বন্ধুর মেয়ের সাথে দুষ্টামি!

in Incredible Indialast month

সম্পর্ক?
না হ, খুব বেশি দিনের নয়। খুব বেশি দিনেরও নয়।
মিনিট কয়েক আগেও হয়ত আমাকে চিনতো না। তবে কিছু সময়ের মধ্যে কতটা মিশে গেছে আমার সাথে, ভাবতেই ভালো লাগছে।

কোনো স্বার্থ, হিংসা আর প্রতিদানের কথা না ভেবে হয়ত এমন ভাবে কেবল শিশুরাই ভালোবাসতে পারে।

আপনার হয়ত বুঝতে পারছেন না, আমি কার কথা বলছি!
বুঝতে না পারারই কথা!
আমার বন্ধুর মেয়ে! সরস্বতী পূজার সময় একসাথে অঞ্জলি দিতে বসেছিলাম। প্রথমে আমি ওকে কোলে নিতে চাইলে আমার কাছে আসছিলো না। তবে কিছু সময় বাবাকে নিয়ে আমার পাশে বসে থাকার কারনে আমার প্রতি হয়ত কিছুটা বিশ্বাস আর ভালোবাসা জন্মেছে।

শেষবার ওকে দেখেছিলাম ওর অন্নপ্রাশনের সময়। বন্ধুরা মিলে ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন খুব ছোটো ছিলো তাই আমার কথা মনে না থাকার কথা নয়।
প্রথমে চুপচাপ থাকলেও একটু পর আমাকে ডেকে ওর হাতের চুড়িগুলো দেখিয়ে বলছে এগুলো নাকি ওর বাবা কিনে দিয়েছে।

মেয়েদের ভালোবাসা বাবার প্রতি খানিক বেশি থাকে ছোটোবেলা থেকে। আমি ইতোমধ্যে অনেকবার কৌশিকের কথা আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি তবে আমাদের সাথে চঞ্চলও ছিলো। সেই ছোট্টবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি আমরা।

চঞ্চল বিয়ে করেছে কয়েকবছর আগে এর পিছনে অবশ্য কারন রয়েছে। পরিবারের দায়িত্ব খুব অল্প বয়সে কাঁধে তুলে নিয়েছে। আপনাদের সাথে কিছুটা শেয়ার করা যাক -
২০২০ সালের দিকে চঞ্চলের বাবা একটা দুর্ঘটনায় পড়ে। সবাই মিলে গাছ কাটছিলো কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছটা ওর বাবার পায়ের উপর পড়ে।

বুঝতেই পারছেন পায়ের উপর গাছ পড়লে কি অবস্থা হতে পারে। অনেকবার অপারেশন করেছে কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি এখনও। সেখান থেকে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে ওকে।

হয়ত চঞ্চলের জীবনটা স্রোতের বিপরীতে চলছে তবে বাড়িতে ফিরে ওর মেয়ের দিকে তাকালে আর মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনলে সব খারাপ গুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও দুর হয়ে যায়।
পূজা শেষ হওয়ার পর ওর পাশে বসে বক বক করতে করতে বাড়িতে আসার কথা ভুলে গিয়েছিলাম আমি।

কিছু কিছু ভাবনার না আছে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আর না আছে সমাপ্তি! ওর ভাবনায় তার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট।
আমাকে ওর বাবার গায়ে স্পর্শ করতেও দিচ্ছে না। চঞ্চলের গায়ে হাত দিলে সরিয়ে দিয়ে বলছে, আমার বাবা।
বাবার ভালোবাসার এতটুকু ভাগও কাউকে দিতে চায় না।

সব থেকে ভালো লেগেছে কখন জানেন?
যখন ওর ছবি তুলছিলাম! ওর দিকে ক্যামেরা ধরলেই ওর ভঙ্গিমা পাল্টে যাচ্ছিলো।
ক্যামেরা দিকে তাকিয়ে ছবি তোলার জন্য নানা ভাবে পোঁচ দিচ্ছিলো যেটা দেখে এত বেশি হাসি পাচ্ছিলো কি আর বলবো। আপনারা ওর ছবিগুলো দেখে বুঝতে পারছেন হয়ত।

অনেক কিউট লাগছিলো তাইনা!
হাতের চুড়িগুলো বড় হয়ে গিয়েছে তাই কনুই পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে, ও নিজে পছন্দ করে কিনেছে!

সত্যি আজ মন খুলে হাসলাম। মনে হচ্ছিলো ওকে আমার সাথে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। ওকে রেখে আসতে ইচ্ছে করছিলো না।।

ওকে দেখে মনে হচ্ছিলো বাবা পাগল একটা মেয়ে। চঞ্চলের জীবনের অনেক কিছুর সাক্ষী রয়েছি আমরা। প্রত্যেকের জীবনে খারাপ সময় ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। তবে একটা সময় ভগবানও পাশে দাঁড়ায়। চঞ্চল ওর পরিবারকে নিয়ে অনেক ভালো থাকুক এই প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।

Posted using SteemMobile

Sort:  
Loading...
 last month 

Thank you Very much for your support.

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.061
BTC 66836.63
ETH 2050.73
USDT 1.00
SBD 0.51