শৈশবের ডিসেম্বর: "কুয়াশা মোড়া ভোরে, নানাবাড়ির ভাপা পিঠা"

in আমার বাংলা ব্লগ29 days ago

আসসালামু-আলাইকুম/আদাব।

হ্যালো বন্ধুরা, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন।হ্যাঁ, আমিও অনেক ভালো আছি।

ডিসেম্বর মাস আসলেই মনটা কেমন যেন আনমনা হয়ে যায়। শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই সময়টা মনে পড়িয়ে দেয় শৈশবের সোনালী দিনগুলোর কথা, বিশেষ করে গ্রামের নানাবাড়িতে কাটানো ডিসেম্বরের সেই ভোরগুলো।

1000122999.png

এখনকার মতো এত আধুনিকতা তখন ছিল না, কিন্তু সেই সাদামাটা জীবনেই লুকিয়ে ছিল সত্যিকারের আনন্দ। শীতের ছুটি শুরু হলেই যেন মন উড়ু উড়ু করত নানাবাড়ি যাওয়ার জন্য। সেখানে পৌঁছনোর পর থেকেই দিনগুলো ভরে উঠত নতুন নতুন ঘটনায়। ডিসেম্বর মাস মানেই যেন পিঠাপুলির উৎসব।ভোর হওয়ার আগেই ঘুম ভাঙত। কারণটা ছিল খুব সহজ, কিন্তু লোভনীয় ভাপা পিঠা। শীতের সকালে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকার আরাম ছেড়ে উঠে পড়ার একমাত্র কারণ ছিল এই গরম গরম পিঠা। কনকনে ঠান্ডায় গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে নানি, মামা বা খালাদের হাত ধরে যেতাম গ্রামের বাজারে।

নানাবাড়ি থেকে বাজারের দূরত্বটা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু সেই পথটুকু হাঁটার মজাই ছিল আলাদা। চারপাশে তখনো পুরোপুরি আলো ফোটেনি, হালকা কুয়াশার চাদরে মোড়া চারপাশ। পথের দু'ধারে শিশির ভেজা সবুজ ঘাস আর খেজুর গাছ থেকে ঝরে পড়া টুপটাপ রসের শব্দ। শীতের ভোরে গ্রামের মেঠো পথে হাঁটার সময় একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে আসত , সেটা ছিল সদ্য তৈরি হওয়া গুড়ের গন্ধ আর ভাপা পিঠার সুবাস।বাজারের এক কোণে দেখতাম পিঠা বানানোর আয়োজন। মাটির চুলার উপর বিশাল এক হাঁড়িতে জল ফুটছে। তার ধোঁয়া আর পিঠার গরম বাষ্পে পিঠাওয়ালা কাকুর মুখটা আবছা দেখা যেত। চারপাশ থেকে আরও অনেকে আসতেন পিঠা নিতে। সেই দৃশ্যটা ছিল দেখার মতো।

আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম এক দৃষ্টিতে সেই দিকে চেয়ে। পিঠা তৈরি হলেই নানাকে বলতাম, "নানা, আমাকে দুটো দেবে কিন্তু।" গরম পিঠাটা শালপাতার উপরে তুলে দিতেন পিঠাওয়ালা কাকু। সেই উত্তাপটা হাতে লাগলে ঠান্ডাও যেন পালিয়ে যেত। প্রথম কামড়টা মুখে দেওয়ার পর মনে হতো স্বর্গে আছি! গুড়ের মিষ্টি স্বাদ আর নারকেলের crunchiness আহ! কয়েকটা পিঠা সেখানেই দাঁড়িয়ে শেষ করে, বাকিটা শালপাতায় মুড়িয়ে নিয়ে আসতাম নানাবাড়ির জন্য। পথে ফিরতি পথে সূর্য সবে উঁকি দিত। সেই ডিসেম্বরের সকাল, নানাবাড়ি, ভাপা পিঠা আর বাজারের কোলাহল, এই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন। সেই সময়টা আর ফিরে আসবে না জানি, কিন্তু এই মিষ্টি স্মৃতিগুলোই মনকে এক অদ্ভুত শান্তি দেয়।

এখন অনেক ধরনের পিঠা খাই, কিন্তু শৈশবের নানাবাড়িতে ভোরবেলায় গ্রামের বাজার থেকে কিনে আনা সেই ভাপা পিঠার স্বাদ আর কোনো কিছুতেই পাই না। সেই দিনগুলো ছিল সত্যিই অন্যরকম।


আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

standard_Discord_Zip.gif

আমার পরিচয়

1000024149.png

আমার নাম মোঃ ফয়সাল আহমেদ। আমি ঘোরাফেরা, লেখালেখি এবং ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসি। ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন জায়গা ও সংস্কৃতি আবিষ্কার করতে আমার আনন্দ লাগে। বিভিন্ন মুহূর্ত ও দৃশ্যকে ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করা আমার শখ। লেখালেখির মাধ্যমে আমি আমার ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করতে ভালোবাসি। প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের জীবনধারা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার লেখার মূল অনুপ্রেরণা। আমি প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করার চেষ্টা করি এবং সেগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে জীবনকে দেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

1000024154.png

1000024151.gif

Posted using SteemX

Sort:  
 29 days ago 
 29 days ago 
 29 days ago 

🎉 Congratulations!

Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀

SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.

🔗 Visit us: www.steemx.org

✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5

banner.jpg