জেনারেল রাইটিং - শিক্ষা খাতে বাণিজ্য
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, আমাদের শিক্ষা খাতে চলমান বাণিজ্য নিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন,
আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। এমন উদাহরণ রয়েছে, তিনি যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণের বদলে পাঠদানের মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে এই শিক্ষা খাতকে নিয়েও বাণিজ্য করন চলছে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে চলেছে, মানুষ মাত্রই বিশ্বাস করে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে শিক্ষা খাত। আর বলবেই না কেন? হুহু করে বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বাড়ছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুণগত শিক্ষার কোন বালাই নেই। কিন্তু তারা বেতন ধার্য করেছে অনেক। এ যেন এক ব্যবসা কেন্দ্র।
প্রতি বছর একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নতুন ক্লাসে উঠলে তাকে পুনরায় ভর্তি হতে হয়। এজন্য নেওয়া হয় প্রচুর পরিমাণে ভর্তি ফি। বছরের তিন মাস স্কুল বন্ধ থাকলেও দিতে হয় প্রতিমাসের বেতন। তাছাড়া, নানা রকমের ফি-তো রয়েছেই।
কোচিং বাণিজ্য নামে আরও একটি বাণিজ্য শিক্ষা খাতে সয়লাভ হয়ে গেছে। কখনো কখনো মনে হয় এ কারণেই সম্ভবত এখন আর আমরা মানুষের মত মানুষ পাই না। কিছু শিক্ষিত, কিন্তু পাপাসক্ত মানুষ পাই।
ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুপ্রভাব আমরা ইতিমধ্যে ভোগ করতে শুরু করেছি। হর হামেশাই এখন দেখা যায়, এস.এস.সি. পাস শিক্ষার্থী এস.এস.সি.'র পূর্ণরূপ জানে না। আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি তার ইংরেজি অনুবাদ জানে না। আমাদের দেশের বিশেষ বিশেষ দিন সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই। স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সাথে ২৫ শে মার্চ কালো রাতের পার্থক্য আলাদা করতে পারে না। কবে স্মৃতিসৌধ যেতে হয় আর কবে শহীদ মিনারে যেতে হয় সেই জ্ঞানটুকু পর্যন্ত তাদের নেই। আর এমন অদক্ষ, অর্ধশিক্ষিত জনশক্তির কারণেই আমাদের দেশে বেকার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।