ভবিষ্যতের চাকরির স্কিল: আগামী প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বিদেশমুখী হচ্ছে, যা একদিকে ব্যক্তিগত উন্নতির পথ খুলে দিলেও অন্যদিকে দেশ থেকে জ্ঞান ও দক্ষতার পাচার ঘটাচ্ছে। একটি জাতি যত বেশি শিক্ষিত, তত দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব কিন্তু সেই শিক্ষার সাথে যদি বাজার উপযোগী দক্ষতার মিল না থাকে, তবে চাকরি পাওয়া কঠিনই হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষার অভাব, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতার সংকট, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া এসব মিলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে একটি কঠিন পথ তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে ভবিষ্যতে চাকরি পেতে কোন কোন স্কিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে? নিচে তারই বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
ডিজিটাল স্কিল ও টেকনোলজি- আগামী দশক হবে ডিজিটাল যুগের শীর্ষ অধ্যায়। শুধুমাত্র কম্পিউটার চালাতে পারা যথেষ্ট নয় যে স্কিলগুলো প্রয়োজন হবে: ডেটা বিশ্লেষণ, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার, সিকিউরিটি,এআই, মেশিন লার্নিং ও অটোমেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
ডিজিটাল মার্কেটিং, যে কোনো শিল্প, ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষা, কৃষি সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। তাই এসব স্কিল ছাড়া ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে।
কারিগরি ও ভোকেশনাল স্কিল, আমাদের দেশে এখনো অধিকাংশ তরুণ সাধারণ ডিগ্রি নিয়ে বের হয়, যার চাকরি বাজারে চাহিদা কমছে। অপরদিকে, হাতে-কলমে শেখা কারিগরি বিষয়গুলোর চাহিদা বাড়ছে, যেমন- ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডিং, অটো মেকানিক্স, রেফ্রিজারেশন ও এসি রিপেয়ার বিভিন্ন মেশিন অপারেটর, সোলার টেকনিশিয়ান বিদেশে এসব স্কিলের বিশাল চাহিদা রয়েছে। দেশে শিল্পায়ন বাড়লে এখানেও চাহিদা বাড়বে।
সমস্যা সমাধান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা, এআই অনেক কাজ করে দিতে পারবে, কিন্তু চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধান এই মানবিক দক্ষতাগুলো AI কখনো পুরোপুরি রিপ্লেস করতে পারবে না ভবিষ্যতের কোম্পানিগুলো এমন মানুষ চাইবে যারা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে, তার সমাধান বের করতে পারে, নতুন আইডিয়া দিতে পারে, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বই পড়ে শেখা যায় না, চর্চা ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠে।
যোগাযোগ দক্ষতা, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চাকরিতে যাওয়া যুবকদের বড় বাধা, ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতার অভাব। চাকরির বাজার ভবিষ্যতে আরও গ্লোবাল হবে। তাই প্রয়োজন ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলা, লিখিত যোগাযোগ
পেশাদার ইমেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন দক্ষতা যার যোগাযোগ ভালো, তার সুযোগ সবসময় বেশি।
সৃজনশীলতা ও কন্টেন্ট তৈরি, আজকের চাকরি যেমন ডিজিটাল, ভবিষ্যতেও তার গুরুত্ব আরও বাড়বে। যারা ভিডিও তৈরি করতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন জানে, অ্যানিমেশন, ভিডিও এডিটিং জানে সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা করতে পারে,কপিরাইটিং বা গল্প বলাতে দক্ষ তাদের চাহিদা থাকবে সবসময়।
উদ্যোক্তা মানসিকতা, শুধু চাকরি খোঁজা নয়, চাকরি দেওয়ার স্কিলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যাদের মধ্যে থাকবে নেতৃত্ব, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, নতুন ব্যবসার আইডিয়া, ছোট টিম পরিচালন। তারা ভবিষ্যতে আরও সফল হবে।
মানসিক দৃঢ়তা, অভিযোজন ও শিখতে পারার ক্ষমতা, প্রযুক্তি যেভাবে বদলাচ্ছে, আজকের স্কিল কাল কাজে নাও লাগতে পারে। তাই সবচেয়ে বড় স্কিল নতুন কিছু দ্রুত শিখতে পারা, পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, ব্যর্থতা থেকে আবার উঠে দাঁড়ানো। এগুলোই ভবিষ্যতের কর্মজীবী মানুষের অস্ত্র হবে।
ভবিষ্যৎ কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বাংলাদেশে চাকরির সংকট সত্য, কিন্তু সুযোগও কম নয়। যে তরুণরা এখন থেকে ডিজিটাল স্কিল, কারিগরি সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সৃজনশীল কাজের চর্চা শুরু করবে, তারাই ভবিষ্যতের চাকরি বাজারে টিকে থাকবে। ডিগ্রি নয় দক্ষতাই হবে ভবিষ্যতের মুদ্রা। যে যত দক্ষ, তার কাজের সুযোগ তত বেশি।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server

















