বৈশাখের একাল-সেকাল!

in আমার বাংলা ব্লগ16 hours ago

simon-clover-587479_1920.png

From pixabay

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো শুরুতেই সবাইকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ। দেখতে দেখতে আরও একটি বাংলা সন চলে গেল। সময়গুলো কিভাবে ফুরিয়ে যাচ্ছে টেরও পাওয়া যাচ্ছে না। নববর্ষ এর মুহূর্তগুলো আজও আমার চোখে ভাসে রূপকথার মতো। নববর্ষের সময়টা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। যখন ছোট ছিল তখন অপেক্ষা করতাম কখন পহেলা বৈশাখ আসবে। আর বৈশাখের শুরুতেই বসবে মেলা!

পহেলা বৈশাখের শুরুতে নতুন জামা কেনা হতো। জামার ভিতরে নানারকমের কারুকাজ করা থাকতো। বিশেষ করে ফতোয়া পরা হতো। আর নতুন জামা পরে মেলায় যাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম! পহেলা বৈশাখের দিনটা শুরু হতো খুব সকাল সকাল। আমার মা সকাল সকাল ঘুম থেকে তুলে পড়তে বসাতো । আমার মায়ের মতে পহেলা বৈশাখের পড়লে সারা বছর পড়া যায়! তখন এটাই বিশ্বাস করতাম। আমাদের পরিবারের সবাই আমরা ভাইবোন পড়তে বসে যেতাম।

আমার মা ত সকাল সকাল রান্না করতো। বিশেষ করে রান্নার মেন্যুতে শাকের আইটেমটা বেশি থাকে। এদিন নাকি শাক খাওয়া ভালো। তো সকালের কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়েট করতাম কখন বিকেল হবে। আর বিকেল হলেই মেলায় যাবো। মেলায় কতোরকমের জিনিস উঠতো! সবচেয়ে ভালো লাগতো নাগরদোলা। কিন্তু নাগরদোলায় আর উঠা হতো না। দূর থেকেই নাগরদোলা দেখা হতো। তাছাড়া অনেকরকমের মজাদার খাবারও পাওয়া যেত!

মেলার মিষ্টি জিলাপির কথা মনে পরলে এখনও লোভ লেগে যায়। লাল রঙের জিলাপিগুলো খেতে এতে ভাল লাগতো! আর সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট হতো পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাচ ও হতো! অনেকেই নৃত্য পরিবেশন করতো। মেলায় কনসার্ট দেখার অনুভূতিটাও অন্যরকম ছিল!

এখন মনে হয় বড় হয়ে গেছি। আগের মতো আর ফিলিংস কাজ করে না। মেলা যায় মেলা আসে কিন্তু আগের মতো আর না! আসলে জীবনের বয়স যত বাড়ছে ভালো লাগা কমছে দায়িত্ব বাড়ছে! এখন নিজেকে সময় দেয়ার মধ্যে দিয়েই চলে যায় আসলে। জীবনের রঙিন সময়গুলো এখনও মিস করি। স্মৃতির জানালায় থেকে যাবে সবসময়!

Posted using SteemX

Sort:  

🎉 Congratulations!

Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀

SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.

🔗 Visit us: www.steemx.org

✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5

banner.jpg