স্কুল জীবনের রোজার স্মৃতি।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি স্মৃতি কথা শেয়ার করব। মূলত রমজান মাসে স্কুলের ছাত্রাবাসে থাকা স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আমি স্কুল জীবনের শেষ দুইটি ক্লাস, অর্থাৎ নবম এবং দশম শ্রেণীতে থাকাকালীন অবস্থায় স্কুলের ছাত্রাবাসে ছিলাম। স্কুলটি ছিল আমাদের থানা সদরে। ছাত্রাবাসে ক্লাস সিক্স থেকে পরীক্ষার্থী; অর্থাৎ এস.এস.সি পরীক্ষার্থী পর্যন্ত ভাইয়েরা ছিল। আমি ক্লাস নাইনে সেই স্কুলে ভর্তি হই এবং ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করি।
আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা খুবই ধার্মিক ছিলেন এবং ছাত্রাবাসের প্রায় সকল ছাত্রই মুসলমান ছিলেন। ক্লাস সিক্স এবং সেভেনের ছাত্ররা বাদে বাকি সবার জন্যই রোজা রাখা বাধ্যতামূলক ছিল। দুপুরবেলা আলাদা করে কারো জন্য রান্না করা হতো না। তবে সিক্স সেভেনের ছাত্ররা বয়সে খুবই ছোট হওয়ায়, অর্থাৎ তাদের জন্য রোজা পুরোপুরি ফরজ না হওয়ায় তারা ঐশ্বিকভাবে রোজা ভাঙতে পারতো। সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য কথা চিত খাওয়ার এর ব্যবস্থা করা হতো।
সেহরির সময় আমরা একসাথে সবাই সেহরি খেতাম। এভাবে দলবদ্ধভাবে সেহরি খাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার এর আগে ছিল না। আমি বিষয়টি খুব উপভোগ করি। এক পর্যায়ে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে যায় যখন সেই জীবন থেকে বের হয়ে আসি খুব মিস করেছিলাম।
আমাদের ছাত্রাবাসে নামাজের জন্য একই জায়গা ছিল। যেখানে আমাদের ছাত্রাবাসের হোস্টেল সুপার আমাদেরকে নামাজ পড়াতেন। মাঝেমধ্যে আমাদের ইংরেজি স্যার এসে সেখানে তারাবির নামাজ পড়াতেন। আমরা প্রায়ই নামাজ পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যেতাম। কিন্তু নামাজের পরেই রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের সেখানে থাকতে হতো। অবশ্য এই উসিলায় আমাদের কিছুটা ধর্ম কর্ম হয়েছিল।
আমি সেখানে থাকার আগে, তানা রোজা রাখতে অভ্যস্ত ছিলাম না। কিন্তু সেখানের পরিবেশ আবহাওয়া সবকিছুই এতটা ধর্মীয় বান্ধব ছিল, ২৩ রোজা পর্যন্ত আমি স্কুলে ছিলাম, সবগুলো রোজায় আমি রাখতে পেরেছিলাম কোন রকমের সমস্যা ছাড়া। প্রথম হয় বেশ বিচিত্র মনে হয়েছিল আমার কাছে।
স্কুলের ভুলতে না পারা স্মৃতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই রমজান মাসের স্মৃতি। আমি সেখানে দুটি রমজান মাস কাটিয়েছিলাম। দুটি প্রায় একই রকম ছিল কিন্তু উৎসবমুখর। সেই দিনগুলোকে খুব মিস করি।