জেনারেল রাইটিং - মানুষের বড় বিচিত্র মন।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, মানুষের মন। অর্থাৎ, মানুষের বড়ই আজব এবং বিচিত্র মন নিয়ে আজ আমি আপনাদের সামনে আমার লেখাটি তুলে ধরব।

কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা ডাকসু কতৃক একটি পেট ফেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে মানুষজন সেখানে জড়ো হয়েছে। সেখানে একটি মেয়ে তার অসাধারণ সুন্দর ধবধবে সাদা একটি মুরগি নিয়ে হাজির হয়। মুরগিটির সে সুন্দর একটি নামও রেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন সুন্দর একটি মুরগি দেখে আমাদের যা মনে হয়, তা হচ্ছে এর মাংসও হয়ত মুরগির মতোই স্বাদ হবে। তা নিয়ে দেখলাম ফেসবুকে একজন রেগেমেগে স্ট্যাটাস দিল, কেন খেতে হবে? আমি বুঝলাম না, খাওয়ার জিনিস খেতে চাইলে সমস্যা কি? মানুষ তো আর সেখানকার কুকুর বিড়াল খেতে চায় নাই। মুরগীই খেতে চেয়েছে। সেখানে তো অনেক কুকুর বেড়ালও ছিল।
আমরা নিরাপদ সড়ক চাই। আমরা চাই সড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমানোর জন্য। কিন্তু আমি অনেক ড্রাইভারকে চিনি যারা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে নারাজ। ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য নির্ধারিত যে লিখিত পরীক্ষা সেটি তারা দিতেই চায় না। বড় বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের যেসব ট্র্যাক ড্রাইভার, বাস ড্রাইভার রয়েছে তারা আসলে নিজের নামটা লিখতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ আছে। তাদের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে আপনি করবেন কি? অর্থাৎ, তাদের লিখিত পরীক্ষাটা নিবনই বা কিভাবে? যাইহোক, একদিকে বলতে গিয়ে অন্য দিকে চলে গিয়েছি। আমরা নিরাপদ সড়ক চাই, কিন্তু সেই একইভাবে মহাসড়কগুলোতে অটোরিক্সাও চড়তে চাইম একসাথে তো দুটি জিনিস হতে পারে না। আমাদের যে কোন একটিকে বেছে নিতে হবে। হয় নিরাপদ সড়ক বেছে নিতে হবে, না হয় মহাসড়কে অটোরিক্সা বেছে নিতে হবে। দুটির যেকোনো একটি। দুটো একসাথে কখনোই হতে পারে না।
আমরা চাই আমাদের প্রিয় শহর ঢাকা, আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ, দূষণমুক্ত থাকুক। কিন্তু যদি আমাদেরকে বলা হয় আমাদের ফেলা আবর্জনাগুলোকে ডাস্টবিনে রাখতে হবে, অথবা, আলাদা আলাদা ডাস্টবিন তৈরি করতে হবে, নির্দিষ্ট ময়লার জন্য নির্দিষ্ট। যেমন ধরুন, পঁচনশীল ময়লার জন্য একটি আলাদা ডাস্টবিন, প্লাস্টিকের জন্য একটি আলাদা ডাস্টবিন, এবং অপঁচনশীল বা দীর্ঘ সময় ধরে পঁচে এমন জিনিসের জন্য আলাদা ডাস্টবিন। আমরা কিন্তু তা করতে রাজি না।
কত বিচিত্র আমাদের এই মন! আমরা কি চাই সেটা আমরা জানি, আমরা কেন চাই সেটা আমরা জানি, আমরা কিভাবে চাই সেটাও আমরা জানি। কিন্তু আমরা যা চাই তা আমরা নিজেরা করতে পারবো না। আমরা ভাবি ফেরেশতা এসে আমাদের এই কাজ করে দেবে। এই হচ্ছে আমাদের মানুষের বিচিত্র মন।