চড়কপূজা, পর্ব -১
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। চৈত্র মাসকে ধর্ম মাস বলা হয়। একারনে চৈত্র মাসে অনেকেই নিরামিষ খেয়ে থাকে।
চৈত্র মাস আরও একটা কারনে স্পেশাল কারন এই মাসে চড়কপূজা করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত ধরনের পূজা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিটাই আমাদের জন্য অনেক বেশি আবেগ ও ঐতিহ্যবাহি।
আমি মনে করি, চড়কপূজা বাস্তব পূজা কারন চোখের সামনে যে বিষয়গুলো ঘটে সেগুলো সাধারণ চোখে বিশ্বাস করা কঠিন। আমাদের আশেপাশে অনেক নাস্তিক রয়েছে তাদের একবার হলেও চড়ক পূজা দেখা উচিত।
চড়ক পূজা শুরু হয়েছে কয়েকদিন যাবত। আমি খুলনাতে ছিলাম তাই প্রথম থেকে দেখার সুযোগ হয়নি।
আমাদের গ্রামে চড়কপূজা আগে কখনও হয় নি। তবে এবার আমাদের গ্রামের লোকজনের উদ্যোগে চড়ক পূজা করা হয়েছে। আশা করি, পরবর্তী বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে।
একটা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে যতটা না ভালো লাগে তার থেকে অনেক অনেক বেশি কঠিন সেটা সঠিক ভাবে পরিচালনা করা। সেটা যদি হয় চড়কপূজা তাহলে তো কথাই নেই।
আপনারা যারা স্বচক্ষে চড়কপূজা দেখেছেন তারা হয়ত বুঝতে পারছেন যেন কেন আমি চড়কপূজা কে বাস্তব পূজা বললাম!
চড়কপূজা মূলত শিব ঠাকুরের পূজা। পূজায় একটু ভুল হলেই শিব ঠাকুর হারিয়ে যায়। তখন অনেক কষ্ট করে ঠাকুর কে ফিরিয়ে আনতে হয়। মূলত যার জন্য বা যেকারনে ভুল হয়েছে তাকে বা কখনও কখনও সবাইকে বেত দিয়ে মারা হয় এবং ক্ষমা চাইতে বলা হয় তারপর ঠাকুর ফিরে আসে।
শুনতে ভীষণ অবাক লাগছে তাইনা!
অবাক লাগারঔ কথা তাই তো বললাম চোখে না দেখলে এগুলো কাউকে বিশ্বাস করানো সম্ভব নয়।
পূজা শেষ হতে যখন আর দুদিন বাকি তখন আমি বাড়িতে চলো আসি। শেষ দু'দিনে অনেক অনুষ্ঠান হয়। আজ বিকালে খেজুর ভাঙা। আশা করি, আপনারা অনেকেই খেজুর ভাঙা দেখেছেন!
প্রথমে পূজার অনেক পর্ব শেষ করতে হয়। প্রতিটা নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। খেজুর গাছের পূজা করা হয়।
অনেক মানুষ জড় হয়েছে। শুধু যে আমাদের ধর্মের লোকজন এসেছে তা নয়, অন্য ধর্মের লোকজনও এসেছে পূজা দেখতে, তারাও ভীষণ আগ্রহের সাথে পূজা দেখছে।
পূজার পর্ব ও সকল নিয়ম সম্পন্ন করে খেজুর ভাঙা আরম্ভ হলো। দু'জন সন্ন্যাসী খেজুর গাছে উঠে পড়লো। আমি আগেও খেজুর ভাঙা দেখেছি, ৪-৫ জন লোক গাছে ওঠে তবে এবার দেখলাম মাত্র দু'জন উঠেছে।
ঠাকুরের কৃপা না থাকলে এভাবে খেজুর গাছে উঠে খেজুর ভাঙা সম্ভব নয়!
একপর্যায়ে সন্ন্যাসীরা আমাদের উদ্দেশ্যে খেজুর ছুঁড়ে মারছিলো, আমি কয়েকটা ধরতে পেরেছিলাম এটাই সৌভাগ্যের।
আমিও নিজেও আগে চড়ক পূজার ব্যাপারে অনেক কিছু শুনেছি তবে নিজে চোখে না দেখলে এত কিছু বিশ্বাস করতাম না।
যখন খেজুর গাছের পূজা করা হয় এবং মন্ত্র পড়া হয় তখন আস্তে আস্তে খেজুর গাছের ডালগুলো দুর্বল হতে থাকে এবং নিচের দিকে নুয়ে আসতে থাকে এটা সামনে উপস্থিত সবাই দেখতে পায় তাই বিশ্বাস না করেও উপায়।
সন্ন্যাসীরা যখন গাছে উঠবে তখন যাতে করে ওদের কিছু না হয় সেজন্যই মূলত এমনটা হয়ে থাকে। আজ শুধুমাত্র খেজুর ভাঙা হয়েছে পরবর্তী দিন পূজার পরবর্তী পর্ব শেয়ার করবো, আজকের মতো বিদায় নিলাম।
কে বলে ঈশ্বর নেই! ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে হলে প্রয়োজন ভক্তি ও বিশ্বাস!




Thank you ma'm for your support 🥰