জেনারেল রাইটিং - শীতকালীন পিঠা উৎসব।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে এটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে হাজির হয়েছি। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, শীতকালের পিঠা।

বাংলাদেশে এখন পুরোদমে শীত চলছে। শীত এতটাই প্রবল যে শহরবাসীরাও শীতের প্রকোপ টের পাচ্ছে। বহুদিন আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শীত পড়ে জানুয়ারি মাসে। এখন চলছে জানুয়ারি মাস। আর এই মাসেই সবচেয়ে বেশি শীত আমরা অনুভব করি।
শীতকালের সবকিছুই খারাপ নয়। শীতের সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে শীতের পিঠা। শীতকাল আসলেই যেন পিঠার ধুম পড়ে যায় আমাদের বাংলাদেশে। বিশেষ করে ভাপা পিঠার নাম শীতের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। ভাপা পিঠার পাশাপাশি চিতই পিঠারও যথেষ্ট প্রচলন রয়েছে। শীতের ভাপা পিঠা এতটাই জনপ্রিয় যে গ্রামের পাশাপাশি শহরের অলিতে গলিতে, মহল্লার মোড়ে মোড়ে পিঠা পাওয়া যায়।
পিঠার পাশাপাশি রয়েছে খেজুরের রস, তালের রস। কেউ কাঁচা রস খায়, কেউ সিদ্ধ করে খায়, কেউ আবার খায় ক্ষীর পাকিয়ে। অনেকেই আবার খেজুরের গুড় খেতে পছন্দ করে।
শীত আসলে পিঠা আর খেজুরের রসের পাশাপাশি গুড় আর মুড়ি দিয়ে বানানো মুড়ির মোয়াও পাওয়া যায়। গ্রাম অঞ্চলে মুড়ির মোয়ার জনপ্রিয়তা এতটাই যে সকাল হলে বাচ্চাদের হাতে একটি করে মুড়ির মোয়া দেওয়া হতো সকালের নাস্তা হিসেবে।
শীতকালীন পিঠার আমেজ টের পাওয়া যায় গ্রামগুলোতে। আমাদের গ্রামের প্রাচীন একটি রীতি হচ্ছে শীতকালে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে পিঠ বিলি করা। এর প্রস্তুতি শুরু হয় শীতের শুরুতে মাঠ থেকে আসা আমন ধানের মধ্যে দিয়ে। গৃহিণীরা আমন ধানের একটি অংশ সিদ্ধ না করে সেগুলো থেকে আটা তৈরি করে। আটা প্রস্তুত হলে শুরু হয় পিঠা বানানোর উৎসব। গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে, ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। প্রতিটা বাড়িতে, প্রতিটা ঘরে পিঠা বানানো হয়। একেক দিন একেক ঘরে পিঠা বানানো হয়। আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যেও এই পিঠা বিলি করা হয়। সবাই পিঠা বানায়। সবাই সবাইকে দেয়। শীতের পিঠার মাধ্যমে গ্রামগুলোতে ঘরে ঘরে গড়ে ওঠে এক অন্যরকম ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সম্প্রীতি।
সুস্বাদু এবং রসালো ফলের জন্য জৈষ্ঠ্যমাসকে বলা হয় মধুমাস। যদি তাই হয়, তাহলে শীতকাল হলো মিষ্টি কাল। কারণ এই ঋতুতেই তো আমরা পাই মজার মজার যত সব পিঠা।
