জেনারেল রাইটিং - প্রয়োজনীয় বিষয়ে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্ত হচ্ছে, খুব জরুরী, প্রয়োজনীয় বিষয়ে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা।

আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার স্কুল জীবনের কথা গুলো৷ আমি যখন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হই তখন আমাদের সাবজেক্ট ছিল মাত্র তিনটি। বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত। তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তার সাথে সমাজ, বিজ্ঞান এবং ইসলাম শিক্ষা যুক্ত হয়। ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠার পর বাংলার সহপাঠ এর সাথে ইংরেজি গ্রামার এবং কৃষি শিক্ষার মতো সাবজেক্টও যুক্ত হয়।
হাই স্কুলের সর্বমোট আটটি সাবজেক্টে পড়ানো হতো। নবম দশম শ্রেণীতে উঠলে তখন গ্রুপ তৈরি হয় অর্থাৎ সেখানে যে যে বিষয়ে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, ঐখান থেকে পছন্দ করে কেউ সাইন্স, কেউ আর্টস, কেউ কমার্সে যায়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো পুরো প্রাইমারি জীবনে আমরা ইংরেজি এবং গণিতের বাহিরে অন্যান্য সাবজেক্ট গুলো নিয়ে ততটা মাথা ঘামাতাম না। এমনকি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এই ধারায় অব্যাহত থাকতো। নবম দশম শ্রেণীতে গণিত এবং ইংরেজির সাথে গ্রুপ সাবজেক্ট যুক্ত হতো।
এতে করে অন্যান্য সাবজেক্ট থেকে যে অপার সম্ভাবনাময় জ্ঞান আমাদের থাকার দরকার ছিল সেসব থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আমার খুব খারাপ লাগে আমার অনেক সহপাঠী যারা তখনকার সমাজ বইতে ইতিহাসের অনেক কিছুই জানেনা। আমাদের সমাজ বইতে তৎকালীন সময়ের পাল আমল, সেন আমল থেকে শুরু করে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি থেকে মুঘল বাদশাহ হয়ে ইংরেজ থেকে বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যন্ত ছিল।
কিন্তু এসবের কিছুই তারা জানে না। ইতিহাসে টুকটাক কেউ কি কিছু মনে রাখলেও, আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয় কারো নূন্যতম কোন জ্ঞান নেই। কোনটি বরেন্দ্র অঞ্চল, কোনটি ভাওয়াল অঞ্চল, এবং কোনটি সমতল অঞ্চল এই বিষয় পর্যন্ত তাদের ধারণা নেই।
বর্তমানের সচেতন প্রজন্ম তো আরো এক কাঠি স্বরেস। তাদের দাবি হচ্ছে মানুষের জন্ম - মৃত্যু সাল, যুদ্ধের সাল, কার বাবার নাম কি এসব আমরা কেন মনে রাখতে যাব? সংকীর্ণ চিন্তায় বিষয়টিকে বাস্তবিক বলে মনে হয়। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে এর মাধ্যমে আমরা আমাদের নিজের শিকড় কে ভুলে যাবো। একটা সময় আমরা কারা, আমাদের অস্তিত্ব কি ছিল, সেই বিষয় সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা থাকবেনা। যার ফলাফল বর্তমানে পাওয়া যায়। অনেক বাচ্চা আছে যারা নিজেদের দাদার নাম নানার নাম জানেনা। এরা আমাদের ইতিহাস জানবে কি করে?