জেনারেল রাইটিং - আমাদের প্রেমিক পুরুষেরা এবং সময়ের অপচয়।
আসসালামু ওয়ালাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, আমাদের প্রেমিক পুরুষেরা এবং সময়ের অপচয়।

আমাদের দেশে প্রেমিক পুরুষ হওয়া খুবই কষ্টের কাজ। কারণে প্রেমিক পুরুষদের সময় সম্পর্কে খুবই সচেতন থাকতে হয়। ঘড়ির কাটা মেনে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করা লাগে। বিশেষ করে কিশোর এবং তরুণদের ক্ষেত্রে।
প্রেমিকার ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন সে রাস্তা দিয়ে যাবে, সেই মুহূর্তে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে প্রেমিক পুরুষদের। আমি বর্তমানে যে ফার্মেসিতে আছে তার ঢেক বিপরীত দিকে একটি স্কুল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বেশ স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। আমি প্রায়শই বিভিন্ন মজার ঘটনা খেয়াল করি। একদল ছেলেপেলে রয়েছে যারা আগে এই স্কুলে পড়তো, বর্তমানে হয় কলেজে পড়ে না হয় ঝরে গেছে। তারা নিয়মিত স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি প্রথম প্রথম ভাবতাম এটা খুবই স্বাভাবিক কারণ স্কুলটি বাজারের এক পাশে অবস্থিত। এখানে সব সময় মানুষ থাকে।
কিন্তু কয়েকদিন পর একটি অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলাম। তাদের টাইমিং খুবই অসাধারণ। ক্লাস শুরুর আগে এবং টিফিন পিরিওডে আমাদের ফার্মেসির সামনে ভিড় পড়ে যায়। সেটা কাস্টমার বা রোগীদের নয়। সেই ছেলেগুলোর। অর্থাৎ, প্রেমিক পুরুষদের ভিড়। তাদের আসলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কিছু করারও থাকে না।
তারা নিয়ম করে সকালবেলা স্কুলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে, ক্লাস শুরু হওয়া পর্যন্ত। ক্লাস শুরু হলে সামনের জায়গাটা মোটামুটি ফাঁকা হয়ে যায়। তারপর যখন টিফিন হবে, তখন আস্তে আস্তে স্কুলের সামনে তাদের ভিড় বাড়তে থাকে। টিফিন পিরিওড শেষ হলে আগের মতই তাদের ভিড় কমে যায়। ছুটির সময়কার ঘটনাটা আমি জানিনা, কারণ ওই সময় আমাদের ফার্মেসি বন্ধ থাকে।
এই ঘটনায় আমার নিজের ওই বয়সের সময়ের কথা মনে পড়ে যায়। আমি নিজেও এভাবে প্রচুর সময় অপচয় করেছি। এই বয়সের কিশোররা, নতুন কিছু শেখার পরিবর্তে এভাবেই সময় অপচয় করে।
অনেকেই এটাকে দোষের কিছু ভাবেন না। আমি নিজেও দোষ দেখি না। আমি নিজেও এমন কাজ করেছি। আর আমাদের কালচার ওই এমন, যা আমাদেরকে নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু করতে অনুপ্রেরণা যোগায় না। যার কারনে আমাদের কিশোররা একদম নমপ্রোডাক্টটিভ একটি কৈশোরকাল পার করে। এজন্যই মনে হয়, কখনো কখনো প্রেমিক পুরুষ হওয়া খুবই কঠিন কাজ।