জেনারেল রাইটিং - মানুষকে ঠকানো না নিজেকে ঠকানো?
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, মানুষকে ঠকানো। অর্থাৎ, মানুষকে ঠকানো, না নিজেকে ঠকানো সেই বিষয়ে আজ আমি আপনাদের সাথে কথা বলবো।

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব। অর্থাৎ, পৃথিবীতে যত জীবন্ত প্রাণী রয়েছে, তার মধ্যে মানুষ হচ্ছে সবার সেরা। কারণ মানুষের রয়েছে জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, মনুষত্ব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
তদুপরি, সব মানুষের সমান জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা করার ক্ষমতা নেই। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি জ্ঞানী, বুদ্ধিমান। আর কিছু রয়েছে তুলনামূলক কম জ্ঞানী, বুদ্ধিমান। মানুষ স্রষ্ঠা প্রদত্ত এই জ্ঞান, বুদ্ধির ভালো ব্যবহার করে আবিষ্কার করেছে নানা রকম উদ্ভাবনী প্রযুক্তি। সভ্যতার বিকাশকে করেছে সহজতর এবং গতিশীল। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছে, যারা এই জ্ঞানের অপব্যবহার করে অন্যান্য মানুষকে ঠকায়।
কেউ কেউ বোকা মানুষদেরকে ঠকায়। কেউ কেউ ঐ বিষয়ে জানেনা এমন মানুষদেরকে ঠকায়। আমি কর্মজীবনে একজন ফার্মাসিস্ট। আমি এই সেক্টরের কথা ভালো বলতে পারব। বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তুলনামূলক কম কার্যকর, ক্ষেত্র বিশেষ ভেজাল; এইরকম ওষুধ তৈরি করে। এগুলোকে আমরা বলি হলাই ঔষধ। অনেক ফার্মাসিস্ট এই হলাই ঔষধ নিয়ে রোগীদের কাছে বিক্রি করে। রোগীরা সরল বিশ্বাসে সেই ঔষধ নিয়ে যায় এবং সেবন করে। কখনো কখনো এই ঔষধে রোগী সেরে যায়। তবে বেশিরভাগ সময় এই ঔষধ কাজ করে না।
রোগীর এই বিষয়ে ধারণা নেই বলে ডাক্তারের উপর বা ফার্মাসিস্টের উপর বিশ্বাস করে ঔষধ কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু ফার্মাসিস্ট নিজে জানে এই ঔষধ সঠিকভাবে, সঠিক মাত্রায় কাজ করে না কিন্তু নিজে অতিরিক্ত লাভের আশায় লোভে পড়ে রোগীকে ঠকায়। এতে করে তার অনেক বেশি লাভ হয়। কারণ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ঔষধ বিক্রি করলে লাভ কম হয়। তাই তারা এই ধরনের ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে।
আমি অনেক ডাক্তারকে চিনি, যারা সুনামের আশায়, যাতে করে তাদের কাছে বেশি বেশি রোগী আসে, এজন্য মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কিন্তু দ্রুত কার্যকরী ঔষধ লিখে থাকে। এই ধরনের ঔষধ সেবন করলে রোগী খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রোগীর শরীরে থাকে। এতে করে ডাক্তার নিজের সুনামের জন্য রোগীকে সঠিক চিকিৎসা বঞ্চিত করেন। এমনও হয় কমিশনের আশায় অপ্রয়োজনীয় অনেক টেস্ট লিখে থাকেন। তাছাড়া ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঔষধ রোগীকে প্রেসক্রাইব করেন।
তারা ভাবছে তারা মানুষকে ঠকিয়েছে, এবং নিজে লাভবান হয়েছে। কিন্তু যারা একটু দূর থেকে, একটু সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে, তারা বুঝতে পারে, এরা আসলে মানুষকে নয়, নিজেকেই ঠকিয়েছে। যেসব ফার্মাসিস্ট ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে, তাদের কখনই অভাব দূর হয়না। তারা সবসময়ই নানা রকমের আর্থিক সমস্যা ভুগে। অথচ ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে তাদের টাকার পাহাড় হওয়ার কথা ছিলো। তারা হয় নিজে, না হয় তাদের পরিবারের কেউ মারাত্মক রকমের জটিল রোগে ভুগে। হঠাৎ হঠাৎ বড় রকমের কোন ক্ষতি হয়ে যায়। এজন্য, কখনই কাউকে ঠকাতে নেই। এতে করে নিজের ঠকতে হয়।