আজকের ভূমিকম্প ও একটি ভয়াল সকাল।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন
আজকের সকালটি আমার জীবনে এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা রেখেে গেল। প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টার দিকে অফিসে গেলাম। বাসা থেকে অফিসে পৌঁছাতে সাধারণত ৮–১০ মিনিটের বেশি লাগে না। অফিসে এসে ডেস্কে বসে কাজ শুরু করেছি। হঠাৎ সাড়ে দশটার দিকে আমার চেয়ার, পানির বোতল, ডেস্ক, কম্পিউটার সব কেমন যেন দুলে উঠল। প্রথমে বুঝতে একটু সময় লাগলেও দ্রুতই উপলব্ধি করলাম ভূমিকম্প হচ্ছে।
মুহূর্তেই আমি চেয়ার ছেড়ে পিলারের নিচে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি আশপাশের বিল্ডিংগুলোতে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করছে, কেউ ছাদে উঠছে, কেউ নিচে নামছে। আমাদের অফিসেও অনেকেই ইতোমধ্যে দৌড়ে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল। আমি চারিতলায় দাঁড়িয়ে পুরো শক্তির সঙ্গে ঝাঁকুনিটা অনুভব করলাম।
আজকের ভূমিকম্পটি আরও বেশি ভয়ের কারণ ছিল এটি দুই দফা ঝাঁকুনি দিয়েছিল একটি ধীরে এবং আরেকটি জোরালো ঝাঁকুনি। এর আগে আমি আরও কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভব করেছি, কিন্তু আজকের মতো তীব্রভাবে কখনো অনুভব করিনি।
কিছুক্ষণ পরে অনলাইন নিউজ খুলে দেখি আজকের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের ত্রিপুরা। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.২। সময় ছিল সকাল ১০টা ৩৮ থেকে ১০টা ৩৯ এর মধ্যবর্তী এক মিনিট। কিন্তু এই এক মিনিট পুরো দেশের মানুষের মনে দাগ কেটে দিয়েছে।
বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়া খুলে দেখি রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জাগায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিল্ডিংয়ে ফাটল দিয়েছে, কিছু বিল্ডিং হেলে পড়ার উপক্রম, আতঙ্কে ছুটোছুটি আর সব থেকে দুঃখজনক ৪ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে সেইসব দৃশ্য দেখে, যেখানে মানুষ ভয়ে দৌড়ে নিচে এসে বিল্ডিংয়ের সামনেই জড়ো হয়েছে। আশেপাশে খোলা জায়গা না থাকায় সবাই বিল্ডিংয়ের পাদদেশেই দাঁড়িয়ে ছিল। অথচ যদি বিল্ডিং ধসে যেত তাহলে সবাই একসাথেই মারা যেত। এমন দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে- আমরা কি সত্যিই নিরাপদ কোনো শহরে বাস করি? না কি আমাদের দেশ আমাদের শহরের পৃথিবী ছাড়া অন্য কোন গ্রহের।
আরেকটি বিষয় লক্ষ করলাম ভূমিকম্পের সময় দৌড়াদৌড়ির মধ্যে অনেকের পকেট থেকে মোবাইল বের হয়ে সিঁড়িতে পড়ে ছিল। কারও খেয়াল করার সময় নেই, কারণ তখন বাঁচার থেকে বড় কিছু নেই।
অনেক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল, এমনকি টাকার ক্যাশ পর্যন্ত ফেলে দৌড়াচ্ছে। যে টাকা সম্পদের জন্য মানুষ কত অন্যায় করে, কত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেট করে, সেই অর্থই এক মুহূর্তে কোনো মূল্য রাখে না।
ভূমিকম্প আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মানুষের জীবন কত নাজুক, আর টাকা পয়সা আসলে কতটাই অমূল্যহীন। মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে সব অর্থসম্পদ, অহংকার, ক্ষমতা সবই শূন্য হয়ে যায়।
এই ঘটনার পর সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টি আবার আমাদের সামনে ভেসে উঠলো ঢাকা শহরে নিরাপদ খোলা জায়গা নেই বললেই চলে। বড় ভূমিকম্প হলে মানুষ কোথায় যাবে? রাস্তা সরু, বিল্ডিংগুলো ঘেঁষাঘেঁষি, বেশিরভাগই নিয়ম মানা ছাড়াই নির্মিত এমন পরিস্থিতিতে এক বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে, এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া ঢাকা শহরকে নিয়ে অনেকে অনেক ভবিষ্যৎবাণী করে রেখেছে।
যায় হোক, সবশেষে একটা কথাই মনে হয়েছে আমরা আল্লাহর অসীম দয়ায় বেঁচে আছি। আর একটু তীব্র হলে হয়তো আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ হয়ে যেত। সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশকে, দেশের মানুষকে, সব ধরণের বিপদ–আপাাদ থেকে রক্ষা করুন। মানুষ যেন সচেতন হয়, নিয়ম মেনে চলে, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তুলতে পারে এই দোয়া করি।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server


















আসলেই কালকের ভূমিকম্প অনেক ভয়ানক ছিলো এবং অনেক সময় নিয়ে ছিলো।তবে আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য একটি নমুনা ছিলো, এবং সুযোগ থাকতে আমাদের বদলাতে হবে।আসলে আমি এরকম ভূমিকম্প এর আগে কখনো অনুভব করি নাই।ধন্যবাদ খুব সুন্দর ভাবে পোস্ট টি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জী ভাই তীব্র ভূমিকম্প ছিল।