"সিরাজগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলন"
অবিশ্বাস্য এক আনন্দের মুহূর্ত ছিল সিরাজগঞ্জে আমার পুরনো বন্ধুদের সাথে হঠাৎ দেখা হওয়া। আসলে, আমি তো জানতামই না যে এমন একটা দারুণ সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে! সিরাজগঞ্জের বাড়িতে যখন যাই, তখন আমার চিরচেনা পথচলার সঙ্গী থাকে শুধু আশিক আর সঞ্চয়। ওদের সাথে দেখা হবে, এটাই স্বাভাবিক ছিল কারণ ওরা এখনো শহর ছেড়ে কোথাও যায়নি। কিন্তু বাকিদের সাথে যে আচমকা দেখা হয়ে যাবে, তা ছিল আমার কল্পনারও অতীত।
সেদিন সন্ধ্যায় আমি আর আশিক মিলে হালকা হাঁটতে বের হয়েছিলাম। চারপাশে তখন সন্ধ্যার নরম আলো, আর পরিচিত রাস্তাঘাট। ঠিক তখনই সঞ্চয় ফোন করে বলল, যমুনা নদীর ঘাটে চলে আয়।ওর বলার ভঙ্গি শুনেই কেমন একটা উত্তেজনা কাজ করছিল। আমি আর আশিক কথা না বাড়িয়ে সোজা ঘাটের দিকে ছুটলাম।
ঘাটে পৌঁছে দেখি এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য।সেখানে শুধু সঞ্চয় নয়, দাঁড়িয়ে আছে আমার বাল্যকালের বন্ধু কবির, শোভন আর মিলনও! কত বছর পর ওদের তিনজনকে একসাথে দেখলাম, সে এক অন্যরকম অনুভূতি। মনে হচ্ছিল যেন সময়ের চাকা উল্টো ঘুরে আমাদের স্কুলের গেটে নামিয়ে দিয়ে গেছে। বহু বছর ধরে যাদের শুধু ছবিতেই দেখেছি, আজ তারা চোখের সামনে! এই অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলনীতে আমাদের সবার চোখেই ছিল একরাশ হাসি আর আনন্দ।
এরপর আমরা ছয়জন মিলে নদীর পাড়ে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। যমুনা নদীর শান্ত ঢেউ আর সন্ধ্যার খোলা বাতাস যেন আমাদের বন্ধুত্বকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলছিল। সবাই মিলে পুরোনো দিনের গল্প, স্কুলের দুষ্টুমি আর হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠলাম। মনে হচ্ছিল যেন আমরা সেই স্কুল জীবনের দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছি, যখন কোনো চিন্তা ছিল না, শুধু ছিল নির্মল আনন্দ।
নদীর ঘাট থেকে উঠে আমরা শহরের রাস্তাঘাট দিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। যেমনটা আমরা স্কুল জীবনে টিফিনের পরে বা ছুটির দিনে করতাম। ছয়জনের এই দলটা যখন শহরের রাস্তায় হাঁটছিল, তখন মনে হচ্ছিল যেন পুরো শহরটাই আমাদের দখলে! এই মুহূর্তগুলো ছিল সত্যিই অমূল্য। সময়ের সাথে সাথে জীবন আমাদের যার যার পথে নিয়ে গেলেও, এই বন্ধুত্বের বাঁধনটা একটুও আলগা হয়নি। সেই পুরনো প্রাণোচ্ছলতা, সেই সহজ হাসি আর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা সবকিছুই আগের মতোই ছিল।
আমাদের সেই সন্ধ্যার ঘোরাফেরা আর আড্ডা সারা জীবনের জন্য একটা মিষ্টি স্মৃতি হয়ে থাকবে। এত বছর পরেও এমন আন্তরিকতা আর ভালোবাসা দেখে মন ভরে গেল। একটা দিন, একটা মুহূর্ত কিন্তু সেই সময়টা আমাদের ছয়জনের জীবনকে আরও একবার একসাথে গেঁথে দিয়ে গেল। এই স্মৃতিগুলোই তো জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়, যা কোনো কিছু দিয়েই কেনা যায় না।
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
| মোবাইল | Samsung A33 (5G) |
|---|---|
| ধরণ | "সিরাজগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলন" |
| ক্যমেরা মডেল | A33 (48+8+5+2) |
| ক্যাপচার | @mohamad786 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ - বাংলাদেশ |








X-Promotion
Daily Tasks
Comments Link:-
https://x.com/mohamad786FA/status/1987233146291867773?t=RH_pVjosB2oFJk6QLu0uzA&s=19
Ss
🎉 Congratulations!
Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀
SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.
🔗 Visit us: www.steemx.org
✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5