ফটোগ্রাফি পোস্ট- ভালো লাগা কিছু লাল গোলাপের ফটোগ্রাফি
আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি যে যেখানেই থাকেন না কেন বেশ ভালো আছেন। আমি নিজেও বেশ ভালো আছি। আর ভালো আছি বিধায় চলে আসলাম আজকে আপনাদের মাঝে পোস্ট করার জন্য। সত্যি বলতে কি এখানে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার পর হতে বেশ অন্য রকমের অনুভূতি হচেছ নিজের ভিতর। যা কাউকে বুঝানো যাবে না। আর সেই অনুভুতি নিয়েই আজ আমি নতুন একটি ব্লগ শেয়ার করার জন্য আসলাম। আমি ভাবছি প্রতি নিয়ত আপনাদের মাঝে আমার ভালো লাগার বিষয় গুলো নিয়েই ব্লগ শেয়ার করবো। যার জন্য আজ আমি ভাবছি একটি ফটোগ্রাফি ব্লগ শেয়ার করবো।
সত্যি বলতে ছেলেবেলা থেকেই সব সময় টুকটাক কিছু না কিছু ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু সেই ফটেগ্রাফি করে যে এমন করে কোথাও নিজের অনুভূতি শেয়ার করা যায় সেটা আমার জানা ছিল না। কিন্তু বেশ কিছু দিন যাবৎ যখন কাছের মানুষটিকে এমন করে শেয়ার করতে দেখছি তখন ভাবছিলাম যে আমিও এখানে আমার প্রিয় কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করবো। আর আজ আমার সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি সত্যি বেশ আনন্দিত। হয়তো আপনাদের কাছে আমার ফটোগ্রাফি ভালো লাগবে।

সুযোগ পেলেই আমি কোথাও না কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। নতুন জায়গায় গেলে মনটা এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে যায়। চারপাশের প্রকৃতি, পাখির ডাক, গাছের সবুজ রঙ আর বাতাসের মৃদু স্পর্শ—সবকিছু যেন মন ছুঁয়ে যায়। একদিন এমনই এক বিকেলে হঠাৎ ইচ্ছে হলো আমাদের বাসার পাশের একটি ফুলের নার্সারিতে যাই। অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আর সময় হচ্ছিল না। অবশেষে এক বিকেলে ঠিক করলাম, আজ যাওয়া হবেই। হাতে নিলাম মোবাইল, মন ভরিয়ে নিলাম আগ্রহে আর পা বাড়ালাম সেই নার্সারির দিকে।

নার্সারিতে ঢুকতেই মনে হলো আমি যেন রঙের এক জগতে পা রেখেছি। চারপাশে যতদূর চোখ যায়, সাজানো টবভর্তি ফুলের সমারোহ। লাল, গোলাপি, হলুদ, সাদা—সব রঙ মিলেমিশে যেন এক রঙিন স্বপ্ন তৈরি করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লো লাল গোলাপ। আমার আবার লাল গোলাপ বেশ প্রিয়। গোলাপ দেখলে কেন জানি মনের মাঝে প্রেম প্রেম জাগে। তাই গোলাপ দেখলেই একটু হাতে নিতে মনে চায়।

সেদিন ফুলের সে বাগানে অনেক রকমের ফুল ছিল। কোথাও ছিল ডালিয়া, কোথাও ছিল জবা, আর কোথাও বা ছিল হলুদ গেন্ধা ফুলের সমারোহ। কিন্তু যতই দেখছিলাম, মন বারবার ফিরে যাচ্ছিলো সেই লাল গোলাপের দিকে। গোলাপের একটা আলাদা জাদু আছে। তারা ভালোবাসার প্রতীক, তারা আনন্দের প্রতীক, আবার তারা শান্তির প্রতীকও বটে।

আমি ধীরে ধীরে মোবাইল বের করে ছবি তুলতে শুরু করলাম। বিকেলের নরম আলো ফুলগুলোকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল। একটার পর একটা ছবি তুলতে তুলতে বুঝতে পারছিলাম, শুধু ছবি নয়, আমি প্রকৃতির সৌন্দর্যকেই ধরে রাখছি মোবাইল ক্যামেরায়। যদিও সেদিন বিকেল হয়ে গিয়েছিল তবুও কিছু ফুলের ওপর রোদ পড়ছিল। এমন মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় বন্দী করার আনন্দটাই আলাদা।

একসময় হাঁটতে হাঁটতে আমি নার্সারির ভেতর চলে গেলাম। সেখানে কিছু মানুষ ফুল কিনছিল, কেউ আবার বসে বসে ফুলের টব দেখছিল। আমি ভাবছিলাম, প্রকৃতির সঙ্গে এমন করে সময় কাটানো আসলে এক ধরনের মানসিক বিশ্রাম। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে এসে এমন একটা জায়গায় থাকা সত্যিই প্রশান্তির।ভাবতে ভাবতে গোলাপের দৃশ্য গুলোকে বন্দী করছিলাম মোবাইল ক্যামেরায়।

নার্সারির এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা হলো। তিনি হাসিমুখে জানালেন, এখানে প্রতিদিন কত মানুষ আসে গাছ কিনতে বা শুধু দেখতে। কেউ নিজের বারান্দার জন্য গোলাপ নেয়, কেউ আবার ভালোবাসার মানুষকে উপহার দিতে। তিনি বললেন, ফুলের যত্ন নিতে হয় সন্তান পালনের মতো। পানি দিতে হয় সময়মতো, আলো দিতে হয় ঠিকঠাক, পোকামাকড় দূর করতে হয় ভালোভাবে। তার কথা শুনে বুঝলাম, এই সুন্দর গোলাপগুলোর পেছনে কতটা পরিশ্রম আর ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। হয়তো সেই কারণেই তারা এত জীবন্ত, এত উজ্জ্বল।

লাল গোলাপের সেই বিকেলটা আমাকে শিখিয়েছে, প্রকৃতি কখনো ক্লান্ত হয় না আমাদের ভালোবাসা দিতে। শুধু আমরা মানুষরা ভুলে যাই, কেমন লাগে ফুলের ঘ্রাণে, রোদের কোমল আলোয়, আর নিঃশব্দ শান্তির মাঝে হারিয়ে যেতে।
জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
পরিচিতি
আমি কাউছার আহমেদ। আমার ইউজার নাম @kawsar7731। আমি পেশায় একজন চাকুরী জীবি। ঘুরে বেড়াতে আর প্রিয় মানুষের সাথে হাসি মুখে কথা বলতে আমি বেশ পছন্দ করি। তবে সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে এবং গল্প করতে। নতুন কে আবিস্কার করা এবং নতুন কে নিয়ে এগিয়ে চলতেও আমি বেশ পছন্দ করি।
.png)
