কালী পূজার মুহুর্ত।
আমার কাছে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, আমার সব থেকে আমার জীবনে সব থেকে শান্তির মূহুর্ত কোনটা?
আমি কোনো ভাবনা ছাড়াই উওর দিবো, বড়মার সামনে দাঁড়িয়ে অবিচল দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকা!
জীবনের কত উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়। মন খারাপের সাথে লড়াই করতে হয় প্রতিটা মুহুর্তে। এমন একটা বিরক্তিকর জীবনের সব থেকে বড় প্রাপ্তি হলো মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নেওয়া।
অনেক দিন সৌভাগ্য হয় না মায়ের পূজা দেখার।
তবে এবার মাসির বাড়ি থেকে কালীপূজার নিমন্ত্রণ পেয়েছি। মাসির একটা মানত ছিলো তাই বাড়িতে কালী মায়ের পূজা দিচ্ছে। যদিও বাবার যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু কিছু কারনবশত বাবা যেতে পারবে না তাই আমাকেই যেতে হবে।
তাই মায়ের পূজা দেখার এই সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চাইনা। তাই তো বিকালে রওনা দিলাম মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। আমার সাথে পানখালি থেকে দিদি ও দাদাবাবুও যাবে মাসির বাড়ি।এই মাসির বাড়ি আমি আগে কখনও যায়নি, গিয়েছি সেটা অনেক ছোটোবেলায়।
যেহেতু কালীপূজা রাতে হয় তাই আমরা বিকালে রওনা দিলাম। হ্যা, রওনা হওয়ার আগে বাজারে গিয়ে মিষ্টি কিনে আনি। তারপর মাসির বাড়ি রওনা হলাম। মাসির বাড়ি যেতে মিষ্টির তেমন কোনো দোকান নেই তাই আমাদের বাজার থেকে কিনে আনি। মাসির বাড়ি যেতে খুব বেশি সময় লাগে না ১ ঘন্টার মতো সময় লাগে।
ভেবেছিলাম সন্ধ্যার আগে পৌছে যাবো কিন্তু সেটা হয় নি। শীতের সকাল থেকে দুপুর হতো যতটা সময় লাগে দুপুর থেকে সন্ধ্যা হতে তার অর্ধেক সময় লাগে হয়ত, এমটাই মনে হয় আমার কাছে!
মাসির বাড়ি পৌঁছে অচেনা পূজার আয়োজনে সামিল হলাম। সর্বপ্রথম মাকে প্রমাণ করলাম। পূজা শুরু হবে ১১.৪৫ থেকে তাহলে ভোর হতে হতে পূজা শেষ হয়ে যাবে।
সত্যি বলতে, আমি পূজা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কালীপূজায় কত শত জিনিসপত্র জোগাড় করতে হয়। মাকে খুশি করার জন্য প্রতিটা বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। তবে আমি মনে করি, মাকে খুশি করার জন্য সর্বপ্রথম নিজের মনকে শুদ্ধ করা প্রয়োজন।
আমরা বাহিরে ভক্তি দেখালেও মনে থাকে হিংসায় পূর্ণ।
সময় মতো পূজা শুরু হলো সেই সাথে বেজে উঠলো ঢাকের শব্দ। বাইরে বৃষ্টির মতো করে কুয়াশা পড়ছে। সামিয়ানা দিয়ে ফোটা ফোটা জল পড়ছে, ঠান্ডায় গায়ে কাঁপুনি ধরছে।
এদিকে ব্রাহ্মণ মশাই পূজার কাজ করছে। রাত দুটোর দিকে ঘরে গিয়ে খানিক ঘুমানোর চেষ্টা করলাম, তখনও পূজা শেষ হয় নি। আমি যেহেতু উপোস ছিলাম না তাই অঞ্জলি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করিনি। যদিও ঘুমোতে গিয়েছিলাম কিন্তু ঘুম হয় নি এতটুকুও।
অনেক দিন পর সামনে থেকে মায়ের পূজা দেখা মনটা ভালো হয়ে গেলো। ভুল করলে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা পাওয়া যায় কিন্তু ইচ্ছে করে অপরাধ করলে সে ক্ষমার অযোগ্য। উদ্দেশ্যে যদি সৎ থাকে তাহলে দেরিতে হলেও ঈশ্বর তার মনের ইচ্ছে পূরণ করেন। সকলে অনেক ভালো থাকবেন। আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি।




Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟