শিশুদের আচরণঃ পর্ব ২ - পরিবারের প্রভাব।

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আমি শিশুদের নিয়ে একটি সিরিজ শুরু করছি। যার দ্বিতীয় পর্ব থাকছে আজ। যেখানে আমি আলোচনা করব, শিশুদের উপর পরিবারের প্রভাব নিয়ে।


omarmedinafilms-toddles-1399701_1280.jpg

Image by Omar Medina from Pixabay

প্রথম পর্বে, যেখানে আমি পরিবেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলাম সেখানে মনোবিজ্ঞানের কথা অনুযায়ী বলেছিলাম শিশুদের আচরণ বিকশিত হয় তাদের জন্মের প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই। তাদের আচরণে যেমন পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, একই রকম ভাবে রয়েছে পরিবারের প্রভাব। বলা ভালো পরিবেশের চেয়েও পরিবারের প্রভাব শিশুর আচরণ বিকাশে বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

কারণ শিশুরা শিখেই মূলত তাদের পরিবারের মানুষজনদের কাছ থেকে। বিশেষ করে তাদের বাবা-মা এবং পরিবারের যদি অন্য কোন সদস্য থাকে তাদের কাছ থেকে। তারা সারাদিন কি করে, কিভাবে একে অন্যের সাথে কথা বলে এসব দেখে দেখে তারা বড় হয়। এ থেকেই তারা তাদের আচরণের বেশিরভাগ অংশ শিখে থাকে।

পরিবারের সদস্যদের আচরণ এবং কথাবার্তা যদি মার্জিত হয় তাহলে শিশুটি ও মার্জিত আচরণ এবং কথাবার্তা শিখে। পরিবারের এক সদস্য অন্য সদস্যকে সম্মান করে কিনা সাহায্য করে কিনা এসব থেকেও তারা শিক্ষা নেয়। পরিবারের সদস্যরা কতটুকু সুশৃংখল, কতটুকু ধার্মিক অর্থাৎ ধর্ম পালনে কতটুকু আগ্রহী এসব থেকেও তারা শিখে।

কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যদি পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ না থাকে, একজন আরেকজনকে সাহায্য করার মন মানসিকতা না রাখে, তাদের মধ্যে যদি হাতাহাতি কিংবা মারামারি কিংবা ঝগড়া হয়, তাহলে শিশুরাও এসব দেখে বড় হয়। পরবর্তীতে তারাও এই ধরনের আচরণই করে।

তাই আমার মতে পরিবেশের চেয়েও শিশুদের উপর পরিবারের প্রভাব বেশি গুরুত্ব বহন করে। এ কারণে বলবো যাদের পরিবারে সমস্যা আছে, নিজেদের কথা বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পরিবারের পরিবেশ উন্নত করুন।