মজার ঘটনা - স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের চালাকি এবং ফাঁকিবাজি

in আমার বাংলা ব্লগlast month

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি মজার ঘটনা শেয়ার করবো। মূলত স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের চালাকি এবং ফাঁকিবাজির বাস্তব কথা তুলে ধরবো আপনাদের সামনে।


moteoo-class-1459570_1280.png

Image by Mote Oo Education from Pixabay

আমি বর্তমানে যে ফার্মেসিতে আছি, তার ঠিক বিপরীত দিকে একটি স্কুল আছে। স্থানীয় ভাবে স্কুলটির যথেষ্ট সুনাম আছে। ভালো সংখ্যক ছাত্রছাত্রী স্কুলে আছে।

একজন ফার্মাসিস্ট হিসাবে এখানে আসার পর আমার এক্সপেকটেশন ছিলো তারা হয়ত বেশি বেশি সিভিট কিনবে। বড় বাচ্চারা ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস কিনবে। দোকানটা ফার্মেসীর পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হওয়ায় আইসক্রিমও আছে; তারা আইসক্রিম কিনবে৷ কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে, স্কুলের বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি যে জিনিশ কিনে তা হচ্ছে ওয়ান টাইম সার্জিক্যাল স্ট্রিপ তথা ব্যান্ডেজ।

এমন কয়েকদিন দেখার পর আমি ধারণা করলাম সম্ভবত বাচ্চারা খুবই অভদ্র। সারাদিন শুধু মারামারি করে। শিক্ষকরাও হয়ত একটু মারটার দেয়।

এক সময় জানলাম, শিক্ষকরা আসলে মারে না স্কুলে। মারামারিও আসলে হয় না। ভাবতে লাগলাম, তাহলে কি ঘটে? অনেক ভেবেও উত্তর পেলাম না।

একদিন একটা আবাসিক ছাত্র ব্যান্ডেজ নিতে আসলে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "তোমাদের স্কুলের ছেলেপেলেদের এত ব্যান্ডেজ কেন লাগে? মেয়েরাও দেখি সমানতালে নেয়।" ও বললো, "আমরা খেলাধুলা করার সময় ব্যথা পাই।" কথাটা বিশ্বাস করেছিলাম। কারন স্কুলের মাঠে কোন ঘাস নেই। পুরোটাই কংক্রিটের ঢালাই দেয়া। এমন হতেই পারে। বাচ্চাদের জন্য খুব মায়া লাগলো।

এরমধ্যে, আমি এক মুদি দোকান থেকে এটা সেটা কিনি। সেই দোকানের এক পিচ্ছি মেয়ে আবার ওই স্কুলে পড়ে। তাকে আমি আবার মাঝেমধ্যে কলম, প্যাড উপহার দেই। এজন্য তার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক আমার। গতকাল রাতে কি প্রসঙ্গে তাকে বললাম, তোমাদের স্কুলের বাচ্চারা এত বেশি ওয়ানটাইম ব্যান্ডেজ কিনে কেন?

ও বললো, "জানেন না আঙ্কেল? স্যার ম্যাডামকে ফাঁকি দেয়ার জন্য। এগুলা লাগায় রাখে আর স্যার ম্যাডামকে বলে, আমি তো ব্যথা পাইছি৷ এই যে দেখেন ব্যান্ডেজ, ইত্যাদি ইত্যাদি।"

বর্ননা শুনে আমি একদম থ। এমন চালাকি তো আমরাও স্কুল থাকতে করিনি। গুটি কতেক ছিলো, ফাঁকিবাজি ছিলো তাদের কাজ। কিন্তু এমন গণহারে ঘটনা সম্ভবত এখন হচ্ছে।