দুর্ঘটনা - ছেলেকে বিড়াল কামড় দিয়েছে।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে গতকাল ঘটা একটি দূর্ঘটনার কথা শেয়ার করবো।

গতকাল আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে আমার স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে আমার বাসায় ফেরার কথা ছিলো। যাক, আসার কিছুক্ষণ আগে আমার শালা এসে আমার ছেলের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটায়। উল্লেখ্য, আমার ছেলের বয়স প্রায় বিশ মাস। কিছুক্ষণ পর সে চলে যায়৷ কিন্তু আমার ছেলে নিচে যাওয়ার জন্য কান্না করতে থাকে। তখন আমার শাশুড়ী তাকে নিয়ে নিচে যায়।
ছোটবেলা থেকেই বিড়াল আমার ছেলের খুব পছন্দ। আমাদের বাসাতেও অনেকেই বিড়াল লালনপালন করে। আমার ছেলে সেসব বিড়ালের সাথে প্রতিদিনই খেলে। তো, সেখানেও একটি বিড়াল ছিলো যার সাথে সে সবসময় খেলতো। গতকালও তেমনই খেলছিলো। কিছুক্ষণ খেলার পর সম্ভবত সে বিড়ালের লেজ ধরে টান দেয়। বিরক্ত হয়ে বিড়াল তখন তাকে কামড় দিয়ে দেয়।
কামড়ের স্থানে বিড়ালের তিনটি দাগ স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে সাথে সাথে কাপড় কাচার সাবান দিয়ে ভালো মতো ধৌত করি স্থানটি। অনেকেই ওই অবস্থায় এন্টিসেপটিক, যেমনঃ হেক্সাসল, স্যাভলন বা ডেটল ব্যবহার করে। এসব না করে কাপড় কাঁচার সাবান ব্যবহার করতে হয়। এতে করে ৯০% র্যাবিস যদি থেকে থাকে, নষ্ট হয়ে যায়।
এরপর আমরা রওয়ানা দেই। কারন, আমার প্লান ছিলো আমার বাসায় এনে ভ্যাক্সিন দিবো। দূর্ভাগ্যবশত এখন র্যাভিস ভ্যাক্সিন সাপ্লাই শর্ট। কিন্তু আমি যেহেতু ফার্মেসি লাইনে আছি দীর্ঘদিন, তাই ম্যানেজ করতে পেরেছিলাম প্রথম ডোজ। আশাকরি বাকি ডোজের ব্যবস্থাও আল্লাহ করে দিবে।
ইঞ্জেকশন পুশ করার পর ছেলেটা কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করে। কিন্তু বিকাল বেলায় সে কিছুটা ব্যথা অনুভব করে। তখন সেখানে বরফ রুমালে প্যাঁচিয়ে কিছুক্ষণ দিয়ে রাখি। আর, প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াই। আলহামদুলিল্লাহ, সকাল বেলা সে বেশ তাজা অবস্থায় ছিল। কিন্তু আমি কিছুটা আতংকিত। একটা সুক্ষ্ণ ভয় মনের মধ্যে কাজ করে। জানিনা, এটা সম্ভবত বাবা হিসাবেই পাওয়া ভয়। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।