সমালোচককে দূরে নয়, পাশে রাখুন।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন।
আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে প্রশংসা সহজে গ্রহণ করা হয়, কিন্তু সমালোচনা শুনলেই অনেকে বিরক্ত হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা ৮০ থেকে ১৬০ হয়ে যায়। অথচ জীবনের উন্নতি, মানসিক পরিপক্বতা, ও সঠিক পথে চলার জন্য সমালোচকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভাবেন, সমালোচক মানেই শত্রু,দুশমন। যে শুধু দোষ ধরে, কষ্ট দেয়, বাধা দেয়। কিন্তু আসলে সমালোচকই সেই মানুষ, যিনি আমাদের দুর্বল দিকগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। আমাদের সংশোধন করার চেষ্টা করেন।
জীবনে সব সময় নিজের ভুল নিজে ধরা যায় না। আমরা যখন নিজের সাফল্য, কাজ, কিংবা আচরণ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তখন বাইরের দৃষ্টিভঙ্গিটিই আমাদের দরকার হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গিই দেয় একজন সত্যিকারের সমালোচক। তাদের কথা হয়তো প্রথমে কানে লাগে, কষ্ট দেয়, কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, তারা আসলে আমাদের সঠিক পথে রাখার কাজটাই করছেন। আমাদের উপকারই করছেন।
যদি জীবনে সমালোচনা না থাকে, তবে মানুষ একসময় অহংকারী ও আত্মপ্রবঞ্চনায় ডুবে যায়। সে মনে করে, তার কাজই সেরা, তার উপরে কেউ নেই, তার ভাবনাই সবসময়ই সঠিক। ফলাফল হিসেবে সে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে না, নতুন কিছু শেখার আগ্রহও হারিয়ে ফেলে। তাই বলা যায়, সমালোচনা না থাকলে উন্নতি থেমে যায়।
সমালোচকদের কথা শুনে অনেকেই দূরে সরে যান, মনে করেন তারা নেতিবাচক মানুষ। কিন্তু বাস্তবে, সমালোচককে কাছাকাছি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাদের থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্লেষণ করতে হবে। হয়তো তাদের সব কথা ঠিক নয়, কিন্তু কিছু না কিছু শিক্ষা নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। কারন সমালোচক রা আপনার আপনার আমার সফল বা ব্যর্থতা দেখেই আসে।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, দেখব পৃথিবীর সব বড় মানুষই সমালোচনার শিকার হয়েছেন। মহান নেতারা, বিজ্ঞানীরা, শিল্পীরা, ডাক্তাররা, যে কোন বিষয়ে সফল ব্যাক্তিরা, তাদের সময়ের মানুষের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা সহ্য করেছেন। কিন্তু তারা সেই সমালোচনাকে ভয় পাননি। বরং সেটিকেই শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। কারণ তারা জানতেন, সমালোচনা মানে তাদের কাজে মানুষ মনোযোগ দিচ্ছে। আর সমালোচনার ভেতর দিয়েই আসলে নিজের উন্নতির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
একজন মানুষ কখনোই সব বিষয়ে জ্ঞানী হতে পারেন না। আমরা প্রত্যেকেই সীমাবদ্ধ, ভুল করি, কখনো কখনো নিজের কাজের দিকটা নিরপেক্ষভাবে দেখতে পারি না। সেখানে সমালোচকের প্রয়োজন হয়। তিনি আয়নার মতো আমাদের সামনে আমাদের প্রকৃত রূপটি তুলে ধরেন। তাই সমালোচনা এড়িয়ে না গিয়ে, তাকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই উচিত, গ্রহন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সমালোচনাকে ভয় পেলে চলবে না। বরং সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে, কোন জায়গায় উন্নতি দরকার, কোথায় ভুল করছি, কিভাবে আরও ভালো করা যায়। মনে রাখতে হবে, সমালোচক শত্রু নয়, বরং অগ্রগতির সঙ্গী। তারা না থাকলে হয়তো আমরা নিজের ভুলগুলো বুঝতেই পারতাম না।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, সমালোচককে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়, বরং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সত্যিকারের উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন আমরা নিজের ভুল ত্রুটি মেনে নিতে পারি, এবং সেই ত্রুটি দূর করতে চেষ্টা করি।
সমালোচনাকে ভালোবাসুন, কারণ সেটিই আপনাকে অামাকে সঠিক পথে রাখবে, শক্ত করে তুলবে, এবং একদিন আপনাকে আমাকে সাফল্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে। তাই সমালোচনা শুনে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে সমালোচক দের জবাব দিতে হবে।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server

















