রম্য গল্প- ছ্যাকা খাওয়ার উপকারিতা।

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি মজার ঘটনা শেয়ার করব। তা হচ্ছে ছ্যাকা খাওয়ার লাভ।


broken-1739128_1280.jpg

Image by Steve Watts from Pixabay

সাধারণত ছ্যাকা খাওয়া বলতে আমরা যা বুঝি, তা হচ্ছে ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়া। অর্থাৎ, আমি যাকে ভালবাসতাম তাকে যদি আমি না পাই; সেটাকেই আমরা ছ্যাকা খাওয়া ধরি। আমার জীবনেও এমন একটি ঘটনা এসেছিল। যাইহোক, আমি আজ সেই ঘটনা নিয়ে কথা বলবো না। আমি কথা বলব তার পরবর্তী ইফেক্ট নিয়ে।

সাধারণত ছেলেরা ছ্যাকা খেলে যেগুলো করে সেগুলো হচ্ছে; হাত কাটে, পা কাটে, বুক কাটে, বুকের লোম কাটে। গাজা খায়, মদ খায়, সিগারেট খায়। এর মধ্যে আমি আগে থেকেই সিগারেট খেতাম। নতুন করে আর এটা শুরু করার দরকার হয়নি। মদও বিভিন্ন উপলক্ষে একটু আধটু গিলতাম। অবশ্য আমি ছ্যাকা খাওয়ার পর সেই গেলাটাও বন্ধ করে দিয়েছি।

ছ্যাকা খাওয়ার পর আমি যে কাজটি করেছি সেটি হচ্ছে, মানুষের কাছে গান সাজেশন চেয়েছে ছ্যাকা খাওয়ার পর কোন কোন গানগুলো শুনলে ভালো লাগবে, কোন কোন গানগুলো আমি উপভোগ করতে পারব। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই হাসি তামাশা করেছে। অনেকেই প্রথাগত কিছু বাংলা গান সাজেস্ট করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আর্ক ব্যান্ড এবং তার ভোকাল হাসানের গান। একটা সময় আমি হাসানের গান শুনতাম না। ছ্যাকা খাওয়ার পর তার কয়েকটা গান শুনেছি।

তাছাড়া বেশ কয়েকটি ইংরেজি গানের নাম আমাকে সাজেস্ট করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি হচ্ছে Johny Don't Cry. আরেকটি হচ্ছে A 100 Miles. ওই সময় আমি বেশ কিছু মেলোডি গান শুনি। আমি আগে মেলোডি গান শুনতাম না। কিন্তু ওই সময়ের জন্য মেলোডি গানই ছিল পারফেক্ট। আমি খুব অবাক হয়ে যাই, মেলোডি গানগুলো বেশ সুন্দর। বহু দেশের, বহু ভাষার, বহু কন্ঠের মেলোডি গান শুনেছি। আমার কাছে বেশ ভালো লাগে গানগুলো। ভাবতাম, যদি আমি ছ্যাকা না খেতাম, তাহলে এই গানগুলোর সাথে পরিচিত হতাম না। এত সুন্দর সুন্দর গানও আমার শোনা হতো না। বিশেষ করে, Johny Don't Cry গানটি আমি অনেক শুনেছি। অন্ধকার ঘরে গানটিও আমার বেশ ভালো লেগেছিল।

তাছাড়া ওই সময় বন্ধু-বান্ধবের অনেক সহানুভূতি পেয়েছি। সব সময় বন্ধু বান্ধবের চা সিগারেটের বিল আমাকেই দেওয়া লাগতো। ওই সময় বিলগুলো তারাই দিয়েছিল। বিষয়টি আমি বেশ উপভোগ করেছি। আমার অনেক আত্মীয়-স্বজনও ঘটনাটি জানতো। তাই তারাও আমাকে একটু বাড়তি যত্ন করেছিল। ওই সময় অনেক খোঁজখবর নিয়েছিল। বেড়াতে যেতে বলেছিল। আমিও গিয়েছিলাম। খুব ভালো আপ্যায়ন পেয়েছি। মনে মনে বলেছি, ছ্যাকা খেয়ে যদি এত আদর আপ্যায়ন পাওয়া যায়, তাহলে খারাপ না। প্রতিবছরের দু একটা করে ছ্যাকা খাওয়া দরকার। অবশ্য তারপরে আর কপালে ছ্যাকা খাওয়া জুটেনি। কারণ কারো সাথে সম্পর্ক করতে পারিনি। যাইহোক, এখন আমি বিবাহিত পুরুষ। একটি ছেলেও আছে। আলহামদুলিল্লাহ। সব মিলিয়ে আমি বেশ খুশি।