স্মৃতিকথা - আমাদের কুকুর, বিড়াল এবং মায়ের বিশ্বাস।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি স্মৃতি কথা শেয়ার করবো। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, গৃহপালিত পশু।

ছোটবেলায় আমাদের একটি গৃহপালিত কুকুর এবং একটি বিড়াল ছিলো। কুকুরটি কিভাবে গৃহপালিত হলো তা আমার জানা নেই। তবে কুকুরটা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। আমার বাবা ছিলেন প্রবাসী এবং মা ছিলেন একজন আর্থাইটিস রোগী। তাছাড়া অন্য আরো নানান রকম রোগ ব্যাধিতে তিনি আক্রান্ত ছিলেন। যার কারনে এই কুকুরটি আমাদের প্রহরী হিসেবে কাজ করতো। অসংখ্যবার চোরের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছে।
তবে বিড়ালটির ঘটনা আমি জানি। আমাদের বাড়িতে একটু মক্তব ছিল। সেখানে এক হুজুর লজিং থাকতো আর। তিনি যেই ঘরে থাকতেন সেই ঘরের বাসিন্দারা তখন ঢাকা শহরে থাকত। একদিন ওই ঘর থেকে কোন কিছু একটা পঁচার ভীষণ গন্ধ বেরোচ্ছিল। তখন আমি আর সেই হুজুর ওই ঘরের কুঠুরিতে উঠলাম। দেখলাম একটি বিড়াল মরে পঁচে আছে এবং তার পাশেই একটি বিড়ালছানা প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় আছে।
আমার মা সাথে সাথে বিড়ালের বাচ্চাটিকে নিলেন এবং বললেন,
হয়ত আমিও খুব শীঘ্রই মারা যাবো৷ আমার বাচ্চাদুটিকে এভাবে রেখে। তখন আমার মত কেউ না কেউ আমার বাচ্চাগুলোকে আগলে রেখে বড় করবে। যেমনটা আমি করলাম।
এই ঘটনার পর অনেকগুলো বছর কেটে যায়। এক সময় মায়ের চিকিৎসা এবং আমাদের পড়ালেখার জন্য আমরা ঢাকা শহর চলে আসি। মূলত তখন থেকেই আমরা আমাদের প্রিয় এই দুটি প্রাণীকে হারিয়ে ফেলি। ঢাকায় আসার মাস ছয়েক পর ঠিকই আমার মা মারা যায়, আমাদের দুই ভাই-বোনকে ছোট রেখেই। লোকমুখে শুনেছি, তারা মায়ের মৃত্যুর পর আমাদের কুকুরটিকে দিন-রাত কাঁদতে দেখেছে। এরপর কোথাও যেন হারিয়ে গেছে।
বিড়ালটির কথা অবশ্য কারও মনেনেই। কিন্তু আমার মনে ছিলো মায়ের সেই কথাটি। ঠিকই, এক নিঃসন্তান মহিলা পরবর্তীতে আমাদের হাল ধরে। লালনপালন করে বড় করে তুলে। এখন যদি কেউ আমাদের দেখে, কেউই বলবে না যে আমরা উনার উদরে জন্মাইনি। মায়ের আদরেই বড় করছেন। যেভাবে আমার মা ওই বিড়ালছানাটিকে বড় করেছিল।