আত্মত্যাগী স্ত্রী || সন্দেহবাতিক স্ত্রী || নির্যাতনকারী স্ত্রীsteemCreated with Sketch.

এই পৃথিবীতে ১২ প্রকার স্ত্রী আছে। যথা:
1_MKycpQyQlYqHI4H1MZ0Ykg.jpg

১. সাধারণ স্ত্রী (Ordinary Wife)

এই ধরনের স্ত্রীদের জীবনে ঝাঁঝ নেই, উত্তাপ নেই, শখও খুব একটা নেই। সংসার চালানো, রান্না-বান্না, বাচ্চা সামলানো—এই নিয়েই তাদের পৃথিবী। স্বামীর আদরে তাদের চাহিদা কম, অভিযোগ প্রায় নেই। এদের চোখে সংসার মানে “তুমি-আমি ও চারকাঠি ঘর।” স্বামী যতটুকু দেয়, সেটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট। কিন্তু ভুলেও এদের অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ দুঃখে-আঘাতে এরা একদিন হঠাৎ করে নিঃশব্দে হারিয়ে যায়!

২. অগ্নিমূর্তি স্ত্রী (Volcanic Wife)

এই স্ত্রীরা সারাক্ষণ মেজাজে থাকেন। ঝগড়া, রাগ, চিৎকার এদের প্রাত্যহিক চর্চার অংশ। পান থেকে চুন খসলেই বিস্ফোরণ অনিবার্য। কথায় কথায় তালাক, মামলা, থানাপুলিশের হুমকি দেন। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, এমনকি কুকুর-বিড়ালও এদের ভয় পায়। তবে এদের প্রেম গভীর, আর ভীষণ রকম দখলদারিত্বে বিশ্বাসী। অন্য নারীকে স্বামীর চোখে পড়তে দেখলেই মহাভারত শুরু!

৩. কর্তৃত্বপরায়ণা স্ত্রী (Dominant Wife)

এরা সংসারের প্রধানমন্ত্রী, স্বামী একমাত্র নাগরিক। ঘরের যাবতীয় সিদ্ধান্তের লাগাম থাকে এদের হাতে। স্বামীর কোন জামা পরবে, কাকে ফোন করবে, কোথায় যাবে—সবই আগে এদের অনুমোদন নিতে হয়। কেউ কেউ বলে এরা স্ত্রী না, পুরুষের উপর বসে থাকা সিংহাসনের রাণী। তবে সত্যি বলতে কি, এদের বাড়িতে “শান্তি” নামক বস্তুটি দেখা যায় না, কিন্তু “শৃঙ্খলা” থাকে পাকা বাঁধনে।

৪. সাজগোজপ্রিয় স্ত্রী (Glamorous Wife)

এদের সংসারের চেয়ে বেশি প্রিয় আয়না ও ক্যামেরা। ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রামে স্টোরি না দিলে দিনের খাবারও হজম হয় না। নতুন শাড়ি না পেলে মন খারাপ হয়ে যায়, সেলফি ছাড়া দিন কাটে না। ঘরের ভেতর ফ্রেশ মেকআপ, বাইরে গেলে ব্র্যান্ডেড। তবে, কারও কারও অভ্যাস এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্বামীকে নিয়ে ছবি না দিলে তাকে বিবাহিত বলে মনেই হয় না।

৫. আত্মত্যাগী স্ত্রী (Self-Sacrificing Wife)

স্বামীর সুখে হাসে, কাঁদে। সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। নিজের চাহিদা কখনও বলে না। স্বামী কষ্টে থাকলে ওদের চোখে ঘুম থাকে না। অনেকটা নদীর মতো, সব দিয়ে যায়, কিছু রাখে না নিজের জন্য। তবে এদের দুঃখের গভীরতা কেউ বোঝে না, কারণ তারা দুঃখ মুখে আনে না।

৬. সন্দেহবাতিক স্ত্রী (Suspicious Wife)

স্বামী একটু ফোন হাতে নিলে এদের সন্দেহ হয়। কল লিস্ট চেক করা, ফেসবুক ইনবক্স পড়া, অফিস পার্টির ছবি দেখে জেরা করা—সবই নিয়মিত। “তোমার ওই কলিগ রুবিনা কে?”, “তুমি রাতে অফিসে থেকেছো না বাইরে?”—এইসব প্রশ্নে স্বামী প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্দেহ তাদের এতটাই গ্রাস করে যে, একসময় নিজের ওপরও সন্দেহ শুরু করে দেয়!

৭. ভদ্র-সমাজের মুখোশপরা স্ত্রী (Social Media Wife)

বাইরে সভ্য, ভদ্র, হাসিমুখ; ভেতরে আগ্নেয়গিরি! ইনস্টাগ্রামে আদুরে পোস্ট, ফেসবুকে স্বামীকে ‘সোলমেট’ বলে ট্যাগ, অথচ বাস্তবে স্বামীর দিকে তাকানো হয় কদাচিৎ। সামাজিক সম্মানের জন্য দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখে, ভেতরে কোনও উষ্ণতা নেই। সমাজে নিজের ছবি সুন্দর রাখতে, গৃহস্থালির আসল কাহিনি ঢেকে রাখে।

৮. অর্থলোভী স্ত্রী (Materialistic Wife)

এদের প্রেম মানে উপহার, ভালোবাসা মানে শপিং। স্বামীর ভালবাসার মান নির্ধারিত হয় সে কত দামি জিনিস কিনছে তার উপর। স্বামী চাকরি হারালে বা রোজগার কম হলে প্রেমও কমে যায়। যারা মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নিয়েও "রিয়েল হাউজওয়াইফস অফ বনানী" হতে চায়, তারা এই শ্রেণির অন্তর্গত।

৯. নির্যাতনকারী স্ত্রী (Tyrant Wife)

এই প্রজাতি বিরল হলেও মারাত্মক। স্বামীকে মানসিক বা কখনো কখনো শারীরিক নির্যাতন করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। ভুল হলেই বকা, কথা কাটাকাটি হলেই গালাগাল, আর তীব্র ঝগড়ার এক পর্যায়ে বালিশ ছোঁড়া বা থাপ্পড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। স্বামী বেচারা সারাক্ষণ ভয়ে কাঁপে, তবু কাউকে কিছু বলতে পারে না।

১০. মায়ের প্রতি অতিআসক্ত স্ত্রী (Mommy's Girl Wife)

স্বামীর চেয়ে বেশি মায়ের কথা শোনে। “আম্মু বলেছে এটা খারাপ”, “মা বলেছে ওই কাজ করো না”—এই জাতীয় বাক্য সারাদিনে প্রায় ১৫ বার বলে। সংসারের যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে মায়ের অনুমোদন আবশ্যক। যদি স্বামী কখনও শাশুড়িকে কিছু বলতে যায়, তাহলে “তোমার মায়ের সাথে এমন করত?” বলে ৩ দিন অভিমান করে বসে থাকে।

১১. অতিথি স্ত্রী (Guest Wife)

এই স্ত্রীরা বেশিরভাগ সময় নিজের বাপের বাড়িতে থাকে। স্বামীর বাসায় আসে সপ্তাহে একবার, তখনও ব্যাগ ভর্তি জামা-কাপড়, দুধ-ফল নিয়ে আসে। শাশুড়ির সাথে একটু মতের অমিল হলেই, “আমি এখানে আর থাকবো না” বলে পেছনে ফিরেই বাপের বাড়ি পাড়ি দেয়। এদের স্বামীরা প্রায়শই “হাফ ম্যারেড” জীবনযাপন করে।

১২. সহচরী স্ত্রী (Caring Companion Wife)

এই স্ত্রীরাই প্রকৃতার্থে জীবনসঙ্গিনী। তারা স্বামীর বন্ধু, প্রেমিকা, সহকর্মী এবং মা হয়ে ওঠে। স্বামীর দুঃখে কাঁদে, সুখে হাসে। তাদের সংসারে ঝগড়া হয়, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা কমে না। এরা স্বামীর ছোটো ছোটো অর্জনে গর্ব করে, ব্যর্থতায় সাহস দেয়। বিপদে পাশে থেকে পথ দেখায়, সফলতায় হাততালি দেয়। এদের সান্নিধ্যে জীবন হয় সত্যিই পূর্ণ।


উপসংহার

পুরুষের মতোই নারীরাও বৈচিত্র্যে ভরা। এদের মাঝে কেউ ঝড়, কেউ নদী, কেউ ধ্রুবতারা। কখনো তারা কঠিন, কখনো কোমল; কখনো রাগী, কখনো নিঃস্বার্থ প্রেমময়।

এদের মধ্যে কোন শ্রেণী ভালো বা খারাপ—তা এক কথায় বলা যায় না। কারণ, প্রত্যেকটির পেছনে লুকিয়ে থাকে আলাদা গল্প, আলাদা ব্যথা, আলাদা সমাজ বাস্তবতা। কিছু স্ত্রী হয়তো আচরণে কঠিন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কঠিনতর। আবার কেউ কেউ যত্নশীল হলেও কপালে জোটে অকৃতজ্ঞ স্বামী।

আমরা যতদিন না একজন নারী বা পুরুষের জীবন যাপন করে দেখি, ততদিন তাদের আচরণের পেছনের কারণটা পুরোপুরি বুঝি না।

তবে হ্যাঁ, এমন এক শ্রেণীর স্ত্রী ও স্বামী আজও পৃথিবীতে আছে—যাদের ভালোবাসা দেখলে মনে হয়, প্রেম সত্যিই এখনো জীবিত। তারা সংখ্যা কম, কিন্তু তারা আছে—এই বিশ্বাসটাই পৃথিবীটাকে এখনো সুন্দর করে রেখেছে।
#subhajit #subhajitmondal #amarbangla #vlog #blog #best #lifepartner

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.064
BTC 68305.90
ETH 2082.69
USDT 1.00
SBD 0.48