দিবস: মহান স্বাধীনতা দিবস অমর হোক।

সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। আজকের দিনে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে নতুন একটি দেশের জন্মদানের সূচনা হয়।শুধু ২৬ মার্চ ঘোষণা দিয়েই দেশ স্বাধীন হয়নি। তার আগেও ছিল লড়াই সংগ্রামের গৌরবের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর আমাদের দেশ ছিল পাকিস্তানের অংশ। পূর্ব পাকিস্তান নামে ছিল পরিচিতি। শুধু মাত্র ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী একের পর এক বৈষম্য করতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানের উপর। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ছাড়া ভাষ,সংস্কৃতি, সামাজিকতা, আচার -আচারণ সবকিছুই ছিল ভিন্ন। ধর্মের দোহাই দিয়ে অন্যায্য রীতি নীতি চাপিয়ে দিতে চায় পূর্ব পাকিস্তানি তথা আমাদের বাঙ্গালির উপর। পাকিস্তানিরা প্রথম আঘাতটি হানে আমাদের মায়ের ভাষা বাংলার উপর। পাকিস্তানিদের ভাষা উর্দু জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়, আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা কেড়ে নিতে চায়। বাংলার মানুষ ও ছাত্র সমাজ গর্জে উঠে। পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার রাজপথে রফিক,শফিক, জব্বার,সালামসহ অসংখ্য ছাত্র তরুণ পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে লড়াই করে প্রাণ বিসর্জন দেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্র ভাষায় মর্যাদা পাত বাংলা ভাষা।পাকিস্তানিদের পতনের শুরু হয় সেই দিন থেকে।

20260324_174054.jpg

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার যে বীজ বপিত হয়েছিল তারেই ধারাবাহিকতায় ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ র শিক্ষা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা,৬৬ র ছয়দফা ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ( সরওয়র্দি উদ্যান) ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত করেছে। ৪৭ এর পর থেকে স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাকিস্তানি সরকার জেল জুলুম, হত্যা নির্যাতন চালিয়েছে। পাকিস্তানি শাসকের শত নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার সহ্যকরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি ছিল ঐক্যবদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামিলীগ, মাওলানা ভাসানীর ন্যাপসহ বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক দল ছিল ঐক্যবদ্ধ। স্বাধীনতার প্রশ্নে আপষহীন। শুধু তৎকালীন মুসলিম লীগ ও জামায়েতে ইসলামী ছিল পাকিস্তানি সরকারের দোসর। তারা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ৯ মাস ব্যাপী যে যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল, সে যুদ্ধে পাকিস্তানি সরকারের পক্ষে ছিল মুসলিম লীগ,জামায়াতে ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন। তারা সেসময় রাজাকার, আল বদর,আল সামসের ভূমিকা পালন করেছিল।

স্বাধীনতা দিবস শুধু একদিনের ঘোষণা নয়। ঘোষণার পূর্বের যে ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রাম তারেই অংশ মাত্র। পাকিস্তানি শাসক ২৪ বছরে পূর্ব পাকিস্তানের উপর যে বৈষম্য, অনাচার, অত্যাচার করেছে, বাঙ্গালির স্বাধীনতা ছাড়া বিকল্প ছিলনা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসরেরা ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর গণহত্যা শুরু করেছিল, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধ।

মহান স্বাধীনতা দিবসে সকল বীব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
মহান স্বাধীনতা দিবস অমর হোক।

ঢাকা-বাংলাদেশ।
২৬ মার্চ,২০২৬।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.062
BTC 67113.47
ETH 2055.97
USDT 1.00
SBD 0.48