সম্পত্তি নাকি সম্পর্ক?
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজ আমি একটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি।আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার জেনারেল রাইটিংটি দেখে আসি যে কি বিষয় নিয়ে লেখলাম। হ্যাঁ বন্ধুরা আজ আমার জেনারেল রাইটিং এর বিষয় হলো "দুষ্ট লোকের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কিছু সুবিধা"

মানুষ পৃথিবীতে আসে খালি হাতে এবং একদিন খালি হাতেই চলে যায়। মাঝখানের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ অনেক কিছু অর্জনের চেষ্টা করে। কেউ অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করে, কেউ সম্মান অর্জন করে, আবার কেউ ভালোবাসা ও সম্পর্ককে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় সামান্য কিছু সম্পত্তির জন্য মানুষ নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষকেও শত্রু বানিয়ে ফেলে। বিশেষ করে ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আমাদের সমাজের একটি পরিচিত এবং বেদনাদায়ক বাস্তবতা।
একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই ভাই ছোটবেলায় একসঙ্গে বড় হয়। তারা একই ঘরে ঘুমায়, একই মাঠে খেলাধুলা করে, একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়। শৈশবের সেই সুন্দর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মা-বাবার রেখে যাওয়া কিছু জমি, বাড়ি বা সম্পদের কারণে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে। যে ভাই একসময় বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই ভাইকেই অনেক সময় প্রতিপক্ষ মনে করা হয়।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মূল কারণ সাধারণত লোভ। মানুষ যখন নিজের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি পাওয়ার চিন্তা করে, তখন তার বিবেক ও ন্যায়বোধ দুর্বল হয়ে যায়। সে ভাবতে শুরু করে কীভাবে আরও বেশি সম্পদ নিজের দখলে রাখা যায়। এই চিন্তা ধীরে ধীরে তাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে ভাইয়ের অধিকার কেড়ে নিতেও সে দ্বিধা করে না। কেউ কাগজপত্রে কারসাজি করে, কেউ ক্ষমতার প্রভাব খাটায়, আবার কেউ বিভিন্ন কৌশলে দুর্বল ভাইকে বঞ্চিত করে।
কিন্তু একটি প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছে করা উচিত—এই সাময়িক লাভের মূল্য কত? কয়েক শতাংশ জমি বেশি পাওয়ার জন্য যদি একটি সম্পর্ক চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটিকে কি সত্যিই লাভ বলা যায়? অর্থ বা সম্পদ হয়তো জীবনের কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং মানসিক শান্তি কিনে দিতে পারে না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সম্পত্তির চেয়ে সম্পর্ক অনেক বেশি মূল্যবান। কারণ সম্পদ মানুষকে ধনী করতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক মানুষকে সুখী করে। একজন ভাই যদি বিপদের সময় পাশে না থাকে, তাহলে শত কোটি টাকার মালিক হয়েও মানুষ নিজেকে অসহায় মনে করতে পারে। অন্যদিকে, একজন ভালো ভাই পাশে থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও সুন্দর জীবন কাটানো সম্ভব।
আমাদের সমাজে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা সম্পত্তির কারণে বছরের পর বছর কথা বলে না। ঈদ আসে, উৎসব আসে, পারিবারিক অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দেখা হয় না। একসময় যারা একসঙ্গে বসে খাবার খেত, তারা এখন একে অপরের মুখ পর্যন্ত দেখতে চায় না। এই দৃশ্য শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান মা-বাবা। তারা সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেন, তাদের ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ গড়ে তোলেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে সেই সম্পদই যদি সন্তানদের মধ্যে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? একজন মা কখনো চান না তার সন্তানরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাক। একজন বাবা কখনো চান না তার রেখে যাওয়া সম্পদ সম্পর্ক নষ্টের কারণ হোক।
জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো, পৃথিবীর কোনো সম্পদই স্থায়ী নয়। আজ যে জমি নিয়ে এত লড়াই, কয়েক দশক পর সেই জমির মালিক অন্য কেউ হবে। কিন্তু একজন মানুষের ভালো কাজ, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিকতা মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। তাই সাময়িক লাভের জন্য অন্যের অধিকার নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আরেকটি বিষয় হলো, অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ কখনো প্রকৃত শান্তি এনে দেয় না। বাহ্যিকভাবে একজন মানুষ সুখী দেখাতে পারে, কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে সে সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ থাকে। মানুষের কষ্টের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা সুখ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, অন্যের হক মেরে খাওয়া সম্পদ বিভিন্নভাবে জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একজন প্রকৃত মানুষ সেই, যে নিজের অধিকার বুঝে এবং অন্যের অধিকারও সম্মান করে। ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ন্যায্যতার পরিচয় দেওয়া শুধু একটি আইনি দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। কারণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায়বোধের বিকল্প নেই।
বর্তমান সময়ে আমরা প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছি, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও আমাদের উন্নতি হওয়া প্রয়োজন। পরিবার যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সমাজও শক্তিশালী হয়। আর পরিবারের শক্তি নির্ভর করে সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ওপর। সম্পত্তির লোভ সেই ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সম্পত্তিকে জীবনের লক্ষ্য না বানিয়ে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া। ন্যায্য হিস্যা মেনে নেওয়া, ভাইয়ের প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়া এবং পারিবারিক বন্ধন রক্ষা করা একজন সচেতন মানুষের পরিচয়। কয়েক হাত জমি হয়তো জীবনের কিছু সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু একজন ভাইয়ের আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থনের মূল্য তার চেয়েও অনেক বেশি।
সবশেষে বলতে চাই, সম্পত্তি মানুষের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক মানুষের শক্তি। জমি, বাড়ি, টাকা-পয়সা একদিন রেখে যেতে হবে, কিন্তু মানুষ আমাদের সম্পর্কে কী মনে রাখবে, সেটাই আসল বিষয়। যদি আমরা ভালোবাসা, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার উদাহরণ রেখে যেতে পারি, সেটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমার পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অরেনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুনি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।