পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না!
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই এই কনকনে শীতের মাঝে ভালো থাকার চেষ্টা করছেন। শীতের প্রকোপ ভালোই টের পাচ্ছি, সব জায়গায়ই পরিলক্ষিত হচ্ছে বাংলাদেশের। সকাল থেকে চারপাশ অন্ধকার থাকে, কুয়াশায় ডেকে থাকে চারপাশ। সূর্য উঠার খবর থাকে না। সারাদিনই কুয়াশায় ঢাকা পুরো শহর। তবুও শ্রমজীবি মানুষদের জীবন থেমে নেই। কুয়াশার সাথে মৃদ্যু বাতাস। আর বাতাসের কারণে শীতটা আরও বেশি অনুভূত হয়। এ শীতে আসলে অলসতায় বেশি কাজ করে মানুষের মাঝে। শীতের সকালে মানুষের নিত্য সঙ্গী হয় এক কাপ রং চা! চায়ের টংগুলাতে সকাল থেকেই ভীড় থাকে।
এ শীতের সকালে কিন্তু সবাই আবার কম্বল মোড়ানো গায়ে ঘুম থেকে উঠতে চাই না। সকালে ঠান্ডার পরিমাণটাও বেশি থাকে। আবার যাদের কাজের শুরুটা যখন সকাল থেকেই তখন তারা কিন্তু আরামের ঘুম ঘুমাতে পারে না। কাজে বেরিয়ে পরতে হয়। শ্রমজীবি মানুষেরা দিন আনে দিন খায় । পরিবার তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তো শ্রমজীবি মানুষেরা আসলে পরিশ্রম করতে জানে। তারা জানে ঘামের মূল্যের বিনিময়ে টাকা পায়। তো আমাদের বাস্তব জীবনের দিকে যদি এবার তাকায়। তাহলে দেখা যায় মানুষজন পরিশ্রম করে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য।
পরিশ্রমের ফলে আমাদের বাস্তবঅভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। যেমন ধরেন, আপনি একজন ছাত্র। আপনি প্রতিনিয়ত নিয়ম করে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু আপনি পড়াশোনা করে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে যেতে পারছেন। আপনার কাছে মনে হতেই পারে এতো পরিশ্রম করে লাভটাই কি হলো! কিন্তু পরিশ্রমের ফলে আপনি কিন্তু নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। যেটা আর কেউ করতে পারেনি। আপনার জায়গা থেকে পরিশ্রম করেছেন। এমনও ব্যক্তি আছে ঠিক আপনার মতোই কিন্তু তারা পরিশ্রম করে না। আপনার বিশ্বাস রাখতে হবে অপেক্ষার ফল সবসময় মিষ্ট হয়।
আমাদের এক সিনিয়র ভাইয়ের কথায় বলি। ডিপ্লোমা শেষ করার পরে চাকরির জন্য পড়াশোনা করে যাচ্ছিল দীর্ঘ পাচঁবছর ধরে। এই পাচঁ বছরে বহু জায়গায় পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু কোথাও হচ্ছিল না চাকরি। তবে প্রতিটি চাকরি থেকে সে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছিল। আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই সে আবার উঠে দাড়ায়। ফাইনালি তার সরকারি একটি চাকরি হয়। এ ঘটনাটা কেন বললাম! কারণ পরিশ্রমের ফল আপনি হয়তো শুরুতে পাবেন না। কিন্তু একটা সময় পরে ঠিকই তা দৃশ্যমান হবে। ইতিহাসের পাতা থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি । যারা বিখ্যাত হয়েছিলেন তারা সবাই অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। জীবনে বহুবার ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি।
পরিশ্রম আসলে অন্ধভাবে নয়। বরং সঠিক দিক নির্দেশনা মেনেই পরিশ্রম করে উচিত। এবং যারা পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন তাদের গল্প শোনা এবং কিভাবে তারা পরিশ্রম করে সফল হয়েছিলেন সেগুলোও আমাদের শোনা উচিত! পরিশ্রমীরা কখনো হারে না। যারা দৃঢ়ভাবে পরিশ্রম করে একটা সময় ঠিকই তাদের ফল পেয়ে যায়! এজন্য আমরা ব্যর্থ হলেও জীবনে হতাশ হওয়া উচিত নয়! পরিশ্রমীরা হয় আত্মবিশ্বাসী কারণ তাদের সে আত্মবিশ্বাস আছে যেটা ব্যর্থতাকেও ভাঙতে পারে।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



ভাই আপনি দারুন একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন।আসলে পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।সফলতার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে পরিশ্রম। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।