জেনারেল রাইটিং - অহেতুক মিথ্যা কথা বলা।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করবো। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, অহেতুক মিথ্যা কথা বলা।

মিথ্যা বলা মহাপাপ। এই বিষয়টা আমাদেরকে খুব ছোট বেলাতেই শেখানো হয়। কারন, মিথ্যাই সকল প্রকার অপর্কমের সূত্রপাত করে। এক পর্যায়ে সকল প্রকার অপকর্মকে ছায়া দেয়। মূলত, মিথ্যাই হচ্ছে পৃথিবীতে থাকা সকল অপকর্মের মেরুদণ্ড। খুব ক্ষমতাশালী মানুষও সমাজ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অথচ তিনি চাইলেই সত্য স্বীকার করতে পারতেন।
ভয়ানক বিষয় হচ্ছে, মিথ্যা সমাজে এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এখন আর সত্য মিথ্যা আলাদা করে বুঝার উপায় থাকেনা। অনেকে আবার একটু ডিপ্লোমেটিক। তারা নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের সুবিধার্থে এমন ভাবে কথা বলে, যা সত্য না। আবার তা মিথ্যাও না। এই চালাকি এবং চাতুরতাকে তারা নাম দিয়েছে ডিপ্লোমেটিক আন্সার!
মানুষ এখন বিনা প্রয়োজনে, বিনা লাভেও মিথ্যা কথা বলে। অবশ্য, এমন না যে প্রয়োজন থাকলে কিংবা লাভ থাকলে মিথ্যা বলা যাবে। তবুও, মিথ্যা বলার পিছনে এটুকু যুক্তি দেয়া যেতে পারে। কিন্তু মানুষ যখন অহেতুক মিথ্যা বলে, সেটা তখন সামাজিক অবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবায়৷ এমন কেন?
মিথ্যা বলার স্বভাব এমন ভাবে ছড়িয়েছে, বিক্রেতা ক্রেতাকে মিথ্যা কথা বলে বিশ্বাস অর্জনের জন্য। অর্থাৎ, যা দিয়ে সে বিশ্বাস অর্জন করতে চাচ্ছে, সেটাই মিথ্যা। আবার ক্রেতা কম দামে পন্য পাওয়ার জন্য বিক্রেতাকে মিথ্যা কথা বলে। বাসের হেল্পারও মিথ্যা বলে, যাত্রীও মিথ্যা বলে। সবাই সবার সাথে দেদারসে মিথ্যা বলছে। কখনও কোন কারনে, কখনও কোন কারন ছাড়া। আবার অনেকে নিজেকে বড় দেখানোর জন্যও মিথ্যা বলে। অর্থাৎ, মিথ্যুক পরিচয়ের চেয়ে, তার হ্যাডামওয়ালা পরিচয় বেশি জরুরি।
এভাবেই চলছে বর্তমান জামানা। আমাদের সকলেরই সত্য কথা বলা উচিৎ। মিথ্যা পরিহার করা উচিৎ। যাদের অভ্যাস আছে, একটু একটু করে সত্য বলার অভ্যাস করতে হবে। তবেই আমরা সুন্দর একটি সমাজ পাবো।