শৈশবে বিলের মধ্যে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা - (২য় পর্ব)

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago

আসসালামু-আলাইকুম/আদাব।

হ্যালো বন্ধুরা, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন।হ্যাঁ, আমিও অনেক ভালো আছি।

শৈশব যেন ছিল এক স্বপ্নময় সময় যে সময়টায় পৃথিবীটা ছিল কেবল আনন্দ আর আবিষ্কারের। সকালবেলার শিশিরে ভেজা ঘাস, দূরে বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে দেখা উঠতি সূর্য, আর গ্রামের বিলের নিস্তব্ধ জলরাশির দিকে ছুটে চলা ছোট্ট কয়েকটি পা, এসবই মিলে আমার শৈশবের অবিচ্ছেদ্য ছবি। সেই সময়টায় আমাদের দিনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ কাজ ছিল বড়শি দিয়ে মাছ ধরা।

শৈশবে বিলের মধ্যে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা - (প্রথম পর্ব)

1000113240.jpg

সোর্স

বিলের সকালগুলো ছিল অন্যরকম। সূর্য তখন পুরোপুরি ওঠেনি, বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া, আর চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা। আমি আর আমার বন্ধু শিমুল, জুয়েল আর শফি ঠিক করলাম আজ একটু সকাল সকালই বের হবো। হাতে বাঁশের বড়শি, এক বোতল টোপ আর পুরোনো পলিথিনের ব্যাগ এই নিয়েই শুরু হলো আমাদের অভিযান। পথে হাঁটতে হাঁটতে সবাই মজা করছিলাম, কে আজ সবচেয়ে বড় মাছ ধরবে সেই নিয়ে বাজিও ধরলাম।বিলের ধারে পৌঁছে দেখি সকালের রোদ কচুরিপানার পাতায় ঝিকমিক করছে, যেন জলরাশির ওপরে ছোট ছোট সোনার দাগ ছড়িয়ে আছে। আমরা চারজন আলাদা আলাদা জায়গায় বসে পড়লাম। আমি একটু ভেতরের দিকে গিয়ে বসলাম, যেখানে পানি গভীর আর শান্ত। টোপ লাগিয়ে বড়শিটা জলে ফেলতেই মনটা কেমন অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে গেল। চারপাশের নিস্তব্ধতায় শুধু শোনা যাচ্ছিল কচুরিপানার ফাঁকে মাছের ঝাপটা আর দূরে কোনো এক রাখালের বাঁশির সুর।

জুয়েল প্রথমে চিৎকার করে উঠল পেয়েছি! পেয়েছি! আমরা সবাই তাকিয়ে দেখি তার বড়শিতে ধরা পড়েছে মাঝারি সাইজের একটি শিং মাছ। আনন্দে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এরপর শুরু হলো আমাদের উচ্ছ্বাস, হাসাহাসি আর প্রতিযোগিতা। আমি মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছি আমার ভাসার দিকে, কিন্তু সে যেন আমার সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে একবার নড়ে, আবার থেমে যায়।এমন সময় শিমুল বলল, "তুই ধৈর্য ধর, দেখবি বড়টা তোরই ভাগ্যে আছে।" ঠিক সেই মুহূর্তেই ভাসাটা আস্তে করে নিচে নামল। আমি ধীরে ধীরে বড়শিটা টানতেই বুঝলাম ওপাশে কেউ আছে! এক ঝটকায় টেনে তুলতেই দেখি, একেবারে চকচকে রুই মাছ! বন্ধুরা চিৎকার করে উঠল, কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ হাসছে, আর আমার বুক ভরে গেল এক অজানা গর্বে।

সেই দিনটা ছিল আমাদের জন্য এক উৎসবের দিন। আমরা সবাই মিলে ধরা মাছগুলো একসাথে রাখলাম পুরোনো বালতিতে। তারপর বিলের ধারে বসে গল্প, হাসি আর আড্ডা চলল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মাঝে মাঝে বাতাসে কচুরিপানার পাতা দুলে উঠত, আর মনে হতো প্রকৃতি যেন আমাদের সঙ্গে হাসছে।

দিন শেষে যখন বাড়ির পথে রওনা হলাম, সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে নামছে। কাঁধে বড়শি, হাতে মাছভরা বালতি আমাদের মুখে তখন একটাই তৃপ্তির হাসি। সেই হাসি আজও মনে পড়লে মনে হয়, শৈশবের সুখের কোনো দাম হয় না।

(চলবে...)


আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

standard_Discord_Zip.gif

আমার পরিচয়

1000024149.png

আমার নাম মোঃ ফয়সাল আহমেদ। আমি ঘোরাফেরা, লেখালেখি এবং ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসি। ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন জায়গা ও সংস্কৃতি আবিষ্কার করতে আমার আনন্দ লাগে। বিভিন্ন মুহূর্ত ও দৃশ্যকে ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করা আমার শখ। লেখালেখির মাধ্যমে আমি আমার ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করতে ভালোবাসি। প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের জীবনধারা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার লেখার মূল অনুপ্রেরণা। আমি প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করার চেষ্টা করি এবং সেগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে জীবনকে দেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

1000024154.png

1000024151.gif

Posted using SteemX

Sort:  
 2 months ago 
 2 months ago 
 2 months ago 

বাহ আপনি তো দারুণ একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন ভাইয়া। শৈশবকালে এরকম আমিও বিলের মধ্যে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম।আসলেই আমাদের শৈশব কালের স্মৃতিগুলো কখনো ভুলার মত না।যাইহোক আপনার পুরো পোস্টটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।