রাসমেলা!
আশা করি, আপনারা সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি।
কয়েকদিন আগে ছিলো রাসমেলা। বিশেষ করে কার্তিক - অগ্রহায়ণ মাষের পূর্নিমা তিথিতে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সুন্দবনের দুবলার চরে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে অনেক মানুষ সুন্দবনের দুবলার চরে যায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য।
তবে আমার আজ পর্যন্ত কখনও সুন্দবনের দুবলার চরে যাওয়া হয় নি। তার একটাই কারন জল আমি ভয় পাই। সাগরে যাওয়ার কথা শুনলেই আমার ভয় করে তাই এখনও পর্যন্ত যাওয়ার সাহস হয় নি।
ঈশ্বর যদি চায় তাহলে হয়ত কোনো একদিন যেতেও পারি। আমার মামা বাড়ি থেকে সুন্দরবন যাওয়াটা সহজ। আমার মামাও প্রতি বছর যায়, এমনকি মামার নিজের ট্রলার আছে এবং তাতে করেই সকলে মিলে যায় কিন্তু আমার যাওয়ার সাহস হয় নি কখনও।
সুন্দরবন না গেলেও বাড়ির পাশে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে যাওয়ার সুযোগ মিস করি না।
সুন্দরবন গেলে ট্রলারে অনেক দিন থাকতে হয় আর তাছাড়া তুফান হলে আমার ভীষণ ভয় লাগে।
প্রায় ৪/৫ দিন নদীতে ভেসে থাকতে হয় এসব কারনেই মূলত কখনও যাওয়ার সাহস হয় নি। যাই হোক, আমার বাড়ির খুব কাছেই, হেটে যেতে ৬/৭ মিনিট সময় লাগে সেখানে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে খাওয়া দাওয়া করে বাড়িতে বসে ছিলাম। তখন এক বন্ধু ফোন দিয়ে বললো রাসমেলা যাওয়ার জন্য সকলে বেরিয়ে পড়েছে তাই আমিও সাথে সাথে রওনা হলাম তাদের সাথে সামিল হওয়ার জন্য।
তবে রাসমেলায় স্নান করার জন্য অনেক মানুষ একত্রিত হয়।
সব থেকে বেশি আনন্দ লাগে কেউ ডাব ছেড়ে দিলে সেটা ধরার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু হয়।
ডাব খাওয়াটা আসল উদ্দেশ্য নয় বরং এত মানুষের মধ্যে থেকে নিজে ডাব ধরতে পারার মধ্যে এক অন্য রকম আনন্দ আছে।
আমরা যাওয়ার একটু বাদেই স্নান শুরু হয়।
নদী থেকে আমরা খানিক দুরে থাকায় জোয়ারের জল আসতে একটু দেরি হয় তাই স্নানও দেরিতে শুরু হয়।
যাই হোক, মা গঙ্গার পূজা শেষ হওয়ার পরই স্নান শুরু হয়। আমরা যতজন গিয়েছিলেন সেখান থেকে তিনজন জলে নামে ডাব ধরার জন্য আর বাকিটা উপরে থাকি ওদের কাছ থেকে ডাব নেওয়া জন্য।
ওরা ডাব ধরে আমাদের কাছে দিচ্ছিলো আর আমরা একজায়গায় জমা করছিলো। যদিও আমি জলে নামিনি কারন একটু খানি সাতার কাটলে আমার কষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে স্নান করি না অনেক দিন, নিয়মিত সাঁতার না কাটার অভ্যাস না থাকলে অল্পতেই কষ্ট হয়ে যায়।
আমাদের বাড়ি থেকে দাদা, বৌদি আর পুচকিটাও গিয়েছিলো। ও তো আমার কোল থেকে নামবে না। যাই হোক, অনেক ক্ষণ যানত সবাই মিলে মজা করলাম।
আমরা অনেকগুলো ডাব পেয়েছিলাম। পরে ডাব গুলো কেটে সবাই মিলে খেয়েছিলাম। সত্যি বলতে, এই ধরনের মুহুর্তগুলো জীবনে অনেক প্রয়োজন, অন্ততপক্ষে একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। অনেক দিন বাদে আজ সকলে একসাথে অনেক হৈ-হুল্লোড় করলাম।
যাই হোক, আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সকলে অনেক ভালো আছেন।





Curated by: @ahsansharif
Thank you Very much for your support.