খুশি করার চেষ্টা
26-07-2022
১১ শ্রাবণ ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন। আমি ভালো-খারাপ মিলিয়েই আছি। বেশ কিছুদিন হলো শহরে এসেছি গ্রামীণ জীবন ছেড়ে। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। আপুদের নিয়ে আসা শহরে। আপু ঢাকায় থাকে তার হাসবেন্ড এর সাথে। এবার ঈদে আমাদের বাড়িতে এসেছিল ঈদ করার জন্য সাথে ভাগ্নীকে নিয়ে। ঈদের ছুটি শেষে আপুর হাসবেন্ড এর অফিস খোলে দিয়েছে। কি আর করা আপুর ঢাকা যেতে হবে। আসার সময় অবশ্য ভাইয়া তুলে দিয়েছিল বাসে। এখন আমাকে নিয়ে যেতে হবে। ঢাকা শহর আমি এমনিতেই যেতে চায়না। তার উপর আপু জোরাজুরি করছে কলেজ তো বন্ধ বাসায় গিয়ে বেড়াতে গেলেও হয়। আমার অবশ্য বেড়ানোর উদ্দেশ্য ঢাকা আসেনি। এসেছি প্রেয়সীর সাথে দেখা করার জন্য। তিন মাস আগে মনে হয় দেখা হয়েছিল আমাদের। এবার আবার দেখা হবে।
যায়হোক, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষ করে শুয়ে আছি। এদিকে ভাগ্নী এখনো গোসল করেনি। সে গোসল করবেও না। আমাদের বাড়িতে পুকুরে গোসল করে বেশ মজা পেয়েছিল। এখন ঢাকা এসে গোসল করতে চাচ্ছে না। আপু অনেক বলাবলির পরও গোসল করতে চাচ্ছে না। আমি তখন মাওয়াকে বললাম যে গোসল করলে বিকালে ট্রেন দেখাতে নিয়ে যাবো। যাক এবার রাজি হলো। মাওয়া গোসল করতে গেলো। আমি দুপুরের খাবারদাবার শেষ করে নিলাম। শেষ করে বিছানায় রেস্ট নিচ্ছি ঠিক এমন সময় মাওয়াও আসে আমার কাছে।
মাওয়া তখন আপুর ফোনে কার্টুন দেখে। কার্টুন তার খুব পছন্দ। বলতে গেলে সারাদিন কার্টুন দেখে। খাইতে গেলেও কার্টুন দেখে খাওয়া দাওয়া করে। এখনকার যুগের বাচ্চারা এখন ফোনের উপর বেশি নির্ভর হয়ে গেছে। আর নির্ভর হবেই না কেন? আমরা কি তাকে বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। অবসর সময় কাটে ফোন দেখে। অথচ তাকে নিয়ে বাহিরে কোথাও ঘুরে আসলেও মনটা ভালো হতো। আপু বাসায় একা থাকে এজন্য বেরও হয়না। বিকাল তিনটার দিকে মাওয়া আমাকে বলতেছে মামা আমাকে ট্রেন দেখাতে নিয়ে যাবে না! আমার তখন খুব ঘুম পাচ্ছিল চোখে। আর এই টাইমে বাহিরে রোদ থাকে অনেক। আমি মাওয়াকে বললাম ট্রেন যখন হর্ন দিবে তখন আমরা বাসা থেকে বের হবো। মাওয়াকে বললাম ট্রেন আসলে আমাকে ডাক দেয় যেন। ফোনে তখন মাওয়া কার্টুন দেখায় ব্যস্ত।
এদিকে আমি ঘুমিয়ে নিলাম কিছুক্ষণ। ঘুম থেকে উঠে দেখি সাড়ে পাচঁটা বেজে গেছে। আর এই টাইমে একটি ট্রেন আসে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী। আমি ফ্রেশ হয়ে মাওয়াকে নিয়ে বাহিরে যাবো। মাওয়াকে বললাম রেডি হয়ে নিতে। মাওয়া তখন অনেক খুশি। তাড়াতাড়ি সে রেডি হয়ে পড়ে নতুন জামা পরে। মাওয়াকে নিয়ে বেরিয়ে পরি ট্রেন দেখানোর উদ্দেশ্যে। আপুদের বাসার কাছেই গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন। আমি আর মাওয়া হেটেঁ চলে যায় স্টেশনে। স্টেশনে গিয়ে দেখি ট্রেন এখনো আসেনি। বাহিরের আকাশটা অনেক সুন্দর লাগছিল। বিকালের এই সময়টাতে আকাশ নীলে ঢাকা থাকে। আকাশের বুকে যেন বড় বড় দালানকোঠা জায়গা করে নিয়েছে। চারিপাশে গাছপালা শোভা পাচ্ছে না তেমন। শিল্পায়নের ফলে নগর গড়ে উঠেছে।
শহরের মানুষজন বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করতে পারেনা এটা নিঃসন্দেহে। মাওয়াকে আমি কিছুক্ষণ আকাশ দেখালাম। আকাশ দেখে মাওয়া ঐখানে কি। আমি তখন বলি যে আকাশে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। এরই মাঝে একটি আইসক্রিম এর দোকান দেখতে পেলো মাওয়া। দেখেই বায়না ধরে বসে আছে আইসক্রিম খাবে। কি আর করার দুইটা পাচঁ টাকা দামের আইসক্রিম নিলাম। আইসক্রিম ভালোই লাগছিল খেতে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ট্রেন তখনও আসলো না। মাওয়া ট্রেন না দেখে বাসায় যাবে না। আমি তখন বুঝিয়ে বললাম কিন্তু সে বুঝ কি আর আছে। বাসায় চলে গেলে আরেকটি আইসক্রিম কিনে দিবো এই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বাসায় নিয়ে গেলাম। যাবার পথে অবশ্য দুটি বার্গার কিনেছিলাম। যায়হোক, মাওয়া খুশি হয়েছে। মাঝে মাঝে বাচ্চাদেরকে নিয়ে বাহিরে যাওয়া ভালো। এক দেয়ালের ভিতরে আবদ্ধ কার ভালো লাগে? দম বন্ধ বন্ধ লাগে। এজন্যই মাওয়া শুধু আমাদের বাড়িতেই যেতে চায়।
| Device | Oppo A12 |
|---|---|
| photographer | @haideremtiaz |
| location | w3w |
| date | 23 july, 2022 |
আশা করি সবাই পোস্টটি পড়েছেন। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।
10% beneficiary for @shyfox❤️
ধন্যবাদ
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।






Link
ভাই ঠিক বলেছেন যে আজকাল তাকে ছেলেমেয়েরাই বদ্ধ ঘরে থাকতে থাকতে কিন্তু মোবাইলের প্রতি বেশি আসক্ত হচ্ছে। তাদেরকে আসলে আমাদের অবশ্যই বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। আপনি আপনার ভাগ্নিকে নিয়ে বাহিরে গিয়ে তাকে খুশি করেছেন এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। আর বাচ্চারা বাইরে যেতে আসলেই খুবই ভালোবাসে।
জি ভাইয়া একদম ঠিক বলেছেন রুমের ভিতরে আমারই থাকতে ভালো লাগছিল না তাই ভাগ্নীকে নিয়েই বেরিয়েপড়ি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।