হৃদস্পন্দনের টিকটিক (রাহিন ও মুসকান)
পর্ব: ০১
বিকেলের সোনা রোদ এসে পড়েছে মুসকানের জানলার পর্দায়। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার খোলা চুলগুলো ঠিক করছিল, আর হাতে ছিল ফোন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটা মিষ্টি হাসির ভিডিও করতে গিয়েও সে থমকে গেল। কারণ, স্ক্রিনে তখন বারবার একজনের নাম ভেসে উঠছিল— রাহিন।
রাহিন আর মুসকানের পরিচয়টা কোনো লাইব্রেরিতে হয়নি, হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে। রাহিনের শায়ারি আর মুসকানের চঞ্চলতা যেন একে অপরের পরিপূরক ছিল।
সেই প্রথম দেখা:
ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ক্যামেরার আড়ালে তারা প্রথম দেখা করেছিল। মুসকান সেদিন পরেছিল আকাশী রঙের একটা কামিজ, আর রাহিন তার প্রিয় সাদা শার্ট। রাহিনকে সামনে দেখে মুসকান কিছুটা লজ্জা পেয়ে ফোনটা ব্যাগে লুকিয়ে ফেলল।
রাহিন মুচকি হেসে বলল, "কী হলো? ফোনের ভেতরে তো অনেক কথা বলো, সামনে আসতেই চুপ হয়ে গেলে?"
মুসকান মাথা নিচু করে বলল, "বাস্তবটা তো ফোনের মতো এডিট করা যায় না রাহিন। তাই হয়তো নার্ভাস লাগছে।"
রাহিন তখন মুসকানের খুব কাছে এসে তার কানে ফিসফিস করে বলল, "আমাদের গল্পে কোনো ফিল্টার লাগবে না মুসকান। আমি তোমাকে তোমার সবটুকু পাগলামি সমেত ভালোবাসি।"
রোমান্টিক মুহূর্ত:
সেদিন পড়ন্ত বিকেলে তারা দুজনে আইসক্রিম হাতে নিয়ে পুরো শহর ঘুরেছিল। রাহিন হুট করেই রাস্তা পার হওয়ার সময় মুসকানের হাতটা শক্ত করে ধরল। মুসকান চমকে তাকিয়ে দেখল রাহিনের চোখে এক আকাশ নিরাপত্তা। সেই মুহূর্তটা ছিল কোনো সিনেমার চেয়েও সুন্দর।
গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারত, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই চাকচিক্যের আড়ালে শুরু হলো কিছু কালো মেঘের আনাগোনা। রাহিনের ফোনে আসা একটা অচেনা মেসেজ যেন সব এলোমেলো করে দিতে চাইল।
(চলবে...)
