শাস্তি হয় না বিধায় অন্যায় বেড়ে যাচ্ছে

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।

প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।

alexas_fotos-police-1141039_1280.jpg

Source

অন্যায়ের যদি সত্যিকারের শাস্তি হতো, তাহলে মানুষ হয়তো অন্যায় করার আগে অনেকবার ভাবত। মানুষ তখনই সীমা অতিক্রম করে, যখন সে মনে করে তার কাজের কোনো ফল তাকে ভোগ করতে হবে না। শাস্তির ভয় না থাকলে অন্যায় ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। একসময় তা সমাজে স্বাভাবিক বলে মনে হতে শুরু করে। ফলে যারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ, তারা কষ্ট পায়; আর যারা অন্যায় করে, তারা আরও সাহসী হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

শাস্তি মানে শুধু কারাগার বা জরিমানা নয়; শাস্তি মানে জবাবদিহি এবং নিজের ভুলের দায় স্বীকার করা। যদি প্রতিটি অন্যায়ের সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার হতো, তাহলে মানুষের মনে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা তৈরি হতো। মানুষ বুঝত যে তার প্রতিটি কাজের ফল আছে। এই উপলব্ধি মানুষকে সংযত করে, তাকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। কারণ মানুষ স্বভাবতই ক্ষতি এড়িয়ে চলতে চায়। যখন সে দেখে অন্যায় করলে তার সম্মান, সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তখন সে নিজের আচরণ বদলাতে বাধ্য হয়।

আজ অনেক সময় দেখা যায়, ভালো মানুষ নীরবে অন্যায় সহ্য করে যায়। তারা ভয় পায়, একা হয়ে যায়, বা বিচার পাবে না ভেবে চুপ থাকে। অন্যদিকে অন্যায়কারী অনেক সময় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, যেন কিছুই হয়নি। এতে সমাজে হতাশা জন্মায়, মানুষের মনে ক্ষোভ জমে। কিন্তু যদি নিশ্চিতভাবে অন্যায়ের শাস্তি হতো, তাহলে এই চিত্র বদলে যেত। নির্যাতিত মানুষ সাহস পেত কথা বলতে, আর অন্যায়কারী ভেবে নিত,তার কাজের পরিণতি আছে। এতে সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়ত।

তবে শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। আমাদের ভেতরে নৈতিকতা ও মানবিকতা জাগ্রত হওয়াও জরুরি। পরিবার, শিক্ষা, এবং সামাজিক মূল্যবোধ মানুষকে ছোটবেলা থেকেই শেখায় কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। যখন মানুষ নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হয়, তখন বাইরের শাস্তির প্রয়োজন কমে যায়। কারণ তখন সে নিজেই নিজের বিচারক হয়ে ওঠে।

অন্যায়ের শাস্তি হওয়া উচিত, কিন্তু সেই শাস্তি হতে হবে ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ ও মানবিক। প্রতিশোধের মানসিকতা নয়, সংশোধনের সুযোগই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। কারণ একজন মানুষ যদি তার ভুল বুঝে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারে, সেটাই সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য। যদি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে যেখানে অন্যায় করলে শাস্তি নিশ্চিত, আর ভালো কাজ করলে সম্মান নিশ্চিত,তাহলে মানুষ ধীরে ধীরে অন্যায় করা ভুলে যাবে। তখন সমাজে শান্তি, আস্থা ও মানবিকতা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.060
BTC 70322.63
ETH 2148.39
USDT 1.00
SBD 0.51